নারীর সঙ্গে করমর্দন, হিরার আংটি খোয়ালেন চিকিৎসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৫৮

পথেঘাটে লোকজনের সঙ্গে হাত মেলানো যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নামি চিকিৎসক মোহনচাঁদ শীল।

আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, কলকাতার একজন প্রথম সারির ইউরোলোজিস্ট তিনি। কয়েক দশক ধরে কলকাতায় কয়েক হাজার রোগীর চিকিৎসা করেছেন। তাই রাস্তাঘাটে হামেশাই দেখা হয়ে যায় তাদের অনেকের সঙ্গে। তিনি নিজে চিনতে না পারলেও তাকে মনে রেখে দিয়েছেন রোগী বা রোগীর পরিবার। তাই কথা বলতেই হয়। কিন্তু তার পরিণতি যে এতটা মারাত্মক হবে, তা স্বপ্নেও ভাবেননি ওই চিকিৎসক।

সে দিন রাত সাড়ে আটটা নাগাদ মোহনচাঁদ বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন পাড়ার সেলুনে চুল কাটাতে। এন্টালি থানা এলাকার সাবেক কনভেন্ট লেন বা ননীগোপাল রায় চৌধুরী সরণির বাড়ি থেকে সেলুনের দূরত্ব কয়েক মিনিটের হাঁটা পথ।

৭৩ বছরের চিকিৎসক তাই পায়ে হেঁটেই যাচ্ছিলেন। সিআইটি রোডের মুখে সন্ধ্যা সুইটস। সেখানে পৌঁছাতেই এক মধ্য বয়সী নারী তার দিকে এগিয়ে আসেন। ওই নারী তাকে নাম ধরে সম্বোধন করেন। সেই নারীর সঙ্গে কথা বলতে বলতেই তিনি আরও খানিকটা পথ হাঁটেন। তারপর সেলুনের পথে যাওয়ার আগে ওই নারীর সঙ্গে করমর্দনও করেন।

সব কিছুই ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু বাড়ি ফিরেই আক্কেলগুড়ুম। ডান হাতের অনামিকায় যে বড়সড় হিরার আংটি ছিল, তা গায়েব। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও হদিস মেলে না তার আংটির। শেষে তার সন্দেহ হয় ওই নারীকেই।

পরের দিনই ১৬ সেপ্টেম্বর, তিনি এন্টালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, লিখিতভাবে অভিযোগ করে ওই দিনের ঘটনার কথা জানিয়েছেন ওই চিকিৎসক।

তদন্তকারীদের তিনি জানিয়েছেন, ওই নারীকে তিনি চিনতে পারেননি। তবে ওই নারী নিজেকে একজন রোগী হিসাবে পরিচয় দিয়েছিলেন।

এক তদন্তকারী বলেন, ‘ওই নারী মোহনচাঁদকে নিজের বাড়ি নিয়ে গিয়ে চা খাওয়ানোর জন্য জোরাজুরিও করেছিলেন।’

পুলিশ সূত্রে খবর, মোহনচাঁদ তদন্তকারীদের বলেছেন তিনি চা খেতে পারবেন না জানিয়ে যখন ওই নারীর সঙ্গে যখন হাত মিলিয়েছিলেন, তখন একটা হালকা টান অনুভব করেছিলেন আঙুলে। কিন্তু তখন কিছু খেয়াল করেননি।পরে যখন আংটি বেপাত্তা দেখেন, তখন বিষয়টি তার মনে পড়ে।

তদন্তকারীরা বৃদ্ধ চিকিৎসকের বর্ণনা অনুযায়ী ওই নারীর কয়েকটি স্কেচও তৈরি করেছেন। মোহনচাঁদের বর্ণনা অনুযায়ী, নারী সুবেশা এবং সম্ভ্রান্ত। ইংরেজি ও বাংলা মিশিয়ে কথা বলছিলেন। সব মিলিয়ে মোহনচাঁদের সন্দেহের কোনও কারণ ছিল না।

কলকাতা গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা নতুন ঘরানার ছিনতাইয়ের ঘটনা। পূজা আসলেই এদের উৎপাত শুরু হয়। এদের অধিকাংশকেই দেখলে বোঝা যায় না।’

যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে কোনও সিসি ক্যামেরা ছিল না। পুলিশ আশেপাশের রাস্তায় লাগানো সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। সেখান থেকে অভিযুক্তের হদিস পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। পাশাপাশি পুরনো ছিনতাইকারীদের ছবিও দেখানো হচ্ছে বৃদ্ধ চিকিৎসককে। কিন্তু এরপর রাস্তাঘাটে অজানা কারও সঙ্গে করমর্দন? ঘটনা শুনে হাত গুটোচ্ছেন অনেকেই।

(ঢাকাটাইমস/১৮সেপ্টেম্বর/এসআই)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত