বাড়তি ভাড়া আদায়, বাস কোম্পানির সাজা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৪৯

রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায়ের দায়ে একটি বাস কোম্পানিকে সাজা দেয়ার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

সোমবার ঈদযাত্রা পরিদর্শনে গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। এরপর সাংবাদিকদেরকে এ কথা জানান তিনি।

প্রতি বছরই ঈদে অতিরিক্ত বাস ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠে। যারা আগাম টিকিট কিনতে না পারেন, তারাই শিকার অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের। বরাবর সরকার এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থা নেয়ার কথা বলে, কিন্তু যাত্রীচাপ বেড়ে যাওয়ার পর ভাড়ার বিষয়টির চেয়ে বাসে উঠাই যেখানে মুখ্য হয়ে যায়, সেখানে যাত্রী ঠকানোর বিরুদ্ধে কার্যকর কিছু করা যায়নি কখনও।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাড়তি ভাড়া আদায়ের দায়ে একটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’ তবে এটি কোন কোম্পানি আর তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা হয়েছে সেটি জানাননি তিনি।

এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘ঈদের সময় মানুষ বাড়ি যায়। আমাদের মূল উদ্দেশ্যটা হচ্ছে এই ঘরমুখো মানুষগুলো যেন কোন ধরনের অস্বস্তিতে না পরে, ঠিক মত বাড়িতে ফিরতে পারে সেদিকটা নিশ্চিত করা।‘

দূরপাল্লার পরিবহনগুলোর কিছু অনিয়ম রয়েছে বলে মনে করেন মন্ত্রী। তারপরেও ‘ঘরমুখো মানুষ সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে’ বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আপনারা দেখেছেন বাসের স্বল্পতা কিছু রয়েছে। কোনো কোনো বাস সময় মত আসছে, কোনো কোনো বাস সময় মত আসছে না। কোনো ক্ষেত্রে টিকেট ঠিক মতো রয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে টিকেট স্বল্পতা রয়েছে। ভাড়ার জন্য প্রতিটি কাউন্টারে তালিকা টানানো আছে।’

ঈদুল ফিতরের তুলনায় ঈদুল আযহায় সড়ক যানজটমুক্ত রাখা বাড়তি চ্যালেঞ্জ বলে জানান মন্ত্রী। বলেন, এই সময়ে ঢাকামুখী গরুর গাড়ি সড়ক নির্বিঘ্ন রাখা কঠিন করে তোলে।

মন্ত্রী বলেন, ‘লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের পরিবারের সাথে ঈদ করার জন্য যাচ্ছে। রোজার ঈদের সময় একমুখী চলাচল। এখন গরুর গাড়িগুলো চলাচলের জন্য একটু বিঘ্ন ঘটছে।‘

অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টি নির্মুলের দাবি

ঈদ মৌসুমে বরাবর অজ্ঞান ও মলম পার্টির উৎপাত থাকলেও এবার তাদেরকে নির্মূল করার দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, কোরবানির পশু বিক্রি করে বিক্রেতারা টাকা নিয়ে যেন নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারে সেদিকে সরকার বিশেষ দৃষ্টি রেখেছে।

প্রতি বছর বিশেষ করে ঈদুল আযহায় অজ্ঞান ও মলম পার্টির তৎপরতা বেড়ে যায়। পশুর ক্রেতা ও বিক্রেতারািই তাদের লক্ষ্যবস্তু থাকে। খামারির সারা বছরের চেষ্টায় বড় করা গরুর টাকা লুটে নেয়ার খবর যেমন আসে, তেমনি হাটে পশু কিনতে যাওয়া ক্রেতার অর্থ লুটের খবরও পাওয়া যায়। তবে এবার এমন খবর গণমাধ্যমে সেভাবে আসেনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী যেমন দক্ষতা অর্জন করছে, ঠিক তেমনি নিরাপত্তাও আমরা সাধারণ মানুষকে দৃঢ়তার সাথে দিতে পারব।’

‘ঈদে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে আমাদের আইজি সাহেব মিটিং করেছেন, আমাদের কমিশনার সাহেব মিটিং করেছে, আমাদের মন্ত্রণালয়ে মিটিং হয়েছে। কীভাবে একটা স্বস্তির পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারি, আমরা মিটিং এরপর মিটিং করে সেই জায়গাটাতেই এসেছি।’

‘যারা ক্রেতা তারা যেন ভোগান্তিতে না পরে, যারা বিক্রেতা তারা যেন কোনো সমস্যা না পরে সেই ব্যবস্থাটা নেয়া হয়েছে।‘

পশু বিক্রেতাদের নগদ টাকা নিয়ে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করতে আলাদা পুলিশ স্কোয়য়াডের ব্যবস্থা করা হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নগদ টাকা নিয়ে কেউ যদি মনে করে তাকে পৌঁছে দিতে হবে সে জন্যও পুলিশ স্কোয়াডের ব্যবস্থা করেছি। জাল টাকা শনাক্ত করার মেশিন বসিয়েছি। প্রচুর পরিমাণে নিরাপত্তা বাহিনী এখানে রয়েছে। পোশাকে এবং সাদা পোশাকে প্রচুর পরিমাণ নিরাপত্তা বাহিনী এখানে মোতায়েন রয়েছে।’

ঢাকাটাইমস/২০আগস্ট/কারই/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত