সড়কে যানজট, ট্রেনে সময় বিপর্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৮:০২ | প্রকাশিত : ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৪:০১

কাল বাদে পরশু পবিত্র ঈদুল আজহা। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শেষ মুহূর্তে রাজধানী ছাড়ছেন অগণিত মানুষ। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ঢাকা ছাড়ছে প্রায় সবকটি বাস, ট্রেন ও লঞ্চ। আর বাড়ি ফিরতে গিয়ে ট্রেন ও বাসে শিডিউল বিপর্যয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।

ঈদযাত্রার চতুর্থ দিনেও শিডিউল বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারেনি রেলপথে বিভিন্ন ট্রেন। অন্যদিকে মহাসড়কে গাড়ির ধীরগতির পাশাপাশি দেশের প্রধান দুই নৌরুটে রয়েছে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ। একই সঙ্গে নৌপথ ওয়ানওয়ে হয়ে পড়ায় ফেরি পারাপারে বাড়তি সময় লাগছে। এতে ঘাটের দুইপাশে আটকা পড়েছে কয়েকশ যানবাহন। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ।

সোমবার সকাল থেকে রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। অনেকে ঝুঁকি নিয়েই ট্রেনের ছাদে করে যাচ্ছেন ফিরছেন স্ব-স্ব গন্তব্যে। তবে শিডিউল বিপর্যয়ে নির্ধারিত সময়ের চেয়েও দুই-তিন ঘণ্টা স্টেশনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। সবচেয়ে বেশি ভিড় উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোতে।

সকাল থেকে রাজশাহীগামী ধুমকেতু, খুলনাগামী সুন্দরবন, চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেসসহ প্রায় ট্রেন কমলাপুর থেকে নির্ধারিত সময়েরও প্রায় দুই-তিন ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে। সোমবার সারাদিনে কমলাপুর থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ৬৮টি ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ট্রেনগুলো দেরিতে কমলাপুর স্টেশনে আসার কারণে ছেড়ে যেতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এছাড়া ঈদের সময় যাত্রীর চাপ থাকায় ট্রেনে ধীরগতি থাকে, সেটাও বিলম্বের কারণ বলে জানান তিনি।

দেড়-দুই ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ছে বাস

ট্রেনের মতো প্রায় প্রতিটি বাসের যাত্রীরাও পড়েছেন শিডিউল বিপর্যয়ের কবলে। সকাল থেকে নগরীর বাস টার্মিনালগুলোতেও ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়। মহাসড়কেও যানবাহনের বাড়তি চাপ।

ফলে আগে আগাম টিকিট কেটে রাখলেও কাউন্টারে বাস না থাকায় নির্ধারিত সময়ের দেড়-দুই ঘণ্টা পর ছাড়ছে বাস। এজন্য যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা করতে হচ্ছে টার্মিনালে। এছাড়া বাসে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

যাত্রীরা জানান, প্রায় প্রতিটি বাস আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা দেরি করে ছাড়া হচ্ছে। আর এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও নারীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন বেশি।

তবে গাবতলীর বিভিন্ন বাস কোম্পানির কাউন্টার ব্যবস্থাপকরা সড়কে গাড়ির বাড়তি চাপ থাকায় গাড়ি ছাড়তে দেরি হচ্ছে বলে জানান। তারা বলছেন, গাড়ি টার্মিনালে পৌঁছামাত্রই ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঢাকার ভিতরে চলাচলকারী বিভিন্নি সিটিং সার্ভিস গাড়িগুলো গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ঢোকার কারণে কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ঈদযাত্রায় বিভিন্ন জায়গায় গাড়ি থামিয়ে যাত্রীদের কাছে নির্ধারিত ভাড়া নেয়া হচ্ছে কিনা সেটা মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।

ফেরিঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে থেমে থেমে চলছে গাড়ি। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি ও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটে দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি।

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ১৭টি ফেরি চলাচল করলেও লঞ্চ ও স্পিডবোডে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে এক কিলোমিটার নৌপথ ওয়ানওয়ে হয়ে পড়ায় ফেরি পারাপারে দীর্ঘ সময় লাগছে। ফলে লঞ্চ ও স্পিডবোডে এই সুযোগে বাড়ি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।

অন্যদিকে অন্যতম নৌরুট দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটেও সকাল থেকে যানবাহনের বাড়তি চাপ রয়েছে। ঘাটের দুই পাড়ে অপেক্ষায় রয়েছে কয়েকশ যানবাহন।

ঢাকাটাইমস/২০আগস্ট/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত