মুঠোয় তোলা চাল বন্যার্তদের দিলেন আদিবাসীরা

ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
 | প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:০৬

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার আদিবাসী পরিবারগুলোকে বছরের অর্ধেক সময় পার করতে হতো অনাহারে। তাই খাদ্য নিরাপত্তায় তারা নিজেরাই গড়ে তোলেন ‘রক্ষাগোলা নামের একটি গ্রাম সমাজ সংগঠন। এই সংগঠনের সদস্যরা প্রতিদিনের রান্না থেকে এক মুঠো চাল  জমা রাখেন।

পরে প্রতি সপ্তাহে জমাকৃত চাল দেন রক্ষাগোলায়।  নিজের অভাবের সময় প্রয়োজন মতো চাল সেখান থেকে নিয়ে রান্না করেন।

তবে আদিবাসীরা এবার রক্ষাগোলা থেকে ৩৩৩ কেজি চাল দিয়েছেন বন্যার্তদের জন্য।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিমুল আক্তার ও উপজেলা চেয়ারম্যান  ইসহাককে এই চাল বিতরণের জন্য দিয়েছেন আদিবাসীরা। শনিবার এসব চাল উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের বন্যাকবলিত মানুষদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

এই ইউনিয়নের প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার এখন পদ্মা নদীর উপচেপড়া পানির বন্যায় দিশেহারা।

আদিবাসীদের মুঠোয় তোলা চাল ইউএনওর কাছে হস্তান্তরের সময় গোদাগাড়ীর ৩০টি রক্ষাগোলা সমাজগৃহের সভাপতি প্রসেন এক্কা, সদস্য নিরঞ্জন কুদুর, সুদক্ষণ টপ্পো, ঘরেস লাকড়া, ঝর্ণা এক্কা, শ্রীদেবী এক্কা, বেসরকারি সংস্থা সিসিবিভিওর প্রকল্প সমন্বয়ক নিবারুল ইসলাম, প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক মাহবুব জামান তপন, মনিটরিং কর্মকর্তা শিহাব হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, বরেন্দ্রের আদিবাসী পরিবারগুলো ২০০১ সালের দিকে যখন চরম খাদ্যঝুঁকিতে থাকতেন, তখন সিসিবিভিও তাদের রক্ষাগোলা গ্রাম সমাজ সংগঠন প্রতিষ্ঠায় উদ্বুদ্ধ করে।

প্রথমে পাঁচটি গ্রামের আদিবাসীরা এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে এখন প্রায় সব গ্রামেরই আদিবাসীরা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন। পুরো গোদাগাড়ীতে গড়ে উঠেছে ৩০টি রক্ষাগোলা গ্রাম সমাজ সংগঠন। এক হাজার ২৩০ পরিবার এখন রক্ষাগোলার সদস্য। এ সংখ্যা ৬ হাজার ২৩৬ জন।

সিসিবিভিওর প্রকল্প সমন্বয়ক নিবারুল ইসলাম জানান, এখন ৩০টি রক্ষাগোলায় প্রায় ৮৬ হাজার কেজি চাল মজুত রয়েছে। রক্ষাগোলা থেকে এর সদস্যরা ইতোমধ্যে ৭৩ হাজার কেজি চাল খাদ্যসহায়তা হিসেবে নিয়েছেন। রক্ষাগোলার চাল বিক্রি করে আদিবাসীরা ৪৫ লাখ ৪৩ হাজার ৪২৪ টাকা সঞ্চয়ও করেছেন। এই টাকায় তারা এখন গ্রামে স্কুল আর চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন।

(ঢাকাটাইমস/২০সেপ্টেম্বর/আরআর/ওআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত