পদ্মার ভাঙনে উৎকণ্ঠায় ইউরোপ প্রবাসীরা

কমরেড খোন্দকার, ইউরোপ ব্যুরো
 | প্রকাশিত : ২০ আগস্ট ২০১৮, ১১:৩১

শরীয়তপুরে পদ্মার ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে একের পর এক স্থাপনা। ফসলি জমি, বসতবাড়ির সাথে রক্ষা পাচ্ছে না সরকারি ভবনও। গত কয়েক দিনের অব্যাহত ভাঙনে আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন মানুষ। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে নড়িয়া উপজেলার অস্তিত্ব থাকবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা জানিয়েছেন ইউরোপ প্রবাসী শরীয়তপুরবাসী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও প্রতিবাদী হয়ে উঠেছেন শরীয়তপুরবাসী। দলমত নির্বিশেষে সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন নড়িয়াকে বাঁচাতে।

নড়িয়ার খালেদ মিনহাজ (সাধারণ সম্পাদক, যুবলীগ-বেলজিয়াম শাখা) তার ফেসবুকে লেখেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমাদের স্বপ্ন দেখানো পদ্মা সেতুই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের জন্য। দিন দিন নদী যেভাবে ভাঙছে, তাতে মনে হচ্ছে- শরিয়তপুর-২ আসন আর থাকবে না। যাক আসনের কথা বাদ, আগে নিজের ঘর বাঁচানোর কথায় আসি। আমার ব্যক্তিগত মতামত পদ্মা সেতুর পিলার স্থাপনের কারণে পানি বাধাপ্রাপ্ত হয়ে গতি পথ পরিবর্তনের ফলেই আজ আমরা এমন দুর্দশার শিকার হচ্ছি। যদি ঠিকভাবে নদী শাসন করে যেখানে নদীর স্রোতের প্রভাব পড়তে পারে সেই জায়গাগুলোকে বাঁধ দিয়ে তার পরেই সেতুর কাজ শুরু করা উচিত ছিল। এখনও সময় আছে নরিয়া-শখিপুরের অস্তিত্ব রক্ষায় এমপি প্রার্থীরা এগিয়ে  আসুন। তা নাহলে সীমানা নির্ধারণী মামলা দিয়ে আপনাদের নির্বাচন স্থগিত করা হবে।

ফারুক খালাশী (আইনবিষয়ক সম্পাদক, ইতালি আ’লীগ) তার ফেসবুকে লেখেন, ‘গরিবের আনন্দ ভরা সোনার সংসার, স্বপ্নের মতো গ্রাস করে নিচ্ছে ক্ষুধার্ত পদ্মা। পদ্মা সেতুই অভিশাপ, পদ্মা সেতুই নড়িয়া-জাজিরা-সুরেশ্বর-চন্ডীপুরবাসীর মারণ ফাঁদ। একটি দুঃস্বপ্নের নাম পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতু প্রকল্পের সময়ে সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকে বলা হয়েছিল, এখানে পিলার হলে  আগে বেড়িবাঁধের প্রয়োজন। যদি বেড়িবাঁধ না করা হয়- এ অঞ্চল নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। আপনার মত পদ্মা সেতু আমরাও চাই। তবে কেন বেড়িবাঁধ না করে পদ্মা সেতু করা হলো?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নড়িয়াবাসী ভালোবেসে ভোট দিয়েছে আপনাকে। নড়িয়ার জনগণ আপনার সাথেই আছে এবং থাকবে, কিন্তু মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে নড়িয়া থানা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিনয়ের সাথে বলতে চাই, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে নড়িয়ায় বেড়িবাঁধের ব্যবস্থা করুন। আপনি চাইলেই- তা সম্ভব। আমাকে ক্ষমা করবেন, ক্ষমা করবেন, ক্ষমা করবেন ক্ষত-বিক্ষত বুকের জমানো কষ্ট থেকেই  কথাগুলো বললাম।’

মান্নান মাতবর মঞ্জু (প্রচার সম্পাদক, ইতালি আ’লীগ) তার ফেসবুকে লেখেন, ‘আজ মনটা অনেক খারাপ। তাই কিছু না লিখে পারলাম না। ইতালি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম দেওয়ানের কান্না দেখে মনটা আরও বেশি খারাব লাগছে। হাজী শরীয়তউল্লার শরিয়তপুর, আব্দুর রাজ্জাকের শরিয়তপুর। আর এখন কাদের এই শরিয়তপুর? কারাই বা এই শরিয়তপুরের নেতা? ৪০ বছর ধরে এক চেটিয়া এমপি হলেন, ডেপুটি স্পিকার হলেন, প্রভাবশালী একজন সাংগঠনিক সম্পাদকও আছেন।কিন্তু নড়িয়ার মানুষ কি পেলো? কি করলেন এরা জনসাধারনের জন্য? কতটুকু ক্ষমতাই বা আছে আপনাদের? হ্যাঁ, আছে। তবে জনগণের ক্ষতি করার..! নদী ভাঙন, আর ভিটাহীন হলো হাজার হাজার মানুষ। আসেন দেখেন শরিয়তপুর জন-সাধারণের কান্না -আহাজারি। আপনারা একটাবারও পারলেন না- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে বলতে! বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শরিয়তপুর..!!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি হয়ত এই লেখা দেখবেন না, তবে দেখবে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগের  অনেক বড় বড় নেতা। সেই নেতাদের মাধ্যমে আপনাকে বলতে চাই- আপনার শরীয়তপুরকে আপনি বাঁচান। নড়িয়া-জাজিরার মানুষ আজ রোহিঙ্গার মত ভিটা বাড়ি হারিয়ে আশ্রয় খুঁজে বেরাচ্ছে।’

খালেদ মিনহাজ, ফারুক খালাশী এবং মান্নান মাতবর মঞ্জুর মত হাজার হাজার ইউরোপ প্রবাসী শরীয়তপুরবাসী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নড়িয়া-জাজিরা-সুরেশ্বর-চন্ডীপুরকে পদ্মার হাত থেকে বাঁচাতে সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন।

(ঢাকাটাইমস/২০আগস্ট/ব্যুরো প্রধান/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

প্রবাসের খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত