গ্রেনেড হামলা: রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন অব্যাহত

আদালত প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:১৪ | প্রকাশিত : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:১২
ফাইল ছবি

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিস্ফোরক ও দণ্ডবিধি আইনের দুই মামলায় ল’ পয়েন্টের ওপর যুক্তি উপস্থাপন অব্যাহত রেখেছে রাষ্ট্রপক্ষ। বুধবারও রাষ্ট্রপক্ষে দুইজন প্রসিকিউটর যুক্তি উপস্থাপন করেন। এরপর প্রধান প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান যুক্তি উপস্থাপন শুরু করলে তা মুলতবি করা হয়। আগামী ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে এই মামলার অস্থায়ী ট্রাইব্যুনালে যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়।

ঢাকার ১ নম্বর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন বেলা আড়াইটা পর্যন্ত যুক্তি উপস্থাপন গ্রহণ করেন।

বুধবার যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন ওই ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর আবু আব্দুল্লাহ ভূইয়া। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধু হত্যা বন্ধের ইন্ডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বিচার শুরু করে। বিচার শেষ হয়। এর পরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়ে বিএনপিসহ চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকেই শুরু হয় শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র। যে কাজে তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা জঙ্গিগোষ্ঠীকে ব্যবহার করে। উদ্দেশ্য ছিল হাসিনাকে হত্যা করতে পারলে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের মসনদ চিরস্থায়ী করা যাবে।

আবু আব্দুল্লাহ ভূইয়া বলেন, ওই কারণেই হাওয়া ভবনের চক্রান্তে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়। মামলাটির বিচারকালে রাষ্ট্রপক্ষ এটা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে পরিকল্পিতভাবে গ্রেনেড হামলা করেছিল। যা প্রমাণ করতে রাষ্ট্রপক্ষ ২২৫ জন সাক্ষী উপস্থাপন করেছেন।

এরপর মামলাটির প্রধান প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমানের সহযোগী অ্যাডভোকেট আক্রামউদ্দিন শ্যামল যুক্তি উপস্থাপনে বলেন, আসামি পক্ষ অধিকতর তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে যে যুক্তি উপস্থাপন করেছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। যথাযথভাবেই রাষ্ট্রপক্ষ অধিকতর তদন্তের আবেদন করে এবং আদালত তদন্তের আদেশ দেয়। আসামিপক্ষ আসামি মুফতি হান্নানের দ্বিতীয় স্বীকারোক্তি নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছে তাও গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো আইনের ব্যত্যয় হয়েছেন এমন কিছু আসামি পক্ষ দেখাতে পারেননি। এছাড়া তারা সাক্ষ্য আইনের ১০ ও ২২ ধারা প্রয়োগ এ মামলায় হতে পারে না মর্মে যে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন তাও গ্রহণযোগ্য নয়। এ সংক্রান্তে তিনি উচ্চ আদালতের কিছু সিদ্ধান্ত আদালতে উপস্থাপন করেন।

এরপর মামলাটি প্রধান প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। তিনি বলেন, এক যুগের বেশি সময় পর হলেও আমরা দুইটি মামলা এক সঙ্গে এ পর্যায়ে নিয়ে আসতে পেরেছি। আমরা ট্রাইব্যুনালে এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের জন্য ২২৫ জন সাক্ষী উপস্থাপন করেছি। আসামি পক্ষ থেকে বারবার প্রশ্ন তোলা হয়েছে ৬১ জন সাক্ষীর পর অধিকতর তদন্ত নিয়ে। আমরা আইনগত পদ্ধতি অনুসরণ করেই আবেদন করি এবং বিজ্ঞ আদালত আদেশ দেয়। এখানে আইনের কোনো প্রকার লঙ্ঘন হয়নি। আর প্রশ্ন তুলেছেন, অধিকতর তদন্তে থাকাবস্থায় মুফতি হান্নানের দ্বিতীয় স্বীকারোক্তি করা নিয়ে। এখনেও আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। হান্নানের স্বীকারোক্তি একটি আরেকটির ধারাবাহিকতা। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, আর কেউ সমর্থন করে সাক্ষ্য দেয়নি। কিন্তু আমরা হান্নানের বক্তব্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমর্থন করেছে এমন ৪১ জন সাক্ষী উপস্থাপন করেছি। আসামি হান্নানের স্বীকারোক্তির মধ্যে একটি অংশ আছে ক্রিমিনাল কন্সপ্রেসির। যা আদালতকে বিবেচনায় নিতে হবে।

এরপর প্রসিকিউটর রেজা আজ আর নয় বলে আগামী সপ্তাহে তিন দিন যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্যের আবেদন করেন।

এ সময় বিচারক বলেন, আমার মনে হয় তিন দিন প্রয়োজন হবে না। দুই দিন দিলেই হবে। একদিন রাষ্ট্রপক্ষ বলবেন, আরেকদিন আসামি পক্ষ বলবেন। আর আসামি পক্ষ থেকেই একজন, এসএম শাহজাহান জবাব দেবেন। ওই দুই দিনের আমরা শেষ করতে পারব। এরপর বিচারক আগামী ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন।

রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটিতে ২৫ কার্যদিবস ফ্যাক্টের ওপর যুক্তি উপস্থাপন করেন। যা চলতি বছর ১ জানুয়ারি তা শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৩৮ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ১১ সরকারি কর্মকর্তার সাত বছর কারাদণ্ড দাবি করেন। এরপর আসামি পক্ষ ফ্যাক্টের ওপর যুক্তি ৮৭ কার্যদিবস উপস্থাপন করেন। যা গত ২৯ আগস্ট শেষ হয়। এরপর দুই কার্যদিবস ল’ পয়েন্টে আসামি পক্ষ যুক্তি উপস্থাপন করন। এরপর গত ৫ সেপ্টেম্বর থেকে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর কাজল ল’ পয়েন্টে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করে তিন কার্যদিবসে শেষ করেন। এরপর বুধবার যুক্তি উপস্থাপন হলো।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের জনসভায় সন্ত্রাসীরা ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালায়। হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নির্মমভাবে নিহত হন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। আহত হন শতাধিত নেতাকর্মী।

এ ঘটনায় মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক ফারুক হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল ও সাবের হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় পৃথক তিনটি এজাহার দায়ের করেন।

(ঢাকাটাইমস/১২সেপ্টেম্বর/আরজেড/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত