গুজব-সন্ত্রাসে কওমি মাদ্রাসা জড়িত নয়: হানিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৪৯

উগ্রতা, ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে গোলযোগ সৃষ্টি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে মুসলমানদের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কওমি মাদ্রাসা কোনোভাবেই জড়িত নয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। তিনি বলেন, এসবের পেছনে রাজনৈতিক সুবিধাভোগীরা জড়িত।

মঙ্গলবার রাজধানীর বারিধারা কূটনৈতিক পাড়ার একটি হোটেলে মুভ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ ও ভুয়া কন্টেন্ট: চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

হানিফ বলেন, এ সরকার ক্ষমতায় আসার পরপর কক্সবাজারের রামু ও উখিয়ায়, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায় ধর্মী উস্কানি দিয়ে যে ঘটনা ঘটানো হয়েছে, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় গুজব ছড়িয়ে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হয়েছে, এসবের পেছনে রাজনৈতিক সমর্থন ও সহযোগিতা ছিল। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী জামায়াত ইসলামি এসব করেছে, লন্ডন থেকেও এর জন্য ফোন এসেছে।

তিনি বলেন, মাদ্রাসা ছাত্ররা কোনো উগ্রবাদী দলে বা কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দল যারা উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের পর রাজনৈতিক সুবিধা পাবে, তারাই এতে জড়িত। আমাদের আগে সংগঠিত ঘটনার পেছনে উপকারভোগী কারা বের করতে হবে। তাহলেই কারা এতে জড়িত বেরিয়ে আসবে।

মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আওয়ামী লীগের এ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, যে কেউ তার নাম ও পরিচয় প্রকাশ করে মত প্রকাশ করতেই পারে। তবে নাম পরিচয় গোপন করে ভুয়া আইডি থেকে অপপ্রচার ও বা বিভ্রান্তি ছাড়াতে পারে না। যদি কেউ এটা করে, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। এমন বাক স্বাধীনতা আমরা চাই না, যেটা সমাজে হানাহানি সৃষ্টি করে। এমন গণতন্ত্র আমরা চাই না, যে গণতন্ত্রের নামে মানুষ পোড়ানোর মত ঘটনাও ঘটে।

সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে হানিফ বলেন, আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকা উচিত। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ব্যবহারে আরও সচেতন হওয়া উচিত। এর নেগেটিভ প্রভাবও জানা দরকার।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন আমাদের মধ্যকার যোগাযোগ সহজ করেছে। তেমনি পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধও কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে বিবাহ বিচ্ছেদ বেড়ে গেছে।

ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় এতে মূল প্রবন্ধ পেশ করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান।

আলোচনায় অংশ নেন কানাডিয়ান হাইকমিশনার বিনয় প্রিপনটেইন, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক গোলাম রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের নেতা মাওলানা আলতাফ হোসাইন, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ ইবরাহীম বীর প্রতীক, বিএনপির নেতা ব্যারিস্টারর সারোয়ার, আওয়ামী লীগের উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, হুমায়ূন কবির, অজয় দাস গুপ্ত, কওমী মাদরাসা ছাত্রদের পেইজের এডমিন সালাহ উদ্দিন জাহাঙ্গীর প্রমুখ।

ঢাকাটাইমস/১৮সেপ্টেম্বর/টিএ/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত