বরখাস্ত ডিবি পুলিশের এএসআই ১০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৭:০৪

নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বরখাস্ত এএসআই সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১ সদস্যরা।  তার কাছ থেকে ১০ হাজার ইয়াবা ও মাদক বিক্রির ২ লাখ ৮৩ হাজার ৩৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়।  মাদক বহনের কাজে ব্যবহৃত সালাউদ্দিনের একটি সাদা রঙের ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার ও গাড়িতে থাকা ডিবি পুলিশের একটি জ্যাকেট জব্দ করে র‍্যাব।

সোমবার ভোর ৪টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মৌচাক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে গত ২৩ জুলাই এএসআই সালাউদ্দিনের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে পাঁচ হাজার ৬২০ ইয়াবা ও মাদক বিক্রির  ৯ লাখ ৪০০ টাকা উদ্ধার করলেও তখন পালিয়ে যায় সালাউদ্দিন।

দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীনগর এলাকায় র‌্যাব ১১’র সদর দপ্তরে ভারপ্রাপ্ত সিও মেজর আশিক বিল্লাহ সংবাদ সম্মেলনে জানান, সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তারের জন্য র‌্যাব বেশ কিছুদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।

তিনি আরো জানান, টেকনাফ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান গ্রহণ করতে সালাউদ্দিন সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় অবস্থান করছে, এমন সংবাদে র‌্যাব ভোরে সেখানে অভিযান চালায় এবং ইয়াবা ও ইয়াবার বিক্রির টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। এছাড়াও তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ডিবি পুলিশের আইডি কার্ড, ভিজিটিং কার্ডসহ আরো কিছু অবৈধ দ্রব্যসামগ্রী। তার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে আরো দুইটি মাদকের মামলা রয়েছে। ডিবি পুলিশ থেকে বরখাস্ত হওয়ার পরও সালাউদ্দিন নিজেকে ডিবির এএসআই পরিচয় দিয়ে মাদক ব্যবসাসহ আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।

তিনি জানান, এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলাসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

এর আগে গত ২৩ জুলাই র‌্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল এএসআই সালাউদ্দিনের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ৫ হাজার ৬২০ ইয়াবা ও মাদক বিক্রির  ৯ লাখ ৪০০ টাকা উদ্ধার করে। এ সময়  সালাউদ্দিন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তার সহযোগী সুমনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে র‌্যাব চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়ে অভিযান চালায় ও সালাউদ্দিনের উপর নজরদারিসহ তাকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রাখে। গ্রেপ্তার সুমনের তথ্যনুসারে র‌্যাব ওই দিনই সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কদমতলী এলাকায় ফ্রেন্ডস টাওয়ার ও সদর থানার নগরখানপুর এলাকায় ডিবির বরখাস্ত এএসআই সালাউদ্দিনের দুইটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ওই ৫ হাজার ৬২০ ইয়াবা ও মাদক বিক্রির  ৯ লাখ ৪০০ টাকা উদ্ধার করে।

এদিকে মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে প্রায় আট মাস আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) থেকে বরখাস্ত হন এএসআই সালাউদ্দিন। এরপর থেকে সালাউদ্দিন পলাতক ছিলেন। পলাতক হলেও তিনি এখনো নারায়ণগঞ্জ ডিবির অফিসার পরিচয় দিয়ে সবখানে চলে। স্থানীয় লোকজন তাকে সালাউদ্দিন স্যার ও ডিবি স্যার হিসেবে চিনে।

ইতোমধ্যে তিনি মাদক ব্যবসা করে প্রচুর অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছেন। নিজ মালিকানাধীন তিনটা প্রাইভেটকার রয়েছে, যেগুলো ইয়াবা পরিবহন ও সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হয়। জাসিম, ওসমান ও বাহাদুর নামে তিনজন ব্যক্তিগত ড্রাইভারও আছে। নারায়ণগঞ্জ শহরে রয়েছে ‘জেন্টস পার্লার’ নামক বিউটি পার্লার। মাদক ব্যবসার আর্থিক হিসাব দেখাশোনার জন্য রয়েছে ব্যক্তিগত সহকারী। গ্রেপ্তার সুমন বেতনভোগী কর্মচারী হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত সালাউদ্দিনের ব্যক্তিগত সহকারীর দায়িত্ব পালন করে আসছে। জসিম, ওসমান ও বাহাদুর প্রাইভেটকারে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন মাদক স্পটে নিয়মিত ইয়াবা পৌঁছে দেয়। ইয়াবা কারবারিদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে সুমন সালাউদ্দিনের নির্দেশ মতে ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং ও এসএ পরিবহনের মাধ্যমে কক্সবাজারের ইয়াবা সরবরাহকারীদের কাছে নিয়মিত টাকা পাঠিয়ে থাকে।

ওই সময় র‌্যাব জানায়, বরখাস্ত এএসআই সালাউদ্দিন পুলিশের ডিউটির ধরন, মাদকবিরোধী অভিযানের পদ্ধতিসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কর্মকৌশল সম্পর্কে ধারণা থাকায় সে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে সহজেই মাদক ব্যবসা করে যাচ্ছে।

(ঢাকাটাইমস/২০আগস্ট/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত