‘বিচারপতি ওয়াহহাবকে প্রলোভন দেখানো হয়েছিল’

‌নিজস্ব প্র‌তি‌বেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:১৪

সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহাকে নিয়ে চলা অস্থিরতার সময় বিচারপতি ওয়াহহাব মিয়াকে প্রধান বিচারপতি করার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতি ভবনের শহীদ শফিউর রহমান হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লি‌খিত বক্ত‌ব্যে জয়নুল আবেদীন বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা তার ‘আ ব্রোকেন ড্রিমস-স্ট্যাটাস অব রোল অব ল, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ বইয়ে বলেছেন, সরকারের চাপ ও হুমকির মুখে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। সরকার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে জোরপূর্বক তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়।

সরকার বাংলাদেশ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায়টি তাদের পক্ষে নিতে ও বিচার বিভাগকে পূর্ণ করায়ত্ত করতে চেয়েছিল বলে দাবি করেন জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহা প্রচণ্ড চাপের মুখেও ষোড়শ সংশোধনীর রায় সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দিয়েছিলেন।

এই রায়ের পর পার্লামেন্ট ও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সরকারের মন্ত্রী ও সাংসদরা বিচারপতি সিনহার পদত্যাগ দাবি করছিলেন জানিয়ে জয়নুল আবেদিন বলেন, ‘কিন্তু বিচারপতি সিনহা সেই চাপের মুখে নতিস্বীকার না করায় তাকে অবকাশকালীন ছুটি শেষের দুই দিন আগে আপিল বিভাগের অন্য চার বিচারপতিকে তার (এস কে সিনহা) সঙ্গে একই এজলাশে না বসার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। ওই চার বিচারপতির মধ্যে পরে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এম এ ওয়াহ্হাব মিঞাকে প্রধান বিচারপতি করার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল।’

জয়নুল আবেদিন বলেন, বিচারপতি ওয়াহহাব মিয়া পরে বিচারপতি সিনহাকে জানান, রাষ্ট্রপতি তাদের বলেছেন তার (সিনহা) বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে, তাই তারা তার সঙ্গে এজলাশে বসবেন না। বিচারপতি ওয়াহহাব মিয়ার এই বক্তব্য সংবিধান পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন জয়নুল আবেদিন।

এত কিছু সত্ত্বেও বিচারপতি সিনহা নিজের অবস্থানে অটল ছিলেন উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, ‘কিন্তু সরকার চাপ প্রয়োগ করে সিনহাকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করে এবং পরবর্তীতে তাকে পদত্যাগ করতেও বাধ্য করে।’ 

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, বিচারপতি সিনহাকে এই ধরনের চাপ প্রয়োগ করে পদত্যাগ করিয়ে পুরো বিচার বিভাগকে এখন নির্বাহী বিভাগের আওতাধীন করা হয়েছে। সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো রায় বা আদেশ দিলে তার পরিণতি কী হবে সেটা সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেয়।’ 

জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘সাবেক বিচারপতি সিনহা তার বইয়ের মাধ্যমে যা প্রকাশ করলেন, তা আমাদের এই জাতির জন্য খুবই দুঃখ ও লজ্জাজনক। সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী হিসেবে বিষয়টি আমাদের বিবেককে দংশন করে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বিচার বিভাগের ওপর চাপ ও নগ্ন হস্তক্ষেপ জাতির জন্য কোনো মঙ্গল বয়ে আনবে না।’

বাংলাদেশে বর্তমান বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগের চাপের মুখে এবং পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

জয়নুল আবেদীন আরও বলেন, ‘বিচারপতি সিনহার পদত্যাগের পর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের মানুষের মধ্যে বিশ্বাস জন্মেছে যে, ওই রায়টিও বিচার বিভাগের ওপর চাপ প্রয়োগ করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেওয়া হয়েছে।’ 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা, গোলাম রহমান ভূঁইয়া, কোষাধ্যক্ষ নাসরিন আক্তার, সিনিয়র সহ-সম্পাদক কাজী মো. জয়নুল আবেদীন, সদস্য আহসান উল্লাহ, ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান, অ্যাডভোকেট আরিফুল ইসলামসহ বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা।

(ঢাকাটাইমস/২১‌সে‌প্টেম্বর/এমএবি/মোআ)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত