মাহির ‘জান্নাত’-এর প্রদর্শনী বন্ধ

বিনোদন ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:১৪ | প্রকাশিত : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:১৮

স্থানীয় মুসল্লি এবং মসজিদের ইমামদের আপত্তির কারণে সাতক্ষীরার সঙ্গীতা সিনেমা হলে ‘জান্নাত’ ছবির প্রদর্শনী বাতিল করেছে পুলিশ। কোরবানির ঈদে ছবিটি মুক্তির পর শুক্রবার সঙ্গীতা সিনেমা হলে এটির প্রদর্শনী শুরু হওয়ার কথা ছিল। সেজন্য প্রচারণা চালিয়ে এলাকায় পোস্টার-ব্যানারও লাগানো হয়েছিল।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান বলেছেন, ‘কিছু লোকজন বলেছে ‘জান্নাত’ একটি পবিত্র নাম। এ নামে সিনেমা চালানো হলে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে। আমরা হল মালিকদের বিষয়টি জানিয়েছি। তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিনেমাটির প্রদর্শনী আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।’ তবে যারা আপত্তি করেছেন তারা সিনেমাটি দেখেনি বলেও জানান তিনি।

সঙ্গীতা সিনেমা হলের মালিক মো: আব্দুল হক বলেন, ‘সিনেমার নাম নিয়ে মুসল্লিরা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে। বিষয়টা এসপি (পুলিশ সুপার) সাহেব আমাদের জানিয়েছেন। পরে আমরা ভাবলাম, সামান্য একটা বিষয় নিয়ে ঝামেলার দরকার কী, সামনে নির্বাচন।’

কী আছে ‘জান্নাত’ সিনেমার কাহিনিতে?

‘জান্নাত’ চলচ্চিত্রের মূল ভূমিকায় রয়েছেন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি এবং চিত্রনায়ক সাইমন সাদিক। পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক। ছবিতে মাহি রয়েছেন নাম ভূমিকায়। তিনি মাজারের খাদেমের মেয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। ‘জান্নাত’ চরিত্রটিকে একজন ধর্মপরায়ণ নারী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে নায়ক সায়মন সাদিকের দুটি চরিত্র। একটি চরিত্রে তার নাম ইফতেখার এবং অপর চরিত্রটির নাম আসলাম। পরিচালক জানান, চলচ্চিত্রে আসলাম একজন ধর্মপরায়ণ ছেলে, যিনি মাজারের খাদেমের বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে খাদেমের মেয়ে অর্থাৎ জান্নাতের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। এক সময় জান্নাত জানতে পারে, সে যে ছেলেকে পছন্দ করে তার আসল নাম ইফতেখার। যিনি ভয়ঙ্কর এক জঙ্গি।

পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক বলেন, ‘ছবির শেষে দেখানো হয়েছে, ইফতেখার জান্নাতের হাতে খুন হয়। জান্নাত নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে তাকে হত্যা করে। যখন জান্নাত ও তার বাবা জানতে পারে যে ইফতেখার একজন জঙ্গি, তখন তার সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে। জান্নাতের বাবাকে হত্যা করে ইফতেখার জান্নাতকে জোর করে তুলে নিতে চায়। তখনই ইফতেখারকে হত্যা করে জান্নাত।

সাতক্ষীরায় সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ করাকে দু:খজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন পরিচালক মানিক। তিনি বলেন, ‘যারা ধর্মপরায়ণ লোক, ইসলামের পক্ষের লোক, তাদের জন্য এই সিনেমাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ছবিটাতে ইসলামের মাহাত্ম্য তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড কোনো রকম আপত্তি ছাড়াই ছবিটিকে ছাড়পত্র দিয়েছিল।’

সাতক্ষীরার আগে দেশের প্রায় ৭০টি সিনেমা হলে ‘জান্নাত’ দেখানো হয়েছে। কিন্তু কোথাও কোনো আপত্তি উঠেনি বলে পরিচালক মানিক দাবি করেন। তারপরও সাতক্ষীরায় কেন প্রদর্শনী বন্ধ করা হল? এ ব্যাপারে সাতক্ষীরার পুলিশ প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেখানে ইসলামপন্থীদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। তাছাড়া সাতক্ষীরা একটি স্পর্শকাতর এলাকা।

তিনি আরও বলেন, ‘বোঝেন তো বিষয়টিকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী মুসল্লিদের ইন্ধন দিতে পারে। তাছাড়া নির্বাচনের আগে কোনো সিনেমাকে কেন্দ্র করে ইসলামপন্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করুক সেটি চায় না প্রশাসন।’ এ সিনেমাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ এনে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।

ঢাকাটাইমস/১৬ সেপ্টেম্বর/এএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত