‘গুজব ছড়িয়ে’ কারাগারে পাঁচ নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০৮:৩২

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার পাঁচ নারী এখন কারাগারে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উস্কানিমূলক ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানোয় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া নারীদের মধ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও মডেল রয়েছেন। ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ৪ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে অছাত্ররাও নানাভাবে ছাত্রদের পোশাক পরে অংশগ্রহণের প্রমাণ মিলেছে। এর মধ্যে ৪ আগস্ট হঠাৎ করেই ফেসবুকে গুজব ছড়ানো হয় যে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে কয়েকজন ছাত্রকে হত্যা এবং কয়েকজনকে ধর্ষণ করা হয়েছে। কেউ কেউ এমনও দাবি করেছেন, ধর্ষণ হয়েছে প্রকাশ্যেই।

এই গুজবগুলো ছড়ানো হয়েছে ফেসবুক লাইভে এসে বা সাক্ষাৎকারের মতো করে তৈরি করে সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছেড়ে দিয়ে। দেশের পাশাপাশি বাইরে থেকেও ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে দেশবাসীকে শিক্ষার্থীদের পক্ষে নেমে আসার আহ্বান জানানো হয়।

আর এই প্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে শিক্ষার্থীরাও দলে দলে ছুটে যায় আওয়ামী লীগের ধানমন্ডির কার্যালয়ে। হামলাও হয় সেখানে। আর এই হামলায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক কর্মীরাও অংশ নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ক্ষমতাসীন দল।

তবে ওই দিন বিকালেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে এসব অপপ্রচার। ছাত্রদের দুটি প্রতিনিধি দল আওয়ামী লীগ কার্যালয় ঘুরে এসে তারাও গণমাধ্যমকে জানায় যে, এসব মিথ্যা। তবে এরপরও সামাজিক মাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হতে থাকে।

আর সরকার এই ঘটনাটিকে নিয়েছে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে। ভবিষ্যতে যেন গুজব ছড়িয়ে কেউ বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে সে জন্য একটি উদাহরণ তৈরির চেষ্টাও চলছে।

এরই মধ্যে পুলিশের মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারি জানিয়েছেন, তারা মোট ২১টি পোর্টাল চিহ্নিত করেছেন। তাদের সবাইকেই ধরবেন তিনি।

ফারিয়া মাহজাবিন ফেসবুকে যে অডিও রেকর্ডটি প্রচার করেছিলেন, সেটি প্রকাশ করে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, গুজব ছড়িয়ে দেশকে চরম বিশৃঙ্খলাব দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। আর তারাও তা ঠেকানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।

এসব গুজবের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়েছে ৫১টি। ১৬ আগস্ট পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ৯৭ জন। এরপরেও আরও বেশ কিছু গ্রেপ্তার আছে।

ব্যবসায়ী ফারিয়া মাহজাবিন: ১৬ আগস্ট রাত পৌনে ১২টায় গ্রেপ্তার হওয়া এই ব্যবসায়ী তিন দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। রাজধানীর পশ্চিম ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে ১৭ আগস্ট ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম মঈন উদ্দিন সিদ্দিকীর আদালতে তাকে হাজির করা হয়। ফারিয়া কম্পিউটার সায়েন্সে লেখাপড়া করেছেন নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে। তিনি ধানমণ্ডি এলাকার একটি কফিশপের মালিক।

ইডেন ছাত্রী লুৎফন নাহার লুমা: এই তরুণী কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলনকারী বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি ইডেন কলেজে পড়েন।

লুমাকে গত ১৫ আগস্ট ভোরে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার বড়ধুল ইউনিয়নের ক্ষিপ্রচাপড়ি গ্রামের দাদাবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এসময় রাজধানীর রমনা থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম কাজী কামরুল ইসলাম তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

স্কুল শিক্ষিকা সোনিয়া: ৫ আগস্ট পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নুসরাত জাহান সোনিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয় কলাপাড়া থেকে। তিনি উপজেলার দক্ষিণ টিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। তার বিরুদ্ধেও তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করা হয়েছে।

বিএনপি নেত্রী ফাতেমা বাদশা: ৩ আগস্ট শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানার সুপারিওয়ালা পাড়া থেকে আটক করা হয়। ফাতেমা বাদশা চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি।

অভিনেত্রী কাজী নওশাবা: ফেসবুক লাইভে ছাত্র মৃত্যুর গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ৪ আগস্ট রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে নওশাবাকে আটক করে র‌্যাব। তাকে এ নিয়ে দুই দফা রিমান্ডে নেয়া হয়। অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও স্লোগান-৭১ নামের সংগঠনের নেত্রী তাসনিম আফরোজ ইমিকে ১৪ আগস্ট রাতে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

ঢাকাটাইমস/১৯আগস্ট/ডিএম/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত