কোরবানির পশুর চামড়া ছিলানো ও ভালো রাখার উপায়

জহির রায়হান, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৮, ১৭:৪৭ | প্রকাশিত : ২১ আগস্ট ২০১৮, ১৭:৩৬

চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ সঠিকভাবে না হওয়ার কারণে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ টাকার চামড়া নষ্ট হচ্ছে।বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা।

পশু থেকে চামড়া ছাড়ানোর পর তা ভালোমতো পরিষ্কার করে ৬-৮ ঘণ্টার মধ্যে লবণ দিতে হয়। অনেক সময় লবণ দেয়া হয় না বলে চামড়া পচে যায়। স্যাঁতসেঁতে জায়গায় না রেখে পরিষ্কার ও শুষ্ক স্থানে চামড়া মজুদ করতে হয়। এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় না বলে প্রতিবছর চামড়া নষ্টের পরিমাণ বাড়ছে। দেশে মোট চামড়ার প্রায় ৫০ শতাংশ আহরণ হয় ঈদুল আজহার সময়।

‘রপ্তানির জন্য প্রয়োজন, টেকসই চামড়া আহরণ’ স্লোগানে চামড়া ভালো রাখার  প্রক্রিয়া সম্পর্কে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়:

১. কোরবানির আগে পশুকে ভালোভাবে গোসল করাতে হবে এবং পশুর গা ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে;

২. কোরবানির আগে পশুকে প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়াতে হবে;

৩. পশুকে পরিষ্কার ও সমতল জায়গায় জবাই করতে হবে। এতে চামড়ার কোনো ক্ষতি হয় না, চামড়ায় ময়লাও লাগে না;

৪. জবাই করার স্থানে পশুর রক্ত গড়িয়ে পড়ার জন্যে একটা গর্ত করতে হবে। আর একটা গর্ত করতে হবে একটু দূরে ময়লাসহ অন্যান্য বর্জ্য ফেলার জন্য;

৫. পশুকে শোয়ানোর জন্য পশুর পা যথাযথভাবে বেঁধে নিতে হবে এবং খুব সাবধানে শোয়াতে হবে যাতে চামড়ার ক্ষতি না হয়;

৬. জবাইয়ের পর কোরবানির পশু নিস্তেজ হলে চামড়া ছাড়ানো শুরু করতে হবে।

৭. চোখা মাথার ধারালো ছুরি দিয়ে পশুর বুকের ওপর দিয়ে লেজের গোড়া পর‌্যন্ত লম্বালম্বিভাবে এবং এক পা থেকে অন্য পা পর‌্যন্ত দেহ দেখে চামড়া ফেঁড়ে ফেলতে হবে;

৮. বাঁকানো মাথার ধারালো ছুরি দিয়ে পশুর দেহ থেকে চামড়া ছাড়াতে হবে হবে;

৯. চামড়া ছাড়াতে তাড়াহুড়া করা যাবে না, স্বাভাবিক গতিতে ছুরি চালিয়ে পশুর দেহ থেকে চামড়া ছাড়াতে হবে;

১০. চামড়া টানাহেঁচড়া না করে বালতি বা পাত্রে করে নিতে হবে এবং রোদ-বৃষ্টি পড়ে না এমন শুকনো খোলা জায়গায় রাখতে হবে। চামড়া টানাহেঁচড়া করলে, রোদে পুড়লে, বৃষ্টিতে ভিজলে চামড়ার ক্ষতি হবে। চামড়ায় রক্ত লাগলে সঙ্গে সঙ্গে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে;

১১. চামড়া বিক্রি করতে দেরি হলে প্রয়োজনমতো লবণ দিয়ে রাখতে হবে।

চামড়া সংরক্ষণে সতকর্তা থাকার পরামর্শ দিয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাখাওয়াত উল্লাহ ঢাকাটাইমসকে বলেন, দেশে মোট চামড়ার প্রায় ৫০ শতাংশ আহরণ হয় ঈদুল আজহা বা কোরবানির সময়। গরমে চামড়া দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এ জন্য ৬ ঘণ্টার মধ্যে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে পশুর চামড়া। গত বছর ৪০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।

কাটাছেঁড়া ও ফাটা চামড়া প্রসঙ্গে শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ‘চামড়া কাটা থাকলে সেটির মূল্য এক হাজার টাকার বদলে ২০০ টাকা হয়ে যায়। আসলে আমাদের প্রশিক্ষিত কসাইয়ের সংকট রয়েছে। কোরবানির সময় যারা চামড়া ছড়ায় তারা সিজনাল কসাই।’

কাটাছেঁড়া ও ফাটা চামড়া রপ্তানি করা যায় না জানিয়ে শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, কোরবানির সময় ভালো পরিমাণ পশুর চামড়া পাওয়া যায়। কিন্তু সঠিকভাবে সংরক্ষণ না হওয়ায় প্রতি বছর প্রায় ৩৩০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়।

জানা গেছে, গত বছর ১ কোটি ৫ লাখ গবাদি পশু কোরবানি করা হয়। এবার সংখ্যাটি আরও বাড়বে। সম্প্রতি এক খবরে দেশের খামারগুলোতে ১ কোটি ১৬ লাখ কোরবানিযোগ্য পশু থাকার কথা জানা যায়।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, দেশে বছরে ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ গরুর, ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগলের, ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষের এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ভেড়ার চামড়া। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে বছরে আয় হয় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। দেশের রপ্তানি আয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস এই চামড়া খাত।

(ঢাকাটাইমস/২১আগস্ট/জেআর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
Close