পিরোজপুরের নেতাদের ডেকে শাসাল আ.লীগ

তানিম আহমেদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:০২ | প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:৩৬

আগামী জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে পিরোজপুর আওয়ামী লীগের নেতারা একে অন্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন। আর এই প্রতিযোগিতা রূপ নিয়েছে কাদা ছুড়াছুড়িতে। এই অবস্থায় হস্তক্ষেপ করল দলের কেন্দ্র।

জেলা আওয়ামী লীগের কোন্দলে জড়িত নেতাদের ঢাকায় ডেকে এনে শাসালেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। পরে তাদেরকে ‘মিলিয়ে দিয়ে’ বলেছেন, ‘সামনে নির্বাচন আভ্যন্তরীণ কোন্দল সহ্য করা হবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

ব্যক্তিগত দূরত্ব দূর করে নৌকার বিজয়ের লক্ষ্যে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। নেত্রীর  (শেখ হাসিনা) সিদ্ধান্ত সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পিরোজপুরের নেতাদের মধ্যে কোন্দল দূর করতে জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলের বেশ কয়েকজন নেতা। এদের মধ্যে সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একে এম আওয়ালের বিরুদ্ধে একাট্টা জেলার বেশিরভাগ নেতা।

২০০৮ সালে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতের দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে হারিয়ে সংসদ সদস্য হন আওয়ামী লীগের একেএমএ আউয়াল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি তিনি জিতেন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায়। আগামী নির্বাচনেও তিনি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

তবে আউয়ালকে চ্যালেঞ্জ করছেন দলের বেশ কয়েকজন। আর এ নিয়ে আওয়ামী লীগে বিরাজ করছে গৃহদাহ। নিজ দলেই একাধিক প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হচ্ছে আউয়ালকে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আউয়ালকে আগামীতে দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে খোদ আপন ভাই হাবিবুর রহমান মালেকের সঙ্গে। মালেক পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র ও দলের জেলা কমিটির সহ-সভাপতি।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন  সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি শ ম রেজাউল করিম, পিরোজপুর পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান মালেক, জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না, আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা গোলাম হায়দার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশা এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এনায়েত খানের মেয়ে শেখ এ্যানী রহমান,আওয়ামী সমবায় লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুর রহমান ছগির ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবিএম বায়জীদ।

ওবায়দুল কাদের পিরোজপুর জেলার নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনারা একে অপরের বিরুদ্ধে যে সমালোচনার রাজনীতি করেন সে পরিমাণ রাজনীতি আমাদের অন্যতম প্রতিপক্ষ বিএনপির বিরুদ্ধে করেন না। আপনাদের একে অপরের সমালোচনা বন্ধ করতে হবে। শৃঙ্খলা বজায়ে রাজনীতি করতে হবে। তা নাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বৈঠকে পিরোজপুর জেলার সভঅপতি-সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় নেতারা সবার কথা শুনেছেন। পরে উভয় পক্ষকে মিলিয়ে দিয়েছেন। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজনীতি করতে নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম হাওলাদার বলেন, পিরোজপুর জেলার সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য শুনেছেন। জেলার নেতাদের বক্তব্যের পরে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সবাইকে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে দিয়ে পিরোজপুরে ঐক্যবদ্ধ হবে আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালীও হবে। তবে কার্যকর না হলে আগে যা ছিল রাজনৈতিক পরিবেশ তেমনটাই থাকবে।

জানতে চাইলে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একে এম আউয়াল বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে পিরোজপুর জেলার নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতারা বৈঠক করেছেন। জেলা নেতাদের মধ্যে থাকা দূরত্ব দূর করা হয়েছে।’

ঢাকাটাইমস/২০সেপ্টেম্বর/টিএ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত