বিচার বিলম্বিত করতে চাইছেন খালেদা: বিচারক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৩৪
ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হয়ে ইচ্ছা করেই বিচারে বিলম্ব ঘটাতে চাইছেন বলে মন্তব্য করেছেন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারক আখতারুজ্জামান।

বিএনপি নেত্রীর অনুপস্থিতিতে বিচারের আদেশ দিয়ে বিচারক বলেছেন, অবস্থায় বিচার হলেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

বৃহস্পতিবার আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার। দুদকের পক্ষে ছিলেন মোশাররফ হোসেন কাজল।

আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

দুদক ও আসামিপক্ষের শুনানির শেষে বিচারক আদেশ দেয়ার সময় বলেন, ‘মামলাটি সাত বছর ধরে চলছে। বিচার পর্যায়ে বেগম জিয়ার পক্ষে ৪০ বার সময় নেওয়া হয়েছে। আত্মপক্ষ শুনানিতে ৩২ বার সময় নেয়া হয়েছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি আর আদালতে আসেনি। গত ৫ সেপ্টেম্বর এসে বলেছেন বারবার আসতে পারবেন না। গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরও তিনি আদালতে আসতে অনিচ্ছুক মর্মে জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবারও তিনি আদালতে আসতে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এতে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয় যে খালেদা জিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে মামলার বিচারকাজকে বিলম্বিত করার জন্য আদালতে আসছেন না।’

‘অথচ মামলার অপর দুই আসামি প্রতিদিন হাজির হচ্ছেন। তাই ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪০ (এ) ধারা প্রয়োগের মাধ্যমে তার হাজিরা মওকুফ করে বিচার কাজ শুরু করলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। মামলাটিও দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে। তাই ৫৪০ (এ) ধারা প্রয়োগ করে আসামি বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতি মওকুফ করা হলো।’

বিচারক আখতারুজ্জামান ১১ টা ৩৩ মিনিটে বিচারক বিচারকাজ শুরুর জন্য এজলাসে ওঠেন। প্রথমে দুদকের প্রসিকিউটর মোশারফ হোসেন কাজল বলেন, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে কি না ও তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি সংক্রান্তে আদেশ এবং যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য আছে। এ সংক্রান্তে আদেশ দিতে আদালতের কাছে অনুরোধ করছি।’

এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘আমরা ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) সঙ্গে বুধবার দেখা করেছি। আমাদের বলেছেন, তিনি আদালতে আসতে অনিচ্ছুক নন। অসুস্থতার জন্যই আদালতে আসতে পারছেন না। সুস্থ হলেই তিনি আদালতে আসবেন। আমরা বিশেষায়িত একটি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য আদালতেও একটি আবেদন দিয়েছি।’

‘মাননীয় আদালত আপনি জানেন, ম্যাডাম তার ছেলের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনও আপনার আদালতে এসেছেন। এ সময় বিচারক বলেন, আমি কিন্তু সেদিন তাকে আসতে বলিনি। বলেছিলাম আপনি না আসলেও বলবে। কিন্তু তারপরও তিনি এসছিলেন। ...ম্যাডামকে সুস্থ হওয়ার সুযোগ দিন। তিনি আদালতে উপস্থিত থেকে মামলার বিচারকাজ দেখতে চান।’

এরপর আরেক আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, ‘খবরে দেখলাম আইজি প্রিজন কাছে মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ চলে এসছে। খুব শিগগিরই হয়ত হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা হবে। আর ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪০ (এ) ধারায় অনুপস্থিতিতে বিচারে বিষয়ে যদি বলার সুযোগ দেন।’

তখন বিচারক বলেন, ‘আজ এ সম্পর্কে কোন কিছু বলার সুযোগ নেই। গত ১৩ সেপ্টেম্বর আপনাদের বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, আপনারা বলেন নাই। আজ আদেশের জন্য আছে।’

এরপর উপস্থিত আসামি মনিরুল ইসলাম খান ও জিয়াউল ইসলাম মুন্নার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম ও আখতারুজ্জামান বলতে গেলে বিচারক বলেন, ‘আপনাদের আসামি উপস্থিত, আপনারা এ বিষয়ে কিছু বলতে পারেন না।’

এরপর আইনজীবী আমিনুল বলেন, ‘বলতে পারি।’

বিচারক বলেন, ‘আপনি (আইনজীবী আমিনুল) গত ১২ সেপ্টেম্বর কোরামের প্রশ্ন তুলেছিলেন। কথা ছিল গত ১৩ সেপ্টেম্বর আপনি এ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিবেন, কিন্তু দেন নাই।’

উত্তরে আইনজীবী আমিনুল বলেন, ‘মাননীয় আদালতে আপনি আদেশ দেবেন দেন। আমরা বাধা দিচ্ছি না। তবে আমরা আজ সম্পূরক বক্তব্য দিতে পারি। এভাবে যদি আমাদের কথা বলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয় তাহলে ন্যায়বিচার কীভাবে হবে।’

বিচারক বলেন, ‘আপনি তো বেগম জিয়ার আইনজীবী নন।’

আইনজীবী আমিনুল বলেন, ‘আমি বেগম জিয়ার পক্ষে বলছি না, আমি আমার আসামির পক্ষে বলছি।’

এরপর বিচারক বলার অনুমতি দেন। এরপর আইনজীবী আমিনুল ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪০ (এ) ধারার বিধান কারাগারে থাকা আসামির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় উল্লেখ করে পাকিন্তানের লাহোর হাইকোর্টের একটি সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন। এছাড়া বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে এ সংক্রান্তে কোন সিদ্ধান্ত নেই বলেও জানান।

এরপর আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪০ (এ) ধারায় দরখাস্ত দেওয়ার এখতিয়ার প্রসিকিউশন (দুদক) পক্ষের নেই। এ দরখাস্ত আসামিপক্ষকেই দিতে হবে। তাই তার আবেদন খারিজ হবে।’

উত্তরে দুদকের পিপি কাজল বলেন, ‘আমিন সাহেব যে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত দিয়েছে তা একজন পলাতক আসামিকে নিয়ে। আমরা কোন পলাতক আসামিকে নিয়ে কথা বলছি না। আমাদের এখতিয়ার নেই এমন কথা এখানে নেই। তাদের কথা অনুযায়ী যদি আদালত চলে তাবে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পরবে।’

বিচারক আদেশ প্রদানের সময় বলেন, ‘আদালতের সামনে এখন চারটি প্রশ্ন। ১. ৫৪০ (এ) ধারার দরখাস্ত পিপি সাহেব দিতে পারেন কি না? ২. কোন দরখাস্ত ছাড়া আদালত নিজে এই ধারার প্রয়োগ করতে পারে কি না। এই অবস্থায় খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা যাবে কি না এবং ৪. এ অবস্থায় যুক্তিতর্ক শুনানি করা যাবে কি না।’

এরপর বিচারক দুদকের পিপির দরখাস্ত এবং আসামিপক্ষের বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার পক্ষে ৩২ বার সময় নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তারা সময় নিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়ার ওকালতনামায় দেখা যায় ১২৬ জন আইনজীবী রয়েছেন। তার আইনজীবীরা এ মামলায় গৃহীত ৩৩ জন সাক্ষীকে জেরাও করেছেন। তাই তার আইনজীবীরা তার পক্ষে যথাযথভাবে প্রতিনিধিত্ব করছেন মর্মে প্রতীয়মান হয়।’

একই বিচারকের আদালতেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে বিএনপি নেত্রীর। আর গত ৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলার শুনানির এক সপ্তাহ আগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় শেষ শুনানি হয়েছে। এই মামলায় আসামি জিয়াউল হক মুন্নার পর খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষেই আসত রায়।

তবে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর অসুস্থতার কথা বলে আর আদালতে যাননি এবং এ কারণে মামলাটি ঝুলে যায়। এই পরিস্থিতিতে বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনে কারাগারেই আদালত বসে।

৫ সেপ্টেম্বর শুনানিতে উপস্থিত হয়ে খালেদা জিয়া জানান, তিনি অসুস্থ এবং আর আদালতে আসতে পারবেন না। এরপর ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি অনুপস্থিত থাকেন এবং এ সময় দুদক তার অনুপস্থিতিতেই বিচারের আবেদন করে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর আইনমন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে আদালত স্থাপন করা হয়। এ আদালতে চতুর্থ দিনের মতো শুনানি অনুষ্ঠিত হলো।

একই বিচারকের আদালতেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে বিএনপি নেত্রীর। আর গত ৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলার শুনানির এক সপ্তাহ আগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় শেষ শুনানি হয়েছে। এই মামলায় আসামি জিয়াউল হক মুন্নার পর খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষেই আসত রায়।

 

তবে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর অসুস্থতার কথা বলে আর আদালতে যাননি এবং এ কারণে মামলাটি ঝুলে যায়। এই পরিস্থিতিতে বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনে কারাগারেই আদালত বসে।

৫ সেপ্টেম্বর শুনানিতে উপস্থিত হয়ে খালেদা জিয়া জানান, তিনি অসুস্থ এবং আর আদালতে আসতে পারবেন না। এরপর ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি অনুপস্থিত থাকেন এবং এ সময় দুদক তার অনুপস্থিতিতেই বিচারের আবেদন করে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি করে দুদক। এতে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল হয়। এরপর ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে তাদের বিচার শুরু হয়।

মামলাটিতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী এবং হারিছের তৎকালীন একান্ত সচিব (বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ এর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক) জিয়াউল ইসলাম মুন্না, ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান আসামি।

ঢাকাটাইমস/২০সেপ্টেম্বর/এমএবি/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত