নির্বাচনকালীন সরকার একটা প্রতারণা: মওদুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:১৩
ফাইল ছবি

সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার বলে কিছু নেই উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, এটা একটা প্রতারণা। মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য সরকারের এ কথাটা বলছে।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, সরকারের ভোটবিহীন একতরফা নির্বাচনের স্বপ্ন আর কোনোদিনই বাস্তবায়ন হবে না। এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে সরকার বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসতে বাধ্য হবে।

শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মওদুদ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য যে পরিবেশ প্রয়োজন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা নেই বলে মনে করেন বিএনপির এই বর্ষীয়ান নেতা। তিনি বলেন, ‘একটা দল একতরফা তাদের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। কারও কাছ থেকে তাদের অনুমতি নিতে হয় না। যেখানে খুশি সেখানে সভা-সমাবেশ করতে পারে।

‘অথচ তাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসনকে জেলে বন্দি করে রেখেছে। মামলার পর মামলা। আওয়ামী লীগের আবিষ্কৃত অনেক কিছু দেখলাম গত নয় ১০ বছরে।’

গায়েবি মামলা

সম্প্রতি সহিংসতার অভিযোগ এনে মৃত ব্যক্তির নামে পুলিশের মামলার প্রতি কটাক্ষ করে ব্যরিস্টার মওদুদ বলেন, ‘এখন নুতন করে শুরু হয়েছে গায়েবি মামলা। কোনো দিন যে ঘটনা ঘটেনি, তার মামলা হয়েছে।’

গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে কামরাঙ্গীরচরে রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, ইট-পাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ এবং লাঠিসোটা দিয়ে মেরে পুলিশকে আহত করা হয়েছে এমন অভিযোগে নূরুল ইসলাম ও আজিজুল্লাহ নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়। অথচ নূরুল ইসলাম মারা গেছেন গত ৩১ আগস্ট এবং তাকে ওই দিনই আজিমপুরের পুরনো কবরস্থানে দাফন করা হয়। আজিজুল্লাহ মারা গেছেন ২০১৬ সালের মে মাসে। পুলিশের মামলার নথি অনুযায়ী, নূরুল ইসলাম মৃত্যুর পাঁচ দিনের মাথায় এবং আজিজুল্লাহ মৃত্যুর প্রায় আড়াই বছর পর পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছেন।

ভোটবিহীন নির্বাচন আর সম্ভব হবে না

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্দেশ্য অত্যন্ত খারাপ বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই জেষ্ঠ্য নেতা। তিনি বলেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করার জন্য সরকারের কোনো উদ্দেশ্য নাই। তারা তা চায় না।’

‘তাদের আচরণ, ব্যবহার অনেকটা এ রকম- একদলীয়ভাবে ভোটবিহীন নির্বাচন করে আবার ক্ষমতায় আসা। কিন্তু বাংলাদেশের মাটিতে ২০১৪ সালের মতো নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি আর হবে না। এটা তাদের স্বপ্ন, কিন্তু এই স্বপ্ন আর কোনোদিনই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।’

মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘আমরা সারা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছি। যেকোনো স্বৈরাচারকে অপসারণ করা অনেক কষ্টের ও অত্যন্ত কঠিন কাজ। তবে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা গেলে খুব বেশি কঠিন কাজ না।’

‘আর আজকে আমরা সেই প্রক্রিয়ার পথে অনেক দূর এগিয়ে এসেছি। এই প্রক্রিয়ায় যদি সব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও দলসহ সবাইকে যদি ঐক্যবদ্ধ করা যায় তাহলে এই সরকারের পতন অবশ্যম্ভাবী।’

সংলাপ করতে বাধ্য হবে সরকার

বিএনপির সাথে বর্তমান আ.লীগ সরকারের সংলাপে বসার যে অনীহা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার বিভিন্ন সময়ের বক্তৃতায় এসেছে, সেটা আর বেশি দিন স্থায়ী হবে না বলেও জানান মওদুদ।

সরকারি দলের নেতাদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের সাথে সংলাপে বসবেন না বা কোনো সংলাপের প্রয়োজন নাই বলছেন; বলছেন সংবিধানের ভিত্তিতে নির্বাচন করবেন বা নিজেদের অধীনে নির্বাচন করবেন, এমন কথা আর তখন বলতে পারবেন না যখন সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হবে।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘এমন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে যেখানে সরকার বাধ্য হবে একটি সমঝোতার মাধ্যমে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার ব্যবস্থা করার জন্য। এর বাইরে আর কোনো উপায় পাবে না। কারণ দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ, সব শ্রেণির মানুষ ক্ষুব্ধ।’

মওদুদ বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকার বলে আমাদের সংবিধানে কোনো কিছু নাই। এটা প্রতারণা। মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য সরকারের এ কথাটা বলা। সবাইকে অনুরোধ করব, দয়া করে সংবিধানটা একটু পড়ুন। দেখুন এটা কোথাও লেখা আছে কি না।’ 

কারাগারে আদালত সংবিধানবিরোধী

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চলমান মামলা পরিচলনার জন্য কারাগারের ভিতরে যে আদালত বসানো হয়েছে সেটা সংবিধান বিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির এই আইনজীবি।

তিনি বলেন, ‘আমরা আইন জানি। ফৌজধারী কার্যবিধির ৯ এর (২) অধিনে সরকার যে কোন জায়গায় আদালত বসাতে পারে।

‘কিন্তু তারা ভুলে গেছেন, ‘আমাদের সংবিধানের ৩৫ (৩) এর মৌলিক অধিকার, যা সকল আইনের উর্ধে। সেখানে বলা আছে, যে কোন ফৌজদারি মামলায় আসামির যে বিচার হবে, সেটা প্রকাশ্য আদালতে বিচার হবে হবে।’

‘আর কারাগারের ভিতরের আদালত কি কোন প্রকাশ্য আদালত? সরকার এখানে সংবিধানের কথা বলেননি কিন্তু আইনের কথাটাই শুধু বলেছেন।’

ইভিএম চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের যে পরিকল্পণা করছে সেটাকে লুটপাট ও কোটি টাকা চুরির চক্রান্ত হিসেবে মন্তব্য করেছেন বিএনপির এই নেতা।

তিনি বলেন, ‘এই ইভিএম চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে। এটা করা হচ্ছে লুটপাট করার জন্য। এর আগেও একবার করতে চেয়েছিল। প্রায় চার হাজার কোটির টাকার এই প্রস্তাব। এটা কোনো দিনও হবে না। মেশিন কিছু আসবে, কিছু আসবে না। যেগুলো আসবে সেগুলোর ব্যবহার করা হবে না। কয়েক শ কোটি টাকা এই কমিশনের সঙ্গে যারা তারা চুরি করবে। টাকা চুরি করার জন্যই এই ইভিএম পদ্ধতি চালু করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

(ঢাকাটাইমস/ ১৪সেপ্টেম্বর/এএকে/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত