বিএনপিকে দুই বছর ক্ষমতা আমাদের ছাড়তে হবে: মান্না

এম গোলাম মোস্তফা, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:২৮ | প্রকাশিত : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৮:২৪

বিএনপির সঙ্গে ঐক্যের পর ক্ষমতায় আসতে পারলে দুই বছর ক্ষমতা তাদের হাতে ছেড়ে দিতে হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তফ্রন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না। বলেছেন, এই দুই বছরেই তারা সুশাসন কী সেটি করে দেখাবেন।

বিএনপির সঙ্গে ঐক্যের আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে গেছে বলেও জানান যুক্তফ্রন্টের এই নেতা। বলেছেন, নির্বাচনের পর বিএনপি স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠবে না, এটা নিশ্চিত করেই আলোচনা চালাচ্ছেন তারা।

বিএনপির এবং যুক্তফ্রন্টের ঐক্যের চেষ্টা কতদূর আগাল?

এটার কাঠামোটা দৃশ্যমান হয়েছে, এটা একটা বিরাট অর্জন এই মুহূর্তে। ঐক্য গড়ার পথে অনেক দূর এগিয়েছি আমরা।

ঐক্য গড়ার সময় যে প্রস্তাব নিয়ে, দাবি নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়, আমাদের তেমন হয়নি। কারণ স্বৈরতন্ত্রের থাবা এতো তীব্র, মানুষ এখান থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা জোরাল হয়েছে।

আমাদের সমস্যা হতে পারত বেগম জিয়ার মুক্তির দাবি প্রধান করে আনতে হবে। এখানে তার মুক্তির দাবি প্রধান নয়, দাবি নামার মধ্যে থাকলেই হলো। কেউ কেউ আবার বলেন, আইনগতভাবেই হোক আর যেভাবেই হোক ওনি মুক্তির দাবিদার।

আলোচনাগুলো কী নিয়ে হচ্ছে?

সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, বেকারত্ব দুর করা, দুর্নীতি দুর করা, শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা, স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা করা-এই বিষয়গুলি নিষ্পত্তি করা সরকার। এইটা আমাদের নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছি, যে নামব কীভাবে, ঘোষণা দেব কীভাবে? আন্দোলনটা গড়ে তুলব কীভাবে।

কেন মনে করছেন এই ঐক্য দেশের জন্য ভালো হবে?

এটা কোন ব্যাখ্যার দাবি রাখে? দেশ ধ্বংসের পথে চলে যাচ্ছে। কোন নির্বাচন ছাড়া গায়ের জোরে রীতিমতো শঠতা করে ক্ষমতায় থাকা হচ্ছে এবং সেই চক্রান্ত এখনও চলছে। এটা প্রতিহত করার জন্য কিছু করতেই হবে, এটা সেই উদ্যোগ। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এটার কোনো বিকল্প নেই।   

বিএনপির চাওয়া কী আর যুক্তফ্রন্টের চাওয়া কী?

আমাদের ‍দুই পক্ষের দুই রকম চাওয়া রয়েছে। তবে সবাই একটা অংশগ্রহণমুলক নির্বাচন চাই। এটার জন্য নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার চাই, যার অধীনে নির্বাচন করার জন্য আস্থা তৈরি হবে। এ নির্বাচন কমিশনটা সংস্কার করতে হবে, এই নির্বাচন কমিশন ওরকম নির্বাচন করার যোগ্যতা রাখে না। আর সংসদ বহাল রেখে আরেকটা সংসদ নির্বাচন হবে না।

এই সংসদ বাতিল করতে হবে এবং এই নির্বাচন দেখা, পরিচালনা, তত্ত্বাবধানে বিচাররিক ক্ষমতাসহ সামরিক বাহিনীকে দায়িত্ব দিতে হবে। এই কয়টা ব্যপারে আমাদের একেবারেই অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি আছে।

ঐক্য হলো, এরপর  কী হবে? ধরুন সরকার এবারও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবি মেনে নিল না, তাহলে কী হবে? বিএনপি বা যুক্তফ্রন্ট কি নির্বাচনে যাবে?   

একটা না হলে আরেকটা। অনেক পথ আছে, ‘এ’ আছে, ‘বি’ আছে, ‘সি’ আছে, ‘ডি’ আছে। তবে আমরা নিরপেক্ষ একটা সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে চাই, তার জন্য আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করব।

যদি এই জোট আন্দোলনে যায়, তাহলে ফলাফল কী হবে? বিএনপি তো দুইবার আন্দোলনে নেমে ব্যর্থ হয়েছে। আর এবার আন্দোলনের কোন প্রস্তুতিও নেই। কীভাবে দেখছেন?

আন্দোলনে বিএনপির কোন প্রস্তুতি নেই এই ধারণা কেন? দেখা যাচ্ছে কিন্তু দেখছেন না। জনগণের মধ্যে প্রস্তুতি রয়েছে। জনগণ চাচ্ছে একটা সুযোগ। যেই সুযোগে যারা স্বেচ্ছাচার করছে, দুর্নীতি করছে এদের বিরুদ্ধে তাদের মনোভাব ব্যক্ত করবে, সে রকম একটা ভোট চাই।

যে জনসভাটা করল বিএনপি, এর পরে তো আর বলবার অবকাশ নেই যে বিএনপির আন্দোলনের প্রস্তুতি নেই। আওয়ামী লীগ বারবার বলত বিএনপি কই, মাঠে নেই, আন্দোলনে নেই, সভা করতে পারে না। এখন তো দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগই নেই, বিএনপি আছে।

এত বড় একটা সভা করুক তো আওয়ামী লীগ। কোটি কোটি টাকা খরচ করে সভা করে এতো বড় সভা করতে পারবে না। মাত্র ১২ ঘণ্টা আগে অনুমতি দিয়েছে। এটা বিএনপির সাফল্যের বিষয় না? সরকার যে অত্যাচার করেছে, তার বিপরীতে মানুষের যে বিক্ষোভ তারই বহিপ্রকাশ।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মতো এবারের নির্বাচন হবে না। এইবারে আমরা নির্বাচনে থাকব, তখন জনগণ আমাদের সাথে থাকবে। আমরা যদি একসাথে ভোট করি, যে পরিস্থিতিতেই হোক না কেন, আওয়ামী লীগ ভোট করতে পারবে না।

বিএনপি ১৯৯৬ সালে একবার একতরফা নির্বাচন করেছে। আবার ২০০৭ সালে ২২ জানুয়ারি আবার বিরোধী দলকে ছাড়া নির্বাচন করতে চেয়েছে, কিন্তু পারেনি। এখন সেই বিএনপিই বলছে তাদেরকে ছাড়া নির্বাচন করা যাবে না। ১৫ ফেব্রুয়ারি এবং ২২ জানুয়ারির বাতিল নির্বাচনের কী মূল্যায়ন করবেন? বিএনপি কি ভুল করেছে?

রাজনীতিতে এই ধরনের প্রশ্ন করে বিভ্রান্ত করে কারও স্বার্থ চরিতার্থ করা। এটা পলিটিক্যাল পার্টি করতে পারে, সংবাদপত্রের করা উচিত না।

বিএনপি অতীতে একতরফা নির্বাচন করেছিল, তারা অন্যায় করেছিল। তাই বলে কি আওয়ামী লীগ একতরফা নির্বাচন করবে এটা যুক্তিসঙ্গত? বিএনপি আগে একতরফা নির্বাচন করেছি বলে আন্দোলন করা যুক্তিহীন এটা বলা যাবে না। আন্দোলন করা ঠিকই আছে, কিন্তু তখন তারা করেছিল তা অন্যায় করেছিল। আমরা বার বার বলেছি এই স্বৈরাচারী সরকার চলে গিয়ে আবার একটা স্বৈরাচারী সরকার আসবে তা হতে দেব না।

আমরা ক্ষমতার ভারসাম্য চাই। আমাদের ঐক্যের এটাও একটা স্লোগান, এটার সাথে বিএনপি একমত হয়েছে। এটা যুক্তফ্রন্ট, এটা আগের পরিস্থিতি না। এখন আমরা সমস্ত দিক বুঝে শুনে সত্যিকার একটা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

বি চৌধুরীকে যেভাবে অপমান করেছে, তাতে তো বিএনপি একটি চরিত্র স্পষ্ট যে তারাও বিরোধীমত পছন্দ করে না? এই বিরোধ কি ঘুঁচবে?

ধরেন যতদিন বদরুদ্দোজা চৌধুরী জীবিত আছেন এই বিরোধ ঘুঁচবেই না। তার মনে এই রকম কষ্ট থাকতেই পারে যে সেটা কোন দিনও গেল না। এটার নিষ্পত্তি কীভাবে হবে?

বেনেজির ভু্ট্টোর বাবাকে যারা মেরেছিল, তাদের সাথে কি তিনি নির্বাচন করেননি? পৃথিবীর বহু জায়গাতে আছে যে নিজের দলের বিশেষ ব্যক্তিদের সাথে হাত মিলিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। এই মালয়েশিয়ার যে নির্বাচন হলো, মাহথির মোহাম্মদের সাথে হাত মিলাল না আনোয়ার ইব্রাহীম? নেলসন ম্যান্ডেলা ২৭ বছর জেল খেটে বিরোধীর সাথে হাত মিলিয়েছে। এখন এই পরিস্থিতিতে ওই মনে কষ্টের কারণে ঐক্যটা বাদ দেবেন?

এটা প্রভাব ফেলবে না, আমি সেটা বলছি না। বি চৌধুরী একজন বর্ষিয়ান নেতা রাজনীতিবিদ হিসেবে এটা ধরে ঐক্যের পরিপন্থী কোন কাজ করবেন, আমি তা মনে করি না।

দেড়শ আসন চায় যুক্তফ্রন্ট, এটা বাড়াবাড়ি চাওয়া না?

আমি দেড়শ আসনের কথা কখনই বলি নাই, এটা মাহী বি চৌধুরী বলেছেন। এই আসনের কথা যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে বলা হয় নাই, এটা মাহী বলেছেন। এটা তার একান্তই ব্যক্তিগত মন্তব্য, এই মন্তব্য যুক্তফ্রন্টের নয়। আসন বণ্টনটা বড় কথা নয়, যুক্তফ্রন্টকে দুই বছর দিয়ে দিতে হবে।

এই বিষয়টি এখনও ওদেরকে (বিএনপি) বলি নাই, আমি আপনাকে বলছি, আমাদের দুই বছর ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে।

তাদের (বিএনপি) এতো ঝামেলা, আওয়ামী লীগের লোক ভয়ে আছে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পাঁচ লক্ষ লোক মেরে ফেলবে। আমরা ক্ষমতায় গেলে এ রকম শাসনের একটা মডেল দেখাব, যেখানে কোন হানাহানি থাকবে না। এই জন্য সিট কতটা পাব সেই বিতর্কটা করছি না। আমরা ক্ষমতার ভারসাম্যটা বড় করে দেখছি।

আমরা সত্যিকার অর্থে দেশে সুশাসনের জন্য কাজ করব। আমরা কল্যাণ রাষ্ট্র করতে চাই, দেশের বেকার সমস্যা নিরসনে কাজ করে যাব। দলবাজী থেকে মুক্ত করতে হবে দেশকে।

জামায়াত নিয়ে যুক্তফ্রন্টের অবস্থান কী?

জামায়াত নিয়ে যুক্তফ্রন্টের অবস্থান স্পষ্ট। স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে আমাদের কোনো ধরনের ঐক্য হতে পারে না। বিএনপি এভাবে স্পষ্ট করে বলে নাই যে তারা জামায়াতকে ছাড়বে না। বেগম জিয়া মহাসচিবকে বলেছেন, জোটও থাকবে আবার বৃহত্তর ঐক্য হবে। কিন্তু বলে নাই জামায়াত আমাদের সাথে থাকবে।

নির্বাচনের মাঠে তো জামায়াত নাই, তাদের রেজিস্ট্রেশনই নাই। এখন ২০টা জামায়াতের নেতা যদি ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন কররে, সেখানে আমি বলার কে?

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নদভী তো সরাসরি জামায়াতের লোক। আওয়ামী লীগ পাঁচটা দিলে বিএনপিও পাঁচটা দেবে, আমার কথা শুনবে কে? আমি আদর্শিকভাবে জামায়াতের রাজনীতির বিরোধিতা করি। আর নির্বাচনের প্রশ্নে যদি হয়, আমি তো তাকে সাথে নিচ্ছি না। বিএনপি যদি ওইভাবে নেয়, তবে আমাদের আটকাবার ব্যবস্থা নাই।

আন্দোলনের বিষয়ে যদি হয় আমি কর্মসূচি দিলাম, বিএনপিও দিল আবার জামায়াত অভিন্ন কর্মসূচি দিল, তা আমি কী দিয়ে ঠেকাব? তবে এইটা স্পষ্ট জামায়াতের সাথে কোনো রাজনৈতিক ঐক্য হবে না।

বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলেও তো ব্যাপক দুর্নীতি, স্বাজনপ্রীতির পাশাপাশি জঙ্গি তোষণের অভিযোগ ছিল। আবার বিদ্যুৎসহ সেবাখাতগুলোতে হযবরল অবস্থা ছিল যার উত্তরণে সরকার কিছুই করতে পারে নাই। কেন মনে করছেন, সেই তারাই সাফল্য দেখাবে ভবিষ্যতে?

আমরা আলাদা আলাদা ভোট করলাম বিএনপি ১৬০ আসন পেল, তখন আমি কী করতে পারি। তারপরও আমি বলি আমি বিএনপিকে আটকাতে চাই বলেই বিভিন্ন প্রস্তাব দিচ্ছি একসাথে যদি ভোট করতে চান, তবে আমাদের দুই বছর ছেড়ে দিতে হবে। এই দুই বছরে আমি দেখাব দেশে সুশাসন কীভাবে আনতে হয়।

ঢাকাটাইমস/০৭সেপ্টেম্বর/জিএম/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত