এখনো রোহিঙ্গাদের আটক করে নির্যাতন করছে মিয়ানমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৮, ১৭:২১ | প্রকাশিত : ২১ আগস্ট ২০১৮, ১৫:৪৪
ফাইল ছবি

বাংলাদেশ থেকে নিজেদের উদ্যোগে যে হাতেগোনা রোহিঙ্গা রাখাইনে ফিরে গেছে, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের নির্যাতন করছে বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইআরডব্লিউ)।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংস্থাটি বলছে, এতে করে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে দেওয়া মিয়ানমার সরকারের প্রতিশ্রুতির সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এইচআরডব্লিউ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনল। তারা বলছে, নির্যাতনের এই আলামত প্রত্যাবাসন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অন্তর্ভূক্তি ও জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানের অপরিহার্যতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রতিবেদনে এইচআরডব্লিউ ৬ জন রোহিঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে এনেছে, তারা রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসার পর আবার নিজ উদ্যোগে মিয়ানমারে ঢুকেছিল। অবশ্য রাখাইনে থেকে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা ছিল না তাদের। তারা সেখানে টাকা উপার্জন করে আবার বাংলাদেশে ফিরে আসার কথা চিন্তা করেছিল।

ওই ৬ জন রোহিঙ্গা এইচআরডব্লিউর কাছে অভিযোগ করেছে, মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার পর তাদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়। অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার অভিযোগে ৪ বছর করে কারাদণ্ডও দেওয়া হয় তাদের।

পরে সাজা ঘোষণার এক মাসের মাথায় অন্য অনেকের সঙ্গে ওই ছয় রোহিঙ্গাকেও ‘ক্ষমা’ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয় মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক ফিল রবার্টসন বলেছেন, ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা মিয়ানমার সরকারের নিরাপদ ও সুরক্ষিত শরণার্থী প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতিকে মিথ্যা প্রমাণ করেছে।

তিনি বলেন, মিয়ানমার মুখে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চাইলেও, বাস্তবতা হলো যে কারণে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে, রাখাইনে ফিরতে গেলেও তাদের আগের মতোই সেই নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হতে হবে।

দিয়েছে রাখাইনে ফিরে নির্যাতনের কবলে পড়া ওই ৬ রোহিঙ্গা এইচআরডব্লিউকে সাক্ষাৎকার দেন। মংডু জেলার ভিন্ন ভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়েছিল।

তারা বলছেন, আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সার্বক্ষণিক তাদের দিকে বন্দুকের নল তাঁক করে রাখত মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। জিজ্ঞাসাবাদে তাদেরকে মিয়ানমারের সেনা-গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা লোহার রড কিংবা লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করত। তাদেরকে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়, শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়িয়ে দেওয়াসহ নানান ধারার নির্যাতন চালায়। সে সময় প্রয়োজনীয় খাবার ও পানীয় পানিও দেওয়া হয়নি বলেও জানান তারা।

জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের বিভিন্ন আটককেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া জানিয়ে তারা বলেন, সেইসব আটককেন্দ্রে কোনও আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের সুযোগ ছিল না তাদের। এক পর্যায়ে প্রত্যেককে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়ে তাদের বুথিডং কারাগারে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে আরও শত শত রোহিঙ্গা বন্দি আটক রয়েছে বলে জানান তারা।

এক পর্যায়ে মংডুর বেশকিছু রোহিঙ্গা-বন্দিকে সারি করে দাঁড় করিয়ে জানানো হয় প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট তাদের জন্য ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। অচিরেই তাদের মুক্তি দেওয়া হবে।

২৭ মে মিয়ানমারের ডি-ফ্যাক্টো নেত্রী সু চির দফতর থেকে ৫৮ জন রোহিঙ্গা বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়। এর মধ্যে থাকা ৬ জনের সাক্ষাৎকার নেয় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

ঢাকাটাইমস/২১আগস্ট/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত