ওয়েল ডান গার্লস, মন খারাপের কিছু নেই

শেখ আদনান ফাহাদ
| আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৮, ১৫:২৭ | প্রকাশিত : ১৯ আগস্ট ২০১৮, ১৪:৫৮

কিশোরী ফুটবলারদের সাউথ এশিয়ান লেভেলে গতবার ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। এবার ছিল শিরোপা ধরে রাখার মিশন। ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের অদম্য কিশোরীদের।

নিশ্চয় অনেক কষ্ট পেয়েছে ছোট ছোট মেয়েগুলো। কিন্তু সোনার মেয়েদের মন খারাপের কিছু নেই। তোমরা যা করে দেখাচ্ছ, সেটি জাতি হিসেবে আমাদের মাথা উঁচু করে দিচ্ছে বহির্বিশ্বে। পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠন যে কতখানি যৌক্তিক সেটি প্রতি মুহূর্তেই আমরা অনুধাবন করছি। আমাদের মেয়েরাও আমাদের সেই সুখানুভূতি দিয়ে যাচ্ছে। এবার সাফ টুর্নামেন্টে পাকিস্তানকে ১৪-০ গোলে হারিয়েছে বাংলদেশের মেয়েরা। শুধু ফুটবল কেন, ক্রিকেট খেলায়ও বাংলাদেশের কাছে নিয়মিত পরাজিত হয় পাকিস্তান। আর অর্থনীতির নানা সূচকে পাকিস্তান এখন বাংলাদেশের অনেক পেছনে।

মেয়েরা তোমরা দেশে ফিরে ভারতের সাথে এবারের ফাইনালের ভিডিওটা বারবার দেখবে। নিজেরাই বুঝতে পারবে, কোথায় ভুল হয়েছিল। বড় ম্যাচে গোল মিস করলে এর খেসারত দিতে হবে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ তোমাদেরকে বারবার সুযোগ দিবে না। এক/দুবার সুযোগ পেলেই কাজে লাগানোর অভ্যাস করতে হবে।

যাইহোক, ভারতের মেয়েদের তুলনায় তোমরা যে পিছিয়ে নও, সেটি তো তোমরা গতবারই ভারতকে হারিয়ে দেখিয়ে দিয়েছ। ক্রিকেটে যে বড় মেয়েরা ভারতকে হারিয়ে এখন এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন, সেটি তোমরা নিশ্চয় ভুলে যাওনি। এবারের সাফ ফাইনালে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরাজয় নিয়ে মুষড়ে পড়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। সামনে তোমাদের বিশ্ব জেতার হাতছানি। আগামীবার নিশ্চয় তোমরা সাফ শিরোপা ফিরে পাবে। কিন্তু তোমাদের তো শুধু সাফে আটকে থাকলে হবে না। ইতোমধ্যে তোমরা প্রমাণ করেছ যে, বিশ্ব ফুটবলের টপ লেভেলে যাওয়ার মত প্রতিভা তোমাদের আছে। এখন দরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে ভালো কোচিং স্টাফের অধীনে নিয়মিত কঠিন প্রশিক্ষণ নেয়া।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের দায়িত্ব হল, মেয়েদের বিশ্বের নানা প্রান্তের নানা টুর্নামেন্টে নিয়মিত অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করে দেয়া। নিজেদের চেয়ে ভালো ফুটবল খেলে এমন মেয়েদের সাথে নিয়মিত প্রতিযোগিতায় নামতে হবে। এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে আমরা দেখেছি আমাদের মেয়ে খেলোয়াড়রা ভারত তো বটেই, ইরান-জর্ডানকেও ছেড়ে কথা বলে না। কোনো একটি ম্যাচে দেখেছিলাম, অস্ট্রেলিয়ার সাথে পাল্লা দিচ্ছে আমাদের মেয়েরা।

ফুটবল ও ক্রিকেটসহ সব খেলায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। এতে একদিকে খেলাধুলায় নতুন নতুন প্রতিভার আগমন ঘটবে, অন্যদিকে সমাজে মৌলবাদী গোষ্ঠীর পরাজয় তরান্বিত হবে। নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া একটি সমাজ টিকে থাকতে পারে না। ফুটবল ও ক্রিকেটে সামান্য কয়েকজন মেয়ের অংশগ্রহণে যে পরিমাণ সাফল্য এসেছে, তাতে রাষ্ট্রকে অনেক আশাবাদী এবং উদ্যোগী হতেই হবে। কয়েকটি গ্রাম বা শহর নয়, পুরো বাংলাদেশে যেন মেয়েদের খেলাধুলা নিয়ে যেন উন্মাদনা সৃষ্টি হয়। বর্তমান মেয়ে খেলোয়াড়রা যদি খেলাধুলায় ক্যারিয়ার গড়ে  অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করতে পারে, তাহলে দেশবাসী দেখবে মেয়েদের খেলাধুলায় উজ্জ্বল সম্ভাবনা, তখন পুরো দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হবে।

কদিন আগে ভারতকে এশিয়া কাপে দুইবার হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা। বাংলাদেশের মেয়েরা সুযোগ পেলে যে বিশ্ব জয় করতে পারে, এই বিজয় তার প্রমাণ। কিন্তু বাস্তবতা হল, ভারতের শীর্ষ কয়েকজন নারী ক্রিকেটার মাসে প্রায় লাখ রূপী কামাই করে ক্রিকেট বোর্ডের দেয়া বেতন থেকে । সেখানে আমাদের শীর্ষ নারী ক্রিকেটারদের সবচেয়ে বেশি যে বেতন পায়, তার আয় মাসে ৩০,০০০ টাকা। সরকারকে ভাবতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি প্রগতিশীল বাংলাদেশ স্থাপন করতে হলে, খেলাধুলায় মেয়েদের সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে। ধর্মীয় গোঁড়ামি আর ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকলে সমাজ প্রগতিশীল হয় না।

লেখক: শিক্ষক ও সাংবাদিক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত