শতভাগ কারখানায় বেতন হয়েছে, দাবি বিজিএমইএর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৯:০২ | প্রকাশিত : ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৪০

বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটলেও ঈদুল আজহার আগে শতভাগ কারখানায় বেতন-বোনাস দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজিএমইএ।

সোমবার বিকালে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পোশাক শিল্পখাতের শ্রম পরিস্থিতির বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন সংগঠনের প্রথম সহ সভাপতি সভাপতি মইনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সংগঠনটির কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মইনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু বলেন, জুলাই মাসের বেতনভাতাসহ শতভাগ কারখানায় বোনাস দেয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, মালিক শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতার ভিত্তিতে অধিকাংশ কারখানায় আগস্ট মাসের অগ্রীম ১০ থেকে ১৫ দিনের বেতনও পরিশোধ করা হয়েছে।

তবে গত শুক্রবার (১৭ আগস্ট) বেতন বোনাসের দাবিতে গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটি ছয় ঘণ্টারও বেশি যান চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিজিএমইএর এ নেতা আরো বলেন, ‘এখ‌ন পর্যন্ত ঈদের ছুটি প্রদান করা হয়েছে ৯০ শতাংশ কারখানায়। আজকের মধ্যে অবশিষ্ট কারখানাগুলোতে ছুটি প্রদান করা হবে।’

এ সময় সাংবাদিকের এক প্রশ্নে বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাছির বলেন, আমাদের সদস্য কারখানার বেতন বোনাস নিয়ে আমরা কথা বলবো। অন্য কারখানার কথাতো আমরা বলবো না। সেটা আমাদের দায়িত্বও নয়।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ নাছির বলেন, বোনাস প্রায় শতভাগ কারখানায় দেয়ার কথা বলা হয়েছে কারণ এখনও সময় আছে। আজ বিকাল পাঁচটার মধ্যে সব কারখানার বোনাস দেয়া হবে।

                                                     বেতন-ভাতার দাবিতে গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাছির জানান, ‘বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন। তিনি সুস্থ হয়ে গতকাল বাংলাদেশে এসেছেন। এখন তিনি বিশ্রামে আছেন।’

সুষ্ঠুভাবে বেতন দিতে ৭০০ কারখানা ক্লোজ মনিটরিং করা হয়

মইনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু লিখিত বক্তব্যে বলেন, ঈদের আগে শ্রমিকরা যাতে সুষ্ঠুভাবে বেতন ভাতাদি পায়, সে লক্ষ্যে সরকার এবং বিজিএমইএ মিলে অগ্রীম প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। এর আওতায় বৃহত্তর ঢাকাকে মোট ১৫টি জোনে ভাগ করে মোট ১৫টি আঞ্চলিক/জোন ভিত্তিক কমিটি গঠন করেছি। টিমগুলো গত একমাস ধরে বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছে। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদুল আজাহা উপলক্ষে ঢাকাস্থ বিজিএমইএ কার্যালয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ক্রাইসিস কন্ট্রোল রূম খোলা হয়েছে। এর বাইরে সরকার গঠিত আঞ্চলিক ক্রাইসিস কমিটি কাজ করে যাচ্ছে।

বিজিএমইএর প্রথম সহ সভাপতি মিন্টু বলেন, ঈদের আগে বেতন ভাতা বিষয়ে সমস্যা হতে পারে এরকম কিছু কারখানার তালিকা আমরা বিভিন্ন সংস্থা থেকে পেয়েছিলাম। বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রাপ্ত এবং বিজিএমইএ এর ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেল এর প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সর্বমোট ৭০০টি কারখানাকে ক্লোজ মনিটরিং করা হয়। বেতন ভাতা বিষয়ে সমস্যার ধরণ বুঝে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বিজিএমইএ’র সরাসরি হস্তক্ষেপে সমস্যাপূর্ণ প্রায় ২১টি কারখানার শ্রমিকদের বেতনভাতাদি নিশ্চিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কারখানার সমস্যার ধরণ বুঝে বিজিএমইএ শ্রমিক, মালিক, ফেডাশেন নেতৃবৃন্দ এর সাথে যৌথ আলোচনাপূর্বক মালিকরা যাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শ্রমিকের বেতন পরিশোধ করতে পারেন, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছে। আমাদের জানা মতে, এ মুহূর্তে আমাদের হাতে বেতন ভাতা পরিশোধ বিষয়ে সমাধান করা হয়নি, এরকম একটি কারখানাও নেই।

কিছু কিছু কারখায় অসন্তোষ হয়েছে আইন বহির্ভূত

মইনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু বলেন, এবারে আমরা দেখেছি, কিছু কিছু কারখানাতে অসন্তোষ হয়েছে আইন বহির্ভূত ইস্যুতে। ঈদ উপলক্ষ্যে ছুটি প্রদান নিয়ে এবং আগস্ট মাসের আংশিক অগ্রীম বেতন নিয়ে যে অসন্তোষ হয়েছে তা পরিশোধে আইনগত বাধ্যবাধকতা ছিলো না। সেইসাথে এটাও দেখেছি যে বেশ কিছু কমপ্লায়েন্ট কারখানা, যেগুলোতে নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়ন রয়েছে এবং যথাযথভাবে বেতন-ভাতা পরিশোধ করেছে, সেগুলোতে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়েছে। আবার প্রচলিত নিয়মের বাইরে বাড়তি বোনাসের দাবিতে কোনো কোনো কারখানাতেও শ্রমিকরা সমস্যা করেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বহিরাগত শ্রমিকনেতাদের উস্কানিও ছিলো। যাই হোক, সকলের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত সমস্যাগুলোর সুষ্ঠু সমাধান হয়েছে।

মহাসড়ক ও সড়কগুলোতে যানজট কমানোর জন্য ঈদ উপলক্ষে আমরা উদ্যোক্তারা এলাকাভিত্তিকভাবে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে ও সময়ে ছুটি দিচ্ছি জানিয়ে মইনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু বলেন, কিছু কারখানার শ্রমিক গত শুক্রবার, কিছু কারখানার শ্রমিক গত শনিবার ও কিছু শ্রমিক রবিবার ছুটিতে গেছে। অবশিষ্ট কারখানাগুলোর শ্রমিকরা আজ সোমবার ছুটিতে যাচ্ছে।

ট্রাকে যাত্রী পরিবহন যাতে না করা হয়

মইনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু বলেন, প্রতি বছর আমরা দেখি যে, ঈদ এর ছুটি চলাকালীন সময়ে সড়ক পথে দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানি হয়। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বার বার আহবান করা সত্ত্বেও এটি ঘটছে। চালকদের প্রতি আমাদের ঔদাত্ত আহবান আপনারা সতর্কতার সাথে গাড়ি চালান। আমাদের বিনীত অনুরোধ, ঈদে বাড়ি ফেরা নিয়ে অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস, ট্রেন ও লঞ্চগুলো যাতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করে সে ব্যাপারে নজরদারি জোরদারের ব্যবস্থা নিন। কোন পণ্যবাহী ট্রাকে যাতে যাত্রী পরিবহন করা না হয়, তা নিশ্চিত করুন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি এস.এম. মান্নান (কচি), সহ-সভাপতি (অর্থ) মোহাম্মদ নাছির, পরিচালক মুনির হোসেন, আ.ন.ম সাইফউদ্দীন।

(ঢাকাটাইমস/২০আগস্ট/জেআর/ইএস)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত