পুঁজিবাজারে ধস আ.লীগ ভালোভাবে বুঝেছে: মুহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:২৩
ফাইল ছবি

পুঁজিবাজারের দুটি ধসই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হয়েছে জানিয়ে এ থেকে শিক্ষা নেয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বলেছেন, সারা বিশ্বে পুঁজিবাজারের যে ভালো আইনকানুনগুলো আছে, সেগুলো গ্রহণ করায় বাজার এখন স্বচ্ছ ও জবাবহিদিমূলক হয়েছে।

আগামী দুই বছরের মধ্যেই একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার তৈরি হবে বলেও আশার কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। ঘোষণা দেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ার বিক্রির অর্থ বাজারে বিনিযোগ করলে কর ছাড় ধেয়ার।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির ২৫ বছর পূর্তিতে বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্তাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মুহিত। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

১৯৯৬ এবং ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে ধসের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সিকিউরিটি মার্কেটে দুইবার ধস হয়েছে। বয়স ২৫ বছর, কিন্তু দুইবার বড় ধরনের ধস ঘটে গেছে। এবং এই ধস আমরা ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছি।’

‘বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকার খুব ভালোভাবে বুঝেছে, কারণ দুইটি ধসই তাদের সময়ে অনুষ্ঠিত হয়।’

বাজারে নিয়ন্ত্রণ এখন অনেক বেশি উল্লেখ করে মুহিত বলেন, ‘বর্তমানে যে সিকিউনিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন আছে তারা গত আট বছর এই মার্কেটটাকে কী করে সংস্কার করা যায়, এটা নিয়ে অনেক কাজ করেছেন।’

‘যদিও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের বয়স ২৫ বছর হয়ে গেছে, তার পরেও আমার বলতে দ্বিধান নেই, একটি কার্যকরী সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন সৃষ্টির জন্য যেসব আইন কানুন বিধিমালা এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য যেসব স্ট্রাকচারসের প্রয়োজন ছিল, সেগুলো কিন্তু ২০১১ সালের আগে মোটেও ছিল না।’

‘আমার মনে হয় আমরা যেসব আইন কানুন এবং বিধি বিধান গত ছয় বছরে প্রণয়ন করেছি, সেগুলো পৃথিবীর যে কোনো সিকিউরিটি মার্কেটের যেসব ট্র্যাডিশনস আছে এবং যেসব আচার আচরণ রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে যেগুলো সবচেয়ে উৎকৃষ্ট নিদর্শন, সেগুলা আমরা গ্রহণ করেছি এবং সেগুলো আমাদের বর্তমান আইন কানুন ও বিধিমালায় সব বিবৃত হয়ে আছে।’

বাজার পরিস্থিতিতে তৃপ্ত মুহিত

বর্তমানে বাজার অনেকটাই স্থিতিশীল উল্লেখ করে এ জন্য তৃপ্তি বোধ করছেন মুহিত। বলেন, ‘এই তৃপ্তি বোধের কারণ হলো, এখন আমাদের সিকিউরিটিজ মার্কেটটি এখন সত্যিকারভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং এটার অগ্রযাত্রা এখন কোনোমতেই রোধ করা যাবে না।’

‘ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে আমরা অনেক স্বীকৃতি পেয়েছি এবং সিকিউরিটিজ মার্কেটের যে অবস্থান পৃথিবীতে আছে, তা অনেক উন্নতি হয়েছে এবং আমরা আশা করছি যে মোটামুটিভাবে বর্তমানে যে কমিশনটি আছে সেটাকেই আমরা আগামী দুই বছরের জন্য অব্যাহত রাখব। আশা করব এরা যখন যাবে তখন সত্যিকারভাব একটি সিকিউরিটি মার্কেট বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হবে যেটা নিয়ে আমরা গর্ববোধ করতে পারব।’

‘এ কারণে আমি খুবই আশাবাদী যে, সিকিউরিটি মার্কেট খুব সত্বর বছর দুয়েকের মধ্যে তাদের যে শক্তিশালী একটা অবস্থান আছে সেটা প্রকাশ করতে সক্ষম হবে।’

বিনিয়োগের শর্তে কর ছাড়

অনুষ্ঠানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ার বিক্রির টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের শর্তে গেইন ট্যাক্সে ছাড় দেয়ার ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। জানান, এই অর্থ তালিকাভুক্ত শেয়ারে বিনিয়োগ করলে কর দিতে হবে পাঁচ শতাংশ। বলেন, ‘এই ঘোষণা আজকের থেকেই কার্যকর হবে। তার জন্য কাগজপত্র ইতিমধ্যে তৈরি হয়ে আছে।’

‘শর্ত হলো যে এই টাকাটা যে পেলেন, সেটা আগামী তিন বছরের জন্য আপনি সিকিউরিটি মার্কেটে রাখবেন।’

এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্যে ব্যাখ্যা করে মুহিত বলেন, ‘সিকিউরিটি মার্কেটটাকে শক্তিশালী করা এবং শুধু শক্তিশালী করা নয়, সেটাকে আকর্ষণীয় মার্কেট হিসেবে সকলের সামনে তুলে ধরা।’

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচুয়ালাইজেশনের শর্ত পূরণে সম্প্রতি ২৫ শতাংশ শেয়ার চীনের দুটি স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়ামের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। আর এই বিক্রির প্রায় সাড়ে নয়শ কোটি টাকা এরই মধ্যে বাংলাদেশে এসেছে।

তবে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার ২১ টাকা দরে বিক্রি করায় মূলধনী মুনাফার ওপর কর দিতে হবে ডিএসইকে। আর ব্রোকাররা অন্তত তিন বছরের জন্য শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের শর্তে এ লেনদেনে কর ছাড় চেয়েছে সরকারের কাছে।

দীর্ঘমেয়াদে অর্থায়ন হওয়া উচিত পুঁজিবাজার থেকে

বাংলাদেশে শিল্প এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়নের জন্য ব্যাংক নির্ভরতা কমানোর পরামর্শ দেন অর্থমন্ত্রী। বলেন, ‘আমাদের দেশে ফিনান্সিংয়ের যে ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে এখনও ব্যাংকগুলো এখনও অত্যন্ত শক্তিশালী এবং মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। সেটা এক দিক দিয়ে তাদের স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো না।’

‘কারণ ব্যাংক সাধারণত যে ঋণটিন দেবে, সেটা হবে অল্প সময়ের জন্য ঋণ। সেটা লম্বা সময়ের জন্য হয় না, হওয়া উচিতও হবে না। লম্বা সময়ের জন্য যে ঋণ সেটি আপনি এই সিকিউরিটি মার্কেট থেকে আহরণ করবেন।’

‘ভবিষ্যতে এই যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের যে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল, তাদের যে ক্রমাগতভাবে সমৃদ্ধির দিকে যাওয়া, সেই সব ব্যাপারে তারা তখন সিকিউরিটি মার্কেটের ওপর নির্ভর করবে বলে আমি আশা করি।’

এরই মধ্যে পুঁজিবাজারের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। আর এই অনুষ্ঠান স্থান সংকুলান না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, ‘এ থেকে এটাই পরিস্কুট হয় যে অবশেষে আমাদের ক্যাপিটাল মার্কেটে এটা একটা নতুন ধারা প্রবর্তিত হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও বিএসইসির চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।

ঢাকাটাইমস/১২সেপ্টেম্বর/ডব্লিউবি

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত