তিন দিনের রিমান্ডে না.গঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:৪৫ | প্রকাশিত : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:৪২

অস্ত্র মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি।

সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহামুদুল মোহসীনের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করে। এর আগে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ রনির ৭ দিনের রিমান্ডে আবেদন করে। আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে নিখোঁজের পর ১৭ সেপ্টেম্বর সোমবার ভোরে ফতুল্লা দাপা ইদ্রাকপুর এলাকা থেকে মশিউর রহমান রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। তার কাছ থেকে বিদেশি একটি অস্ত্র ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি। পরে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের এসআই আব্দুল শাফিউল আলম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের বলেন, সোমবার ভোরে মশিউর রহমান রনিকে ফতুল্লা থানাধীন দাপা ইদ্রাকপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি বিদেশী অত্যাধুনিক অস্ত্র ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে নানা নাটকীয়তা চলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনির অন্তর্ধান নিয়ে। রনির পরিবার দাবি করে তাকে সাদা পোশাকের পুলিশ ঢাকা থেকে গাড়িতে করে তুলে নিয়ে গেছে। তবে কোনো আইন শৃঙ্খলা বাহিনীই তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেনি। অবশেষে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে সোমবার ভোরে তাকে দাপা ইদ্রাকপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রনির পরিবার গত শনিবার রাত থেকেই দাবি করে আসছিল- শনিবার দিবাগত রাতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে রাজধানী বাড্ডা এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনিকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে রনির সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রনির স্বজনেরা। রনির বাবা ও মা চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিদেশে থেকে ছেলে নিখোঁজের খবরে উদ্বিগ্ন ছিলেন।

 নিখোঁজের পর নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নূরে আলম জানান, “এ বিষয়ে আমাদের কোনো জানা নেই। এ বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য পাইনি।”

ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) শাহ্ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদেরও জানিয়েছিলেন, ‘রনি নামে আমরা কাউকে আটক করিনি।’ একই কথা জানানো হয়ে থাকে সদর মডেল থানা থেকেও। এসব নাটকীয়তা শেষে ১৭ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা থানা পুলিশ স্বীকার করেছে এদিন ভোরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী এমপি একেএম শামীম ওসমানের এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মশিউর রহমান রনি তার ফেসবুকে একটি স্টাট্যাস দেন। ও স্টাট্যাসটি স্থানীয় মিডিয়াতে প্রকাশিত হলে রনিকে নিয়ে বেশ আলোচনা সমালোচনা হয়।

মশিউর রহমান রনি তার স্টাট্যাজে এমপি শামীম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে লিখেছিলেন, শামীম ওসমান সাহেব চ্যালেঞ্জ করেন বিএনপির জন্য নাকি তারা দুই একজন যথেষ্ট। একটু হাসি পাচ্ছে...।'


রনি আরো লেখেন, 'শামীম ওসমান নির্বাচন আসলে নিজে নিজে বিলাই এর মত মিউ মিউ করে বোরকা পরে পালিয়ে যাওয়ার রাস্তা খুঁজে। আগে নিজেকে সেভ করেন পরে বিএনপিকে নিয়ে ভাববেন।

'আমি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে বলতে চাই পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার না করে রাজপথে আসেন, দেখি কার কত হেডাম আছে। বিগত ১২ বছর আন্দোলন করে আসছি। আমার মনে হয় এমন ১২ বছর ক্ষমতার বাহিরে থাকলে আপনে আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিতেন। আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর আদর্শে গড়া তারেক জিয়ার প্রতিষ্ঠিত সৈনিক।

পোস্টের আরেক প্যারায় লেখেন, ‘ইনশাহআল্লাহ খুব তাড়াতাড়ি শামীম ওসমান এর জবাব রাজপথে দেয়া হবে।'

এরপরই গত শনিবার নিখোঁজ হন রনি।

ঢাকাটাইমস/১৭সেপ্টেম্বর/প্রতিনিধি/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত