চাঁদপুরে জঙ্গল সাফ করে মিলল প্রাচীন মসজিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:২২ | প্রকাশিত : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:১৪

মেঘনার তীরবর্তী জেলা চাঁদপুরে জঙ্গল সাফ করে সন্ধান মিলেছে এক মসজিদের। সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ছোটসুন্দর গ্রামে তালুকদার বাড়ির পাশে ঘন ঝোপঝাড়ের মধ্যে খুঁজে পাওয়া এক গম্বুজ বিশিষ্ট ছোট্ট এই মসজিদ দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন শত শত মানুষ।

মসজিদটি সুলতানি বা মোঘল আমলের বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর এটি নির্ধারণে কাজ করছে প্রত্মতাত্ত্বিক অধিদপ্তর।

চাঁদপুরের সংসদ সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী দীপু মনি রবিবার তার ফেসবুকে জানান, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর থেকে কর্মকর্তারা এসে মসজিদটির ছবি তুলে নানা মাপজোখ করে নিয়ে গেছেন। অধিদপ্তর এই স্থাপনাটিকে তাদের তালিকাভুক্ত করে সংরক্ষণের কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসবেন।

ইট সুরকির তৈরি মসজিদটির গম্বুজটির চূড়োর অংশটি ভেঙে গিয়ে বড় একটি ফুটো হয়ে গেছে। সম্ভবত যে বিশাল গাছটি মসজিদের ওপরে চেপে বসে ডালপালা শেকড় দিয়ে সেটিকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে পুরো স্থাপনাটিকেই সম্পূর্ণ ঢেকে দিয়েছিল, সে গাছটির কারণেই গম্বুজের চূড়োটি ভেঙে পড়ে।

মসজিদটির ভেতরে মিম্বর, কোরআন শরিফ রাখবার স্থান, সামনের দিই কোণায় দুটি মিনারের ভাঙা অংশ আছে। এর পেছনে সাতটি কবরের অবস্থানও পাওয়া গেছে যেগুলোর দৈর্ঘ্য সাধারণ কবরের তুলনায় বেশি।

মসজিদটির কিছুটা অংশ মাটির নিচে আছে। জায়গাটা ছোট্ট একটা ঢিবির মত থাকায় মনে হচ্ছে দৃশ্যমান অংশটুকুই পুরো মসজিদ না হয়ে এটি মাটির নিচে চাপা পড়ে যাওয়া বড় মসজিদের উপরের অংশও হতে পারে।

দীপু মনি জানান, প্রায় বছর চারেক আগে একটি বই পড়ে তিনি জানতে পারেন যে রামপুর ইউনিয়নে এ ধরনের একটি প্রাচীন মসজিদ রয়েছে।

‘সে সময় থেকেই খোঁজ করছিলাম। এক সময় শুনলাম এমন কছু একটি ছিলো বটে তবে সেটিকে নাকি ভেঙে ফেলা হয়েছে। খুব মন খারাপ লেগেছিল। তবুও আবার কিছুদিন আগে কয়েকবার রামপুর ইউনিয়নের তরুণ চেয়ারম্যান মামুনকে অনুরোধ করেছিলাম খুঁজে দেখতে। কয়েকদিন আগে হঠাৎ করেই মামুন এসে খবর দিল সে শুনেছে ছোটসুন্দর গ্রামের তালুকদার বাড়ির পাশে ঘন ঝোপঝাড়ের মধ্যে একটি স্থাপনা আছে।’

‘সাথেসাথেই অনুরোধ করলাম সাবধানে ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে স্থাপনাটিকে দৃশ্যমান করা যায় কি না দেখতে। মামুন লোকজন নিয়ে খুব যত্ন সহকারে কাজটি করে ছবি ও ভিডিও চিত্র ধারণ করে আমাকে পাঠায়। আমি তো মুগ’–লিখেন দীপু মনি।

মসজিদটি সুলতানি আমলের এরকম মতামত কেউ কেউ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে দীপু মনি বলেন, ‘প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান ও গবেষণার মধ্য দিয়ে হয়তো সব প্রশ্নেরই উত্তর মিলবে একদিন। আপাতত এরকম একটি স্থাপনা এলাকায় পাওয়া গেছে তাতেই চাঁদপুরবাসী দারুন আনন্দিত।’

‘এ স্থাপনাটির যথাযথ সংরক্ষণ ও এটিকে ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছি আমরা।  এ স্থাপনার ইতিহাস উদঘাটনের মধ্য দিয়ে আমরা এ অঞ্চলের অতীত ইতিহাস জানবার জন্যও অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় থাকলাম।’

এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, গবেষক মো. আমিরুজ্জামান ঢাকাটাইমসকে জানান, সুপ্রাচীন এই মসজিদটি আইনগতভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ ইতোমধ্যেই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর গ্রহণ করেছে এবং ইতোমধ্যে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

প্রাচীন এই মসজিদের ছবি দেখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মালিহা নার্গিস আহমেদ মনে করছেন, মসজিদটি মোঘল আমলের হতে পারে। তবে সুনিশ্চিতভাবে বলার জন্য মসজিদের গঠনকাঠামো ও ইতিহাস নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করতে হবে। এর জন্য তিনি সরেজমিনে মসজিদটি দেখার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

ঢাকাটাইমস/১০ সেপ্টেম্বর/এসএএফ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
Close