নদী দখল রোধে ইকোপার্ক ওয়াকওয়ে দেয়াল উঠছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:০৬ | প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৩১
ফাইল ছবি

ঢাকার চারপাশের নদী দখল রোধে ইকোপার্ক, ওয়াকওয়ে ও খাড়া দেয়াল নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীসহ ঢাকার চারপাশে নদীগুলোর দূষণরোধ এবং নাব্য বৃদ্ধি সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের ৩৮তম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভাশেষে নৌপরিবহনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ইতোমধ্যে নদীর পাড় থেকে ৯ হাজার ৫০০ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ৫০১ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে। নদীর পাড়ে ২০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মিত হয়েছে। ৫ অক্টোবর আশুলিয়াতে ৫০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। বাকি ১৫০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণকাজের প্রকল্প গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

শাজাহান খান আরও বলেন, নদীর সীমানা চিহ্নিত করতে ৯,৫৭৭টি পিলার স্থাপন করা হয়েছে। আরও ১০ হাজার ৪০০ পিলার বসানো হবে। এসব পিলার হবে অত্যন্ত মজবুত এবং দৃশ্যমান। এ ছাড়া ১৯টি আরসিসি জেটি নির্মাণ করা হবে। এতে নদী দখলের হাত থেকে রক্ষা পাবে।

নদীর সীমানা নির্ধারণ অত্যন্ত জটিল কাজ বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই জটিলতা নিরসনে জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে।

নদীতীরে বনায়ন ও সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকার শ্যামপুর ও নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে দুটি ইকোপার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। আশুলিয়া, সিন্নিরটেক ও টঙ্গিতে আরো ৩টি ইকোপার্ক নির্মাণ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

শাজাহান খান জানান, সাভারের নতুন ট্যানারি পল্লিতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিটিইপি) নির্মাণ যেভাবে হওয়ার কথা সেভাবে হয়নি বলে আজকের টাস্কফোর্সের সভায় জানা গেছে। এই জটিলতা নিরসনে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে অচিরেই এর সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।

নদীদূষণের বিষয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, এখনই সতর্ক না হলে ধলেশ্বরী নদী দূষিত হবে। সরকার ঢাকার খালগুলো উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৪৬টি খালের মধ্যে ২৬টি খাল শনাক্ত করা হয়েছে। ১৩টি খাল সংস্কারের কার্যক্রম চলছে।

গাজীপুর ও নরসিংদীতে নতুন করে কোনো শিল্প-কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেয়া হবে না বলে জানান নৌমন্ত্রী। এই মহানগরগুলোর অভ্যন্তরে যেসব শিল্প-কারখানা রয়েছে সেগুলো পর্যায়ক্রমে ইপিজেডে নিয়ে যাওয়া হবে।

নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, ঢাকা, গাজীপুরের টঙ্গী এবং মুন্সীগঞ্জে নদীর পাড় ঘেঁষে যেসব সিমেন্ট কারখানা গড়ে উঠেছে এগুলো যেন নতুন করে আর নদী দখল করতে না পেরে সেজন্য তাদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে। সরকারের নির্দেশনা না মানলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নদী ও খাল দখলে বন্ধে পাড় সংরক্ষণে খাড়া দেয়াল তোলা হবে বলে জানান মন্ত্রী। স্লোব করে নদীতীর বা খালপাড় বাঁধাই করা যাবে না। খাড়া (সোজাসুজি) করে তীর বাঁধাই করতে হবে যাতে সেগুলো দখল হতে না পারে। প্রয়োজনে ওয়াকওয়ের সাথে ড্রাইভওয়ে নির্মাণ  করতে হবে। 

নৌপরিবহনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহামুদ এবং ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও এসপিরা উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/২০সেপ্টেম্বর/এমএম/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত