ব্যাংকের ঋণখেলাপি প্রসঙ্গে আবদুল আজিজ

আমার চলচ্চিত্রের শত্রুরা এই প্রতিবেদন করিয়েছে

সৈয়দ ঋয়াদ, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৮:১২

আবদুল আজিজ-ঢাকাই চলচ্চিত্রের ক্রান্তিকালে তিনি একাই যেন হাল ধরেছেন এই অঙ্গনের। অন্য প্রযোজকরা যখন সিনেমা বানাতে অপারগ, সেই সময়ে চলচ্চিত্রে লগ্নি করেছেন। বড় বাজেটের সিনেমা, ডিজিটাল প্রজেকশন, চলচ্চিত্রে নতুন মুখসহ সবকিছুতেই নতুনত্ব এনেছে তার প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া। কাজী আনোয়ার হোসেনের বহুল পঠিত থ্রিলার ‘মাসুদ রানা’ অবলম্বনে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসেন তারা। এর রেশ কাটার আগেই ব্যাংকের ঋণখেলাপি হিসেবে গণমাধ্যমে আবদুল আজিজকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব নিয়ে তার মুখোমুখি হয়েছে ঢাকাটাইমস। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সৈয়দ ঋয়াদ।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের পড়তি সময়ে জাজের আগমন। এই বিষয়ে জানতে চাই।

আমি কিন্তু অনেক জায়গায় বলেছি এই কথাটা। আমার চলচ্চিত্রের প্রতি ভালো লাগা ছিল, ভালোবাসা ছিল, সেই মুহূর্তে দেখলাম চলচ্চিত্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সেই সঙ্গে সারা বিশ্ব ডিজিটাল হয়ে যাচ্ছে, ৩৫ মিলিমিটারে ছবি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আগামী দুই বছরে ফুজি কোডাকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে। এই অবস্থায় আমাদের অবস্থাটা ছিল এমন এখানে ডিজিটাল না করলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্রই বন্ধ হয়ে যাবে। তার পরিপ্রেক্ষিতে আমি প্রজেকশন ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়েছি।

যতদূর জানি আগে চলচ্চিত্র বিষয়ে আপনার কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় আপনি যুক্ত হলেন কীভাবে?

অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্য ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটি করলাম। তারপর ইন্ডিয়া গেলাম, হংকংয়ে গেলাম, সেসব দেশের এক্সপার্টদের সঙ্গে কথা বললাম। তারা যে প্রক্রিয়াতে হলে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে আমরা সেভাবেই করেছি।

এই পর্যন্ত জাজ মাল্টিমিডিয়া কতগুলো হল ডিজিটাল প্রজেকশনের ব্যবস্থা করেছে?

আমরা প্রথমে ৫০টি হল দিয়ে প্রজেকশন ডিজিটালাইজেশনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত আমরা সব মিলিয়ে ২৮৩টি হল ডিজিটাল করেছি।

চলচ্চিত্র খাতে আপনাদের লগ্নির টাকা কি উঠে আসছে?

বাংলাদেশ থেকে কোনো ছবির পুঁজি ওঠে আসে না। এই কারণে আমরা অল্টারনেটিভ মার্কেট খুঁজছি এখন। ডিজিটাল প্রক্রিয়া আছে, বিদেশের মার্কেট, বিদেশি টিভি চ্যানেলের কাছে চলচ্চিত্র বিক্রি করা যায়। শুধু বাংলাদেশের মার্কেটের ওপর নির্ভর করে সিনেমা বানালে লগ্নির অর্ধেক টাকাও উঠে আসবে না।

আট বছর ধরে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন। প্রতি বছর গড়ে ১০টিরও বেশি ছবি নির্মাণ করেছেন, সবই কি লোকসান?

লাভ হচ্ছে না বলেই তো বাইরের মার্কেট খুঁজছি। তা না হলে তো আমরা দেশেই চলচ্চিত্র বানাতাম।

লোকসানের হিসাব থেকে উত্তরণের পথ কি?

কম করে হলেও আমাদের এখন ১০০টা সিনেপ্লেক্স লাগবে। সিনেপ্লেক্স হলে এই অবস্থা থেকে আমরা আশা করি আমাদের চলচ্চিত্রের উত্তরণ করতে পারব।

সিনেপ্লেক্স তো হবে শুনছি, বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে বিভিন্ন সময়ে।

আমি চলচ্চিত্রে আসার বহু আগেই শুনেছি হলগুলো ডিজিটাল হচ্ছে। কিন্তু কেউ তো হল ডিজিটাল করেনি। কেন করেনি বা করতে চায়নি তা জানি না।

সিনেপ্লেক্স করার বিষয়ে জাজের কোনো উদ্যোগ থাকবে কি না?

জাজ প্রযোজনা করে। সিনেপ্লেক্স করার জন্য তো আমাদের পর্যাপ্ত জায়গা নেই। সরকার যদি জায়গা দেয় তাহলে প্রতিটি জেলায় আমি একটি করে সিনেপ্লেক্স করে দেব।

মুম্বাইয়ে ফিল্ম করার ঘোষণা দিয়ে ‘জাজ মাল্টিমিডিয়া ইন্ডিয়া’ নামে নতুন প্রতিষ্ঠান করেছেন বালিগঞ্জে। সেটার খবর কি?

সেখানে আমাদের প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। সেখানকার পলিসি অনুসারেই জাজ মাল্টিমিডিয়া ইন্ডিয়া সেখানে কাজ করছে। মুম্বাইয়ে ফিল্ম করার চিন্তা-ভাবনাও ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত ব্যাটে-বলে মেলেনি। সব ঠিক থাকলে আমরা হয়তো সেখানেও কাজ শুরু করতে পারব।

একই সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায়ও ঝুঁকে পড়েছিলেন? বাংলাদেশে ফিল্ম করবেন না এমন একটা ঘোষণাও ছিল সেটা কেন?

মাঝখানে ভাবছিলাম করব না। আগে জয়েনভেঞ্চার বেশি করেছি। দশটা ছবি করলে পাঁচটা যৌথ প্রযোজনা আর পাঁচটা লোকাল ছবি করেছি। এখন আর যৌথ প্রযোজনায় কোনো কাজ করছি না। কারণ এর নীতিমালাতে অনেক সমস্যা আছে। এখন শুধু লোকাল ফিল্মই করব।

নতুনদের সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে জাজ কিভাবে কাজ করে।

আমরা শুরু করার পর থেকে নতুনদের নিয়ে কাজ করেছি। তাদের অনেকেই এখন তারকা। নতুন অনেকেই আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চায়। তাদের আমরা সেই সুযোগটা করে দিতে চাই। বাপ্পী চৌধুরী, মাহিয়া মাহি, নুসরাত ফারিয়া, রোশান, জলি, পূজা, সিয়ামের মতো নতুন মুখ উপহার দিয়েছে জাজ।

‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ফিল্ম করছেন। এর আগে অনেকেই উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। কাজী আনোয়ার হোসেনের অনুমতি মেলেনি। আপনারা তো অসম্ভবকে সম্ভব করলেন।

আমি যখন ভালোবাসার রং করছি, তখন মাসুদ রানার একটা গল্প চুরি করে বানাইছি। মাসুদ রানার ‘সত্যের ভালোবাসা’ নামে একটা বই আছে, উনি সেটার পারমিশন দেননি। পরে আমি এটা চুরি করে বানাইছি। সো এবার আমরা ওনার সঙ্গে কথা বলছি। সম্ভবত তখন জাজের ওপর তিনি ভরসা বা বিশ্বাস রাখতে পারেননি। আমাদের কিছু কাজ তিনি দেখেছেন। তিনি একটি কথা বলেছেন, বাংলাদেশে যদি কেউ ‘মাসুদ রানা’ বানাতে পারে তবে জাজই পারবে।

তার (কাজী আনোয়ার হোসেন) বই থেকে গল্প চুরি করে ফিল্ম বানিয়েছেন, তিনি কি সেটা জানেন?

তিনি দেখে থাকতে পারেন, তবে বিষয়টা জানেন কি না জানি না। আমাদের পক্ষ থেকেও তাকে বলা হয়নি।

মাসুদ রানা সিরিজের কোনো উপন্যাস থেকে এর প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন?

আমরা তিনটা উপন্যাস নিয়েছি ‘ধ্বংস পাহাড়’, ‘ভারতনাট্যম’ এবং ‘স্বর্ণমৃগ’। ২০১৯ সালের মার্চে আমরা ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের প্রথম সিনেমার শুটিং শুরু করব। প্রথম সিনেমাটি তৈরি করব ‘ধ্বংস পাহাড়’ অবলম্বনে। পরে অন্যগুলো করব আশা করছি।

‘মাসুদ রানা’ খোঁজা কতদূর?

আপনি হয়তো জানেন ‘মাসুদ রানা’ খোঁজা হচ্ছে একটি রিয়্যালিটি শো-এর মাধ্যমে। ইভেন্টটি দেখছে চ্যানেল আই ও ইউনিলিভার। এই রিয়্যালিটি শো-এর মাধ্যমেই মাসুদ রানাকে খুঁজে বের করা হবে। এরই মধ্যে আগ্রহীরা রেজিস্ট্রেশন করছে।

একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। সম্প্রতি রিমেক্স ফুটওয়ারের নামে আপনার নামে ব্যাংক থেকে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ পাওয়া যায়?

আমি এই বিষয়ে কিছুই বলব না। কারণ এটি একটি ভুল এবং মিথ্যা সংবাদ।

বাংলা চলচ্চিত্রের ক্রান্তিকালে আপনি চলচ্চিত্রের হাল ধরেছেন? এই সময়ে অনেকের কাছে হিরো, সেই জায়গায় এই প্রতিবেদন কিভাবে দেখেন।

এই চলচ্চিত্রশিল্পে আমার অনেক শত্রু আছে, তারাই এই প্রতিবেদন করিয়েছে। টাকা দিয়ে আমার নামে অপপ্রচার করিয়েছে। আমি এই বিষয়ে শিগগিরই বিস্তারিত জানাব। তবে এখন আর কিছু বলব না।

আপনি বলছেন চক্রান্ত, কিন্তু ক্রিসেন্ট গ্রুপের মালিক এম এ কাদের একটি দৈনিককে বলেছেন তিনি আপনার ভাই, আপনি জাজের মালিক। জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুছ ছালাম আজাদও একই কথা বলেছেন।

প্লিজ, আমি এই বিষয়ে এখন আর কিছুই বলব না। শিগগিরই আপনাদের তা জানাব।

ঢাকাটাইমস/১৭সেপ্টেম্বর/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত