ড. কামালদের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়: ইনু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:৫৭

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ড. কামাল হোসেনরা যে পাঁচটি প্রস্তাব দিয়েছেন এটা অগ্রহণযোগ্য। এ প্রস্তাব মেনে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাদের পাঁচ দফা মেনে নিলে সাংবিধানিক সংকট তৈরি করবে। তাদের প্রস্তাব মানতে গেলে সরকারের সময়সীমা শেষ হবে, সংসদ শেষ হবে, সংবিধানও শেষ হবে। তখন একটি সাংবিধানিক শূন্যতাও তৈরি হবে। এ সুযোগে একটি অস্বাভাবিক ভূতের সরকার বাংলাদেশের ওপর আছড় করবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। 

হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে ব্যবস্থা বাতিল হয়েছে, সেখানে বিচার বিভাগকে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত না করার সুস্পষ্ট রায় রয়েছে। সুতরাং সেই অবস্থায় বিচার বিভাগকে বাদ দিয়ে নিরপেক্ষ ব্যক্তি খুঁজতে হবে। তাহলে এখানে পরিষ্কার যে, সবগুলো রাজনৈতিক দল একমত না হলে নির্দলীয় সরকার গঠন সম্ভব হবে না। তা কীভাবে সম্ভব হবে?’

ইনু বলেন, ‘নির্বাচনের তিন মাস বাকি। কিছু ব্যক্তি নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ না করে নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা না করে সংবিধান বহির্ভূতভাবে শেখ হাসিনা সরকারের পতদ্যাগ ও সংসদ বাতিলের দাবি করছে। এটা সাংবিধানিক একটি শূন্যতা তৈরি করে দেবে। এই মুহূর্তে যদি একটি নির্বাচিত সরকার পদত্যাগ করে এবং সংসদ বাতিল হয়ে যায় তাহলে দেশটি একটি সাংবিধানিক শূন্যতায় পড়ে যায়। তাহলে এই অন্তবর্তী সময়ে কে দেশ চালাবে?’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের মনে আছে বিএনপি এর আগে বলেছিল, বাংলাদেশে যতগুলো দল আছে সব দলের সাথে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করতে হবে, ততক্ষণ যতক্ষণ ঐক্যমত তৈরি না হয়। তাহলে এভাবে আলোচনা করে যতক্ষণ পর্যন্ত ঐক্যমতে না যায় ততক্ষণ পর্যন্ত তথাকথিত নির্দলীয় সরকারের ১০ জন ব্যক্তি মনোনয়ন দিতে পাচ্ছেন না। অপরদিকে সাংবিধানিকভাবে নির্বাচনটা নির্দিষ্ট সময়ে করতে হবে। পাঁচ বছরের আগে করার বিধান আছে, কিন্তু এ সময় অতিক্রম করতে পারবেন না। এমনকি ৫ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। তাই তারা যে নির্দলীয় ব্যক্তিদের দিয়ে সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন এটা যৌক্তিক নয়। তারা বলেছেন নির্দলীয় ব্যক্তি। আসলে কারা নির্দলীয় ব্যক্তি? সবাইতো কোনো না কোনো দলকে সমর্থন করে।’

যুক্তফ্রন্টের দাবির বিষয়ে ইনু বলেন, এই দাবিগুলো টোটালি বিএনপি জামায়াতের দাবির ফটোকপি মাত্র। সেনা মোতায়েনের দাবি আমরা নাকচ করছি। আগামী নির্বাচন নিয়ে তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বা দাবি নেই। এটা শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক দাবি। সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তাকৃতদের মুক্তির যে দাবি তারা করছে, এখানে ‘সব রাজনৈতিক দল’শব্দের আড়ালে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মামলা, গ্রেপ্তার, দণ্ডিত একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা, জঙ্গি, সন্ত্রাস ও আগুন সন্ত্রাসের অভিযোগে আটক বা দণ্ডিতদের মুক্তি চাওয়ার নামান্তর।’ 

(ঢাকাটাইমস/১৮সেপ্টেম্বর/এমএম/জেবি)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত