সরকারি পুকুরে বর্জ্য অপসারণ, বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:০৬

গাজীপুরের শ্রীপুরের তেলিহাটি ইউনিয়নের দেওয়ানেরচালা গ্রামে সরকারি খাস পুকুরে বর্জ্য অপসারণে স্থানীয় পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে সাথে সাথে পুকুরপাড়ের ভূমিহীন বাসিন্দাদেরও চরম ভোগান্তি হচ্ছে।

তেলিহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার শিক্ষক ফারুক হোসাইন নামে এক ব্যক্তি মৃত্তিকা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে পুকুর ইজারার নিয়ে পুকুরে একদিকে আফ্রিকান মাগুরের চাষ করছেন, অপরদিকে পুকুরে বিভিন্ন কারখানার বর্জ্য অপসারণ করে ভরাট করছেন। ফারুক হোসাইন উপজেলার দড়িখোঁজেখানি গ্রামের ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, তেলিহাটি মৌজার এসএ ১৩৮১,৩০১ ও আরএস ২৫৯২,২৫৯১ দাগের সরকারি পুকুরটি সরকারের ১নং খতিয়ানের খাস পুকুর।

ওই পুকুরপাড়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন কয়েকশ লোক। হতদরিদ্র মানুষের প্রাত্যহিক দিনের প্রয়োজনীয় পানির যোগানের একমাত্র ব্যবস্থা এই পুকুর। পুকুরপাড়ের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে সরকার হতে ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করত। কিন্তু গত বছর পুকুরপাড়ের বাসিন্দাদের অগোচরে শ্রীপুর সদর এলাকার মৃত্তিকা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নাম ব্যবহার করে তেলিহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারুক হোসাইন পুকুরটি ইজারা নিয়ে বিভিন্ন কারখানার ময়লা আবর্জনা অপসারণ করছেন। পুকুরে সরকারি নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুরের চাষ করে এতে বিভিন্ন স্থান থেকে মরা পশু পাখি এনে খাদ্যের যোগান দিচ্ছেন। বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা ও মরা পশু পাখির প্রকট দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ ভারি হয়ে আসে- যেন পুকুরপাড়ে বসবাস করাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।

পুকুরপাড়ের বাসিন্দা রিপন মিয়া  বলেন, আমরা এই পুকুরে উপর নির্ভর করেই এখানে বসবাস করছি। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে পুকুরে পচা আবর্জনা অপসারণ করায় প্রকট দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়, এতে বসবাস করাই দায় হয়ে পড়েছে।

গৃহবধূ মাসুদা আক্তার জানান, এই পুকুরের পানি এখন বিষ, আমাদের অত্যাচারের জন্যই ফারুক মাস্টার এই ব্যবস্থা করছেন- যাতে আমরা পুকুর পাড় ছেড়ে চলে যাই।

পুকুরপাড়ের বাসিন্দা পান ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার জানান, আমরা গত কয়েক যুগ ধরে সরকারি পুকুরপাড়ে বসবাস করছি, হঠাৎ কয়েক দিন আগে ফারুক মাস্টার আমাদের পুকুর পাড় ছেড়ে যেতে বলে, তবে আমরা না যাওয়ায় এখন অত্যাচার করছেন, বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা অপসারণ করা ছাড়াও তিনি পুকুর ভরাট করছেন।

তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড সদস্য হাসান হাফিজুল রহমান দিপক জানান, স্থানীয়দের অভিযোগে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রকট দুর্গন্ধে এখানে স্থানীয় পরিবেশ ভারী হয়ে আসে। বিষয়টি প্রশাসনের লোকজনকে অবহিত করেছি।

অভিযুক্ত ফারুক হোসাইন জানান, আমি শ্রীপুরের একটি সমিতির নামে পুকুরটি ইজারা নিয়েছি, তবে ময়লা আবর্জনা অপসারণের বিষয়ে কোন উত্তর দিতে পারেননি। এছাড়াও আফ্রিকান মাগুর চাষের বিষয়েও কোন কথা বলেননি।

শ্রীপুর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা বদিউজ্জামান জানান,এ বিষয়ে সরেজমিন তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আকতার জানান,নীতিমালা অনুযায়ী শর্ত সাপেক্ষে পুকুর ইজারা দেয়া হয়েছে মৎস্য চাষের জন্য। পুকুরে ময়লা আবর্জনা ফেলে ভরাটের কোন সুযোগ নেই- এমন হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(ঢাকাটাইমস/২০সেপ্টেম্বর/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত