এত টাকা বিএনপি পায় কোথায়: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:২৭ | প্রকাশিত : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:৪০

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে দূতিয়ালি করতে বিএনপির ‘লবিস্ট নিয়োগ করতে’ যে টাকা খরচ হয়েছে তার উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘এত টাকা তারা পায় কোথায়?’

শুক্রবার রাজধানীতে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজের ১০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে যান ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক।

এই অনুষ্ঠানে বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কাদের এবং তখন তার কাছে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির লবিস্ট নিয়োগ বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ এবং দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিউইয়র্ক সফর নিয়ে প্রশ্ন রাখা হয়।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে তদবির চালাতে লবিং ফার্ম দুটিকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজনীতি বিষয়ক ম্যাগাজিন পলিটিকো।

মঙ্গলবার ওই ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আব্দুল সাত্তার নামে বিএনপির একজন’ গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্লু স্টার স্ট্র্যাটেজিস’ এবং ‘রাস্কি পার্টনার্স’ এর সঙ্গে চুক্তি করেন, যাতে তারা বাংলাদেশের নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির পক্ষে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে তদবির করে।’

এজন্য আগস্ট মাসে ব্লু স্টারকে ২০ হাজার ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া বছরের বাকি মাসগুলোতে ওই প্রতিষ্ঠানকে ৩৫ হাজার ডলার করে পরিশোধ করা হবে। রাস্কি পার্টনার্স ব্লু স্টারের সাব-কন্ট্রাক্ট হিসেবে কাজ করবে। এই প্রতিষ্ঠানটি আগস্টের জন্য পাবে ১০ হাজার ডলার এবং বাকি মাসগুলোর জন্য পাবে ১৫ হাজার ডলার।

কাদের বলেন, ‘বিএনপি ওয়াশিংটনভিত্তিক  লবিস্ট নিয়োগ করেছে। তবে বাংলাদেশ,  পাকিস্তান-আফগানিস্তান বা সুদান, ইরাক, সিরিয়া না। এখানকার সমস্যা আমরা এখানে সমাধান করব।’

‘বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে দিয়ে আমাদেরকে চাপ দেয়ার জন্য। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই আমাদের ভিত্তি জনগণ এবং আমাদের শেকড় দুর্বল নয়। আমাদের গণভীত অনেক শক্তিশালী। বাংলাদেশের জনগণ ছাড়া অন্য কারো চাপের কাছে নতি স্বীকার করব না।’

ফখরুল নিউ ইয়র্কে, কিন্তু গুতেরেস তো ঘানায়

মির্জা ফখরুল জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করতে যাওয়ার কথা জানালেও তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রেই নেই বলে জানান কাদের।

গত মঙ্গলবার রাতে ফখরুল নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন ফখরুল। সঙ্গে ছিলেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। জানানো হয়, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোরিও গুতেরেসের আমন্ত্রণে এই সফর। তবে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ফখরুল বৈঠক করেন সংস্থাটির রাজনীতি বিষয়ক সহকারী মহাসচিব মিরোস্লাভ জেনকার সঙ্গে।

কাদের বলেন, ‘সব আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এখন অভিযোগ করতে গেছে। ...তাদের এখন নালিশই পুঁজি। তবে যার সঙ্গে বৈঠক করতে গেছে তিনি (জাতিসংঘের মহাসচিব) এখন ঘানায়।’

বিএনপির কাছে কাদেরের তিন প্রশ্ন

এ সময় বিএনপির কাছে তিনটি প্রশ্ন রাখেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক। প্রথমটি ছিল বঙ্গবন্ধুর খুনিদেরকে বিচারের হাত থেকে রক্ষা করতে জারি করা ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি সংক্রান্ত।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর খুনিদের বিচার থেকে রেহাই দিয়ে জারি করা অধ্যাদেশ বিএনপি সংবিধানে যোগ করেছিল। এটা কেন করা হয়েছে-সেই ব্যাখ্যা দবি করেন কাদের।

কাদেরের দ্বিতীয় প্রশ্ন সাবমেরিক কেবল সংযুক্ত হতে বিএনপির অনীহার বিষয়ে।

১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বিনামূল্যে এই কেবলে সংযুক্ত হওয়ার প্রস্তাব পায়ে ঠেলেছিল তারা। যুক্তি ছিল, এতে দেশের তথ্য পাচার হয়ে যাবে। তবে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে টাকা দিয়ে এই কেবলে যুক্ত হয়।

কাদের জানতে চান, সাবমেরিন কেবলে যুক্ত না হয়ে বিএনপি কেন দেশকে পিছিয়ে দিতে চেয়েছে।

কাদেরের তৃতীয় প্রশ্ন বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধন বিষয়ে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রায়ের এক সপ্তাহ আগে বিএনপি তার গঠনতন্ত্র থেকে ৭ ধারা বাদ দেয় যেখানে বলা ছিল চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ, দণ্ডপ্রাপ্ত ও উন্মাদরা বিএনপির সদস্য হতে পারবে না।

কাদের বলেন, ‘বিএনপির গঠনতন্ত্রে বলা ছিল কোনো সামাজিক ভাবে দুর্নীতিপরায়ন, দেউলিয়া, পাগল ব্যক্তি বিএনপির এমপি হতে পারবেন না। বেগম জিয়ার দণ্ডের সাত দিন আগে তাদের গঠনতন্ত্র থেকে সাত ধারা বাতিল করা হলো কেন?’

ঢাকাটাইমস/১৪সেপ্টেম্বর/কারই/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত