ঘরমুখো মানুষের ‘আসল ভিড়’ দেখছে কমলাপুর

এম গোলাম মোস্তফা, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৮, ১২:৩৫ | প্রকাশিত : ২০ আগস্ট ২০১৮, ১২:১৩

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল আজহা। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরমুখো যাত্রীদের গন্তব্য এখন শেকড়ে। মানুষের ভিড়ে পা ফেলানোর জায়গা নেই কমলাপুর রেল স্টেশনে। স্রোতের মতো মানুষ এখন ছুটছে কমলাপুরের দিকে। যেসব ট্রেন স্টেশন ছেড়ে যাচ্ছে সেগুলোর প্রতিটি ছিল যাত্রীতে ঠাসা। মহাসড়কে যানজট এড়াতে যাত্রার জন্য বহু মানুষ ট্রেনকে বেছে নেয়ায় এই ভিড় হয়েছে।

গত ১১ আগস্ট যারা টিকিট নিয়েছেন তারাই যাচ্ছে আজ। আজকের জন্য অগ্রিম টিকিটের দীর্ঘলাইন দেখে আগে থেকেই ধারণা করা হয়েছিল আজকের ঈদযাত্রায় সর্বোচ্চ ভিড় হবে কমলাপুরে।

সোমবার সকাল থেকেই ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে কমলাপুর স্টেশনে। প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো ট্রেনগুলো কানায় কানায় পূর্ণ, ফাঁকা নেই ট্রেনের ছাদেও। কাঙ্খিত ট্রেনের অপেক্ষায় প্ল্যাটফর্মে বসে আছেন অসংখ্য যাত্রী। তবে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোতে। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়, যাত্রীর অতিরিক্ত চাপ, ট্রেনের বিলম্বের ভোগান্তি মেনে নিয়েই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শেকড়ের টানে বাড়ি যাচ্ছে মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই প্রায় অধিকাংশ ট্রেন বিলম্বে স্টেশন ছেড়ে যায়। ট্রেনের সিডিউল ভেঙে পড়ায় কোনো ট্রেনই সঠিক সময়ে স্টেশন ছেড়ে যাচ্ছে না। প্রতিটি ট্রেন দেড় দুই ঘণ্টা দেরিতে ছেড়ে যাচ্ছে কমলাপুর স্টেশন।

সকাল ছয়টায় রাজশাহীগামী ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনটি কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ৮টা ৫০ মিনিটে ট্রেনটি স্টেশনে এসে পৌঁছায়। পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা বিলম্ব করে ৯টা ২৫ মিনিটে ট্রেনটি ছেড়ে যায়।

এছাড়া চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল আটটাতেও এসে পৌঁছায়নি। ট্রেনটির সম্ভাব্য ছেড়ে যাওয়ার সময় স্ক্রিনে দেয়া হয়েছে ১০টা ৪০ মিনিট। রংপুর এক্সপ্রেস সকাল নয়টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেই ট্রেন তখনও এসে পৌঁছায়নি। স্টেশনে বড় স্ক্রিনে ট্রেনটি ছাড়ার সম্ভাব্য সময় দেয়া আছে ১১টা ৪৫ মিনিট।

অন্যদিকে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস সকাল সাড়ে আটটায় ছাড়ার কথা থাকলেও ৯টা ১০ মিনিটেও ছেড়ে যায়নি। ঈদ স্পেশাল লালমনি এক্সপ্রেস সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ট্রেনটি সঠিক সময়ে কমলাপুরে এসে পৌঁছাতে পারেনি।

স্টেশন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল থেকেই প্রায় ট্রেনই বিলম্বে ছেড়ে গেছে।

রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী মৌমিতা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমাদের ট্রেন সকাল নয়টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলে সেটি সাড়ে দশটায় স্টেশন এসে পৌঁছায়নি। ঈদযাত্রা এমনিতেই ভোগান্তির, সেইসঙ্গে যদি একটি ট্রেন দুই তিন ঘণ্টা লেট হয় তাহলে এটা কীভাবে মেনে নেয়া যায়?

ধু্মকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রী সুমন ঢাকাটাইমসকে বলেন, আজ প্রতিটি ট্রেনের ভেতরে-ছাদে কোথাও পা ফেলার জায়গা নেই। ১৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আজকের টিকিট সংগ্রহের পরও অনেকে নিজের আসন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছেন না। মানুষ ট্রেনের জানালা দিয়েও ভেতরে ঢুকছে। সব মিলিয়ে ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তির যেন শেষ নেই।

দিনাজপুরগামী একতা এক্সপ্রেসের যাত্রী ইব্রাহীম ঢাকাটাইমসকে বলেন,   সকাল থেকে প্রতিটি দেরিতেই ছেড়ে গেছে। আমাদের ট্রেন এখনও স্টেশনেই আসে নাই। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদের ট্রেনযাত্রায় এসে যদি ট্রেন তিন ঘণ্টা বিলম্ব হয়, তাহলে এটা কীভাবে মেনে নেয়া যায়। সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবেই যাত্রীদের এমন ভোগান্তি পোহাতে হয় প্রতিবারই।

ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়ের কারন জানতে চাইলে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ট্রেনগুলো দেরিতে কমলাপুর স্টেশনে আসার কারণে ছেড়ে যেতে কিছুটা কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

সীতাংশু বলেন, আজ সকাল থেকেই যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় স্টেশনে। যাত্রী চাপের কথা মাথায় রেখে প্রায় প্রতিটি ট্রেনেই অতিরিক্ত বগি যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ঈদের সময় যাত্রীর চাপ থাকায় ট্রেনে ধীরগতি থাকে, আবার সব স্টেশনেই কিছু সময় দাঁড়াতে হয় যাত্রী উঠানো-নামানোর জন্য। সে কারণেও বিলম্ব হয়।

ঢাকাটাইমস/১৯আগস্ট/জিএম/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত