চারলেন হচ্ছে হাটহাজারী-রাউজান মহাসড়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৩০

চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কের হাটহাজারী-রাউজান অংশ চারলেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৫২৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজকের সভায় মোট ১৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এতে মোট ব্যয় হবে ১২ হাজার ৫৪৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

একনেক সভা শেষে প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, এ প্রকল্পের মাধ্যমে হাটহাজারী থেকে রাউজানের (পার্বত্য জেলার সীমানা) ঢালারমুখ পর্যন্ত মহাসড়কটি চারলেনে উন্নীত হবে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫২৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এর পুরোটাই বহন করবে সরকার। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় প্রকল্পটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক চলতি বছর থেকে ২০২১ পর্যন্ত মেয়াদকালে বাস্তবায়িত হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানা যায়, চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের অধীন চট্টগ্রাম-রাঙামাটি (এন-১০৬) জাতীয় মহাসড়কের হাটহাজারী (চেইনেজ ১২+৫০০) থেকে শুরু হয়ে একই সড়কের ৩১তম কিলোমিটারে (চেইনেজ ৩০+৮০০) রাউজান উপজেলার প্রান্তসীমায় শেষ হয়েছে। সড়কটি চট্টগ্রাম জেলা ও রাঙামাটি জেলার সংযোগ সড়ক এবং একই সঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা ও খাগড়াছড়ি জেলার সংযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই সড়কের প্রথম ১২.৫০ কিলোমিটার অর্থাৎ চট্টগ্রাম (অক্সিজেন মোড়) থেকে হাটহাজারী পর্যন্ত ইতোমধ্যে অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গত বছর সম্পন্ন হয়েছে।

হাটহাজারী থেকে রাউজান পর্যন্ত অবশিষ্ট প্রস্তাবিত সড়কাংশের দৈর্ঘ্য ১৮.৩০ কিলোমিটার এবং বিদ্যমান প্রস্থ ৫.৫০ মিটার। ট্রাফিক ভলিউম বেশি হওয়ায় প্রস্তাবিত সড়কাংশ জরুরি ভিত্তিতে প্রশস্ত করা প্রয়োজন। বেশ কয়েকটি স্কুল, কলেজ, গুরুত্বপূর্ণ হাটবাজার, ঐতিহাসিক স্থাপনা ইত্যাদি সড়কটির পাশে অবস্থিত।

সড়কটি হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, রাউজান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের আন্তঃসংযোগ স্থাপন এবং পণ্য সামগ্রী পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। রাস্তার অপ্রশস্ততার কারণে যানবাহন কাঙ্ক্ষিত গতিতে চলাচল করতে পারছে না এবং প্রতিদিন দীর্ঘ ট্রাফিক জ্যামের ফলে মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। প্রস্তাবিত ১৮.৩০ কিলোমিটার সড়কাংশ বর্তমানের দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীতকরণ করা হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রাম মহানগর থেকে রাউজান উপজেলা হয়ে রাঙামাটির সাথে উন্নত ও দ্রুততর সংযোগ স্থাপিত হবে।

বর্তমানে দুই লেন বিশিষ্ট সড়কটির প্রস্থ ৫.৫ মিটার। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় সড়কটির প্রস্থ ১৫.৮ মিটার ক্যারেজওয়ে (চার লেন), ১.৫ মিটার মিডিয়ান এবং প্রতি পার্শ্বে ১.৫ মিটার করে হার্ডসোল্ডারসহ মোট ২০.৩ মিটার প্রস্থে উন্নীত করা হবে।

অনুমোদিত  প্রকল্প গুলো হচ্ছে, বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল, মিরসরাই প্রথম পর্যায় প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭৫০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী স্থাপন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৫৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম-রাঙামাটি জাতীয় মহাসড়ক (এন-১০৬) এর হাটহাজারী হতে রাউজান পর্যন্ত সড়কাংশ ৪-লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৫২৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। জামালপুর-মাদারগঞ্জ সড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতি করণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১২৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৪৬১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। ভারতের সাথে রেল সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে চিলাহাটি এবং চিলাহাটি বর্ডারের মধ্যে রেল পথ নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৮০ কোটি ১৭ লাখ টাকা। গোপালগঞ্জ জেলায় বিএআরআই এর কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন ও দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ প্রতিবেশ উপযোগী গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৫৭ কোটি টাকা।

বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১১১ কোটি ৯১ লাখ টাকা। গোপালগঞ্জ-খুলনা-বাগেরহাট-সাতক্ষীরা-পিরোজপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৮২ কোটি ৬৫। বিসিএস ইকনমিক একাডেমি প্রতিষ্ঠা প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৫৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। বাংলাদেশ বেতার, শাহবাগ কমপ্লেক্স, আগারগাঁও, ঢাকায় স্থানান্তর, নির্মাণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১১৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। খুলনা শহরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৮২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। নির্বাচন ব্যবস্থায় অধিকতর স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ক্রয়, সংরক্ষণ ও ব্যবহার প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রোগ্রাম ফর সার্পোটিং রুরাল ব্রিজেস প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে চার হাজার ৯৭১ কোটি টাকা।

(ঢাকাটাইমস/১৮সেপ্টেম্বর/জেআর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত