কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়ায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৮:০০

মাত্র একদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। ইতোমধ্যেই রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। সোমবার লঞ্চ, স্পিডবোট ও ফেরিতে বোঝাই হয়ে ফিরতে দেখা গেছে যাত্রীদের। ফলে শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ঘাটে নেমেছে যাত্রীদের ঢল। তবে ঘরে ফিরতে পথে পথে যাত্রীদের গুণতে হচ্ছে দ্বিগুন ভাড়া। এই বাড়তি ভাড়ার চাপ মাথায় নিয়েই গন্তব্যের গাড়িতে নিজের জায়গা করে নিতে পারার প্রতিযোগিতা চলছে যাত্রীদের মাঝে।

শিমুলিয়া ঘাট থেকে লঞ্চ ও স্পিডবোটে বাড়তি ভাড়া দিয়ে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে এসে নেমে গন্তব্যের পরিবহনের উঠতে আবারো গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে দূরপাল্লার পরিবহনগুলো স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে খুলনা, গোপালগঞ্জ, নড়াইল, ভাটিয়াপাড়া, টেকেরহাট, বরিশাল, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন স্থানের পরিবহনেই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যেতে হচ্ছে।

সরেজমিনে কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে বরিশাল পর্যন্ত পরিবহনগুলো নিচ্ছে ৪শ থেকে সাড়ে ৪শ টাকা, খুলনা সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ, গোপালগঞ্জ ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ টাকা, ভাটিয়াপাড়া আড়াইশত টাকা। দূরপাল্লার পরিবহন ছাড়াও লোকাল পরিবহনেও বেড়েছে ভাড়ার পরিমাণ। কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে মালিগ্রাম ও ভাঙ্গা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে ১শ টাকা।

এদিকে কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে বরিশাল, খুলনা, নড়াইলসহ বিভিন্ন স্থানের মাইক্রোবাসেও দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে পরিবহনের সাথে জড়িত একাধিক ব্যক্তিরা জানান, কাঁঠালাবাড়ী ঘাট থেকেই শুধু যাত্রী নিয়ে খুলনা, বরিশাল, গোপালগঞ্জ বা বিভিন্ন স্থানে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ফিরতে এই ঈদ মৌসুমে কোন যাত্রী পাওয়া যায় না। পরিবহনগুলো যাত্রী নামিয়ে দিয়ে খালি ফিরে আসতে হয়। ফলে ফিরে আসার খরচও উঠে না। এ কারণে ঈদের সময় ভাড়া একটু বেশি নেয়া হয়।

বরিশালের যাত্রী মনির বলেন, শিমুলিয়া ঘাট থেকে স্পিডবোটে ২শ টাকা নিয়েছে। যেখানে ভাড়া দেড়শ টাকা। সেই সাথে বড় কোন ব্যাগ থাকলে তারও ভাড়া দাবি করছে চালকেরা। এখন কাঁঠালবাড়ী ঘাটে এসেও পরিবহনে ডাবল ভাড়া! কোনভাবেই কিছু কম নিচ্ছে না।

ভাঙ্গাগামী যাত্রী রহুল আমিন বলেন, ষাট টাকার ভাড়া ১শ টাকা দিতে হচ্ছে। লঞ্চেও পঁয়ত্রিশ টাকার ভাড়া চল্লিশ টাকা দিয়ে এসেছি। ঈদ আসলেই ঘাটে নৌযান ও পরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের উৎসব চলে। আমাদের এসবের ভোগান্তি নিয়েই ঘরে ফিরতে হয়।

বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ী ঘাট সূত্রে জানা গেছে, কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে যাত্রীদের চাপ মোকাবিলায় ৮৬টি লঞ্চ ও দুই শতাধিক স্পিডবোট রয়েছে। গত ১০ দিন নাব্য সংকটে ফেরি চলাচল ব্যহত হলেও শনিবার দুপুর থেকে ফেরি চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক। লঞ্চ, স্পিডবোট ও ফেরিতে করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ফিরছে সাধারণ মানুষেরা।

শিবচর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কাঁঠালবাড়ী ঘাটে যাত্রীদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে পুলিশ, র‌্যাব, ফায়ার সার্ভিস,  আনসার, ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক টিমসহ অসংখ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সারাক্ষণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছে। নৌরুটের পদ্মানদীতেও র‌্যাব ও নৌপুলিশের টহল রয়েছে।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান আহমেদ জানান, যাত্রীরা যেন কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারে সে জন্য প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা রয়েছে।

বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে তিনি জানান, অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগ পেলে অবশ্যই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(ঢাকাটাইমস/২০আগস্ট/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত