মুমিনুল-শান্ত প্রস্তুত, আসলে কে?

দেলোয়ার হোসেন, দুবাই থেকে
 | প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৮:০৩

 দুবাইয়ে এখন গরমের শেষ ভাগ। দিনের বেলায় প্রচন্ড খরতাপ, তবে সন্ধ্যা থেকে আবহাওয়া মোটামুটি আরমদায়ক হয়ে ওঠে। দিনের প্রচণ্ড রৌদ্য এড়িয়ে বাংলাদেশ দল সাধারণত অনুশীলন করে পড়ন্ত বিকেল থেকে।

গতকাল দুবাইয়ের স্পোর্টস সিটির আইসিসি একাডেমীর প্রাকটিস গ্রাউন্ডে বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত নেটে ঘাম ঝরালেন ক্রিকেটাররা। তার আগে কিছু সময় জিমে সময় কাটিয়েছেন মাশরাফিরা।

পুরো দল দারুণ ফরফুরে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৩৭ রানের বিরাট জয়ে কার্যত সুপার ফোরে এক পা দিয়ে রেখেছিল টাইগাররা। গতকাল শ্রীলঙ্কাকে ৯৫ রানে হারিয়ে দেয় আফগানিস্তান। মানে এই গ্রুপ থেকে সুপার ফোরে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। ২০ তারিখ আবুধাবিতে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচটা এখন নিয়মরক্ষার হয়ে দাঁড়ালো। কিন্তু গতকাল যদি শ্রীলঙ্কাকে জিতে যেত তবে ম্যাচটা হয়ে উঠতো দুই দলের জন্যই ডু অর ডাই। এই ম্যাচের ফলের দিকে তাকিয়ে থাকত শ্রীলঙ্কাও।

গতকাল অনুশীলন শেষ করে যখন মাশরাফিরা টিম বাসে ওঠে হোটেলের দিকে রওনা হলেন তখন আফগানিস্তান- শ্রীলঙ্কা ম্যাচের ফল নিস্পত্তি হয়নি। জিমে, প্রাকটিস সেশনে এবং বাসে ওঠা পর্যন্ত- প্রতিটা খেলোয়াড়ের শরীরি ভাষা বলে দিচ্ছিল, আফগানিস্তানকে হারাতে তারা প্রস্তুত। যে আফগানিস্তানের কাছ কমাস আগে তিন টি-টোয়েন্টিতেই হারতে হয়েছিল।

নেটে অনেক সময় ব্যাটিং অনুশীলন করলেন মুমিনুল হক। এই মুমিনুল হকের হয়েছে যতো জ্বালা। ৫০ ওভারে ম্যাচে অসংখ্য ভালো ইনিংস খেলেও ডাক পাচ্ছেন না ওয়ানডে দলে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে কি পাবেন? তামিম দলে নেই, ওপেনার  হিসেবে বা দুই নম্বরে হোক, মুমিনুল যে একাদশে যায়গা পাওয়ার দাবি রাখে- একথা টিম ম্যানেজমেন্ট বুঝলে হয়।

গতকাল অনুশীলন শেষ করে যখন প্রাকটিস গ্রাউন্ড ত্যাগ করছিলেন ম্যানেজার খালেদ খালেদ মাহমুদ সুজন, তখন ছোট্র করে জিজ্ঞাস করলাম, ‘মুমিনুল কি একাদশে থাকছে?’ সুজন আরও ছোট্র করে জবাব দিলেন, ‘দেখা যাক।’

দেখা যাকের কি মানে সেটা সুজনই ভালো জানেন। তবে মুমিনুল কিন্তু পুরোপুরি প্রস্তুত। নেটে অনেক সময় ব্যাটিং প্রাকটিস করার পর মোসাদ্দেকের সঙ্গে রানিং বিটুইন দ্য উইকেট প্রাকটিস করে নিলেন। ২০১২ সালে ওযানডে অভিষেক, শেষ ৫০ ওভারের ম্যাচ খেলেছেন ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। প্রায় সাড়ে তিন বছর জাতীয দলের হয়ে ওয়ানডে খেলেননি মুমিনুল।

ওদিকে তামিমের ইনজুরির কারণে একাদশে ঢোকার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন অলরাউন্ডার নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি মিডল অর্ডারে ব্যাট করেন এবং সঙ্গে অফ স্পিন বোলিং করেন। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে দেশের হয়ে না খেললেও গত বছর টেস্ট খেলেছেন একটি। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই টেস্টে অসফল তিনি। সর্বশেষ আয়ারল্যান্ড সফরে ‘এ’ দলের হয়েও তেমন রান পাননি শান্ত।

গতগাল অনুশীলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি বললেন, ‘ওয়ানডে অভিষেকের জন্য আমি পুরোপুরি প্রস্তুত। মিডল অর্ডার বা দলের প্রয়োজনের ওপেনিংয়ে নামতেও আমি প্রস্তুত।’

মুমিনুল প্রস্তুত, শান্ত প্রস্তুত। আসলে একাদশে থাকছেন কে?অনেকেই বলছেন মুমিনুলকে বাইরে রেখে শান্তকে একাদশে রাখলে সেটা হবে ভুল সিদ্ধান্ত। পরশুর ম্যাচটা যেহেতু নিয়মরক্ষার তাই শান্তকে দিয়ে একটা পরীক্ষা নিরীক্ষা চালালেও চালাতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে এই লেভেলে শান্ত আসলে কতটা প্রস্তুত, সেই প্রশ্নও আছে।

(ঢাকাটাইমস/১৮সেপ্টেম্বর/ডিএইচ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত