মেয়ের বিয়ের টাকা যোগাড়ে ২৪ ঘণ্টা রিকশার প্যাডেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:১৪

সকাল ১০টার মতো বাজে। অন্য দিনের মতো সূর্য তেতে উঠেনি, বরং মেঘলা আকাশে ভাদ্রর আবহাওয়াও খানিকটা শীতল। এর মধ্যেই একজনের ঘামে গায়ের শার্টটা পুরোপুরি ভিজে গেছে।

কারণ? জবাব মিলল, ২৪ ঘণ্টা ধরেই রিকশা চালাচ্ছেন তিনি। খানিকটা অস্বাভাবিক ঠেকল।

-‘আপনি রাতে চালান আর দিনে বিশ্রাম নেন?’

-‘না, কাল রাইতোতও চালাইচুং, দিনতও চালাচুং।’

-কেন এত পরিশ্রম।

-‘বেটির বিয়াও (বিয়ে), ৫০ হাজার টাকা নাগবে।’

-কত জোগাড় হয়েছে?

‘মসজিদের কাছে ক্লাব আট হাজার দিছে। আর দুইটা ক্লাব ছয় হাজার দিছে। আর একজন কইছে ১০ হাজার দেওয়ার কতা কইছে। কইছে টাকা দিবে নাইলে মেয়ে সাজাইবে।’

‘আরও ২৫ হাজার টাকার মতো লাগবে। এইভাবে যতটা পারি চেষ্টা করছি।’

মধ্যবয়সী লোকটির নাম সাইদার। বাড়ি নীলফামারীর জলঢাকার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের সরকার পাড়ায়।

মেয়ের নাম, সারবানু। থাকে বাড়িতে। বিয়ে হবে সবুজ নামে এক যুবকের সঙ্গে। তিনি পোশাক কারখানার শ্রমিক হিসেবে কাজ করে, থাকেন গাজীপুরের টঙ্গীতে।

মেয়ের বিয়ের কথা বলে বা অন্য কোনো অসহায়ত্বের মিথ্যা কথা বলে এভাবে টাকা তোলার নানা ঘটনা শোনা যায় প্রায়ই। তাই যাচাই করতে নাম ঠিকানাসহ বেশ কিছু প্রশ্ন ছুড়ে দিলে ‍উপরের নানা বক্তব্য পাওয়া গেল।

নিজের এলাকার চেয়ারম্যানের নামও বললেন। তিনি চিনবেন কি না, জানতে চাইলে বলেন, ‘চেয়ারম্যান কি মোক (আমাকে) চিনবে? কিন্তুক মেম্বার মোক চিনে। তার নাম সাবু মেম্বার। বলবেন সাইদার, মোক চিনবে।’

সাইদারের ব্যক্তিগত কোনো মোবাইল নম্বর নেই। তাই তার সঙ্গে যোগাযোগের উপায় কী?- জানতে চাইলে জানান, নিকুঞ্জ-২ এর ১৩ নম্বর সড়কের সালামের রিকশা গ্যারাজের রিকশা চালান তিনি। সেখানেই থাকেন। যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যাবে। পকেটে একটি কাগজে লেখা বিভিন্ন মোবাইল নম্বর আছে তার। একটি ছেলে তারিফের। এই তরুণও রিকশা চালান বা অন্য কাজ করেন। তিনিও বাবার মতোই বিশ্রামহীন পরিশ্রম করে চলেছেন বোনের বিয়ের টাকা জোগাড় করতে।

বিয়ে দিতে ৫০ হাজার টাকা লাগবে কেন?- এমন প্রশ্নে সাইদার বলেন, ‘জামাইকে দেওয়া নাগবে।’

-এটা তো যৌতুক, যৌতুক ছাড়া কি বিয়ে হয় না?

-‘না, দেওয়াই নাগবে। নাইলে বেটিকেই নিবে না।’

এত কথার ভিড়ে সাইদার একটিবারের জন্যও ভাড়া বাড়িয়ে দেয়ার বা কোনো আর্থিক সহযোগিতা চাননি।

সাইদারের কাছ থেকে তার ছেলে তারিফের ফোন নম্বর নিয়ে কল করা হলো তাকেও। তার কাছ থেকেও পাওয়া গেল একই বর্ণনা।

বিয়ের জোগাড়যন্ত্র হলো?- এমন প্রশ্নে তারিফ বলেন, ‘এখনও প্রায় ২৫ হাজার টাকা লাগবে, বিভিন্ন সাইট থেকে কালেকশন করতাছি আরকি।’

ঢাকাটাইমস/১৪সেপ্টেম্বর/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত