ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশ আজ

যুক্তফ্রন্টের মাহীকে নিয়ে বিএনপিতে ‘অসন্তোষ’

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৮:৩৫

আওয়ামী লীগবিরোধী জাতীয় ঐক্যের কাঠামো গঠন হওয়ার আগেই যুক্তফ্রন্টের মাহী বি চৌধুরীকে নিয়ে বিএনপিতে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিএনপি মনে করছে, যুক্তফ্রন্টের এই নেতা যে ভাষায় কথা বলছেন, তাতে মনে হয় বিএনপি তাদের চেয়ে ছোট দল।

তবে এক যুগ ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কাঠামোর বাইরে থাকা বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে ঐক্যের স্বার্থে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হচ্ছে না।

এই পরিস্থিতির মধ্যে আজ শনিবার রাজধানীতে ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশ রয়েছে যেখানে বিএনপির উপস্থিতির আশা করছে আয়োজকরা। গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেনের নেয়া এই উদ্যোগে আগেই সমর্থন জানিয়েছে যুক্তফ্রন্ট। আর তারা এই আয়োজনে আসবে, সেটা আগেই জানানো হয়েছে।

এই আয়োজনের আগের দিন বিকালে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাসায় যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ তিন নেতা। সেখানেও মাহী তাদেরকে ঐক্যের জন্য নানা শর্তের কথা জানিয়ে দেন।

বি. চৌধুরী নামে পরিচিত বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপিরই প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। আর ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি তাকে রাষ্ট্রপতি বানালে তার ছেড়ে দেয়া আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাহী।

পরে বি চৌধুরীকে বিএনপি অসম্মানজনকভাবে রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়তে বাধ্য করলে সংসদ সদস্য পদ ছাড়েন মাহীও। আর বি চৌধুরী ২০০৪ সালে নিজের দল বিকল্পধারা গঠন করেন।

এই বিকল্প ধারার সঙ্গে আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে জেএসডি এবং আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে গঠন করা মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য মিলে গঠন হয়েছে যুক্তফ্রন্ট। তৃতীয় শক্তি হওয়ার ঘোষণা দেয়া এই ফ্রন্ট আবার বিএনপিক সঙ্গে ঐক্যের আলোচনায়।

এই ফ্রন্টের সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম আবার গঠন করেছে ঐক্য। এদের সঙ্গে বিএনপি জোট করতে চায় যার নাম দেয়া হয়েছে জাতীয় ঐক্য।

কিন্তু যুক্তফ্রন্ট এই সুযোগে এমন সব শর্ত দিচ্ছে, এমন দাবি তুলছে যা বিএনপির পক্ষে মানা অস্বস্তিকর। তিনশ আসনের মধ্যে তাদেরকে ছেড়ে দিতে হবে ১৫০ আসন  আবার দুই বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রিত্বও চায় তারা।

যুক্তফ্রন্টের নানা দাবির মধ্যে বিশেষ করে মাহী বি চৌধুরী সামাজিক মাধ্যম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে ভাষায় কথা বলছেন, সেটি নিয়ে আপত্তি আছে বিএনপির নেতাদের মধ্যে। এতদিন এসব প্রকাশ না করলেও ইদানীং বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিএনপির নেতারা আকার ইঙ্গিতে বিরক্তি প্রকাশ করছেন।

ঐক্যের আলোচনায় ১৫০ আসনে ছাড় দেয়ার শর্ত প্রথম তুলেছিলেন মাহীই। আর এরপর জামায়াত থাকলে ঐক্য নয়- এমন গণফোরামের সভাপতি কামাল হোসেনের পর সবচেয়ে বেশি বলছেন মাহী।

তবে মাহী জামায়াতের সঙ্গে এর আগে মিশেছেন, তার নির্বাচনের সময় জামায়াতের সহযোগিতা নিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ফেসবুকেই ঘুরে বেড়াচ্ছে।

আবার ফেসবুকে ছড়ানো এক ভিডিওতে মাহী ‘প্লান বি’র যে কথা বলেছেন তা নিয়েও বিএনপিতে আছে সমালোচনা। আবার তিনি বিএনপি ও ছাত্রদলসহ অঙ্গ সংগঠনের সমালোচনাও করেছেন।

গত ৩১ আগস্ট ‘তরুণদের জন্য প্লান বি’ তুলে ধরতে গিয়ে মাহী বলেন, ‘সারাদেশের সবগুলো বাসস্ট্যান্ড,রাস্তার টোল,ঘাট, কখনও ছাত্রদল কখনও ছাত্রলীগ সেটা দখল করে। যেসব বাজার তা কখনও ছাত্রলীগ আবার কখনও ছাত্রদলের কাছে ইজারা দেয়া হয়।’

তবে এসব বিষয়ে দলটির শীর্ষ নেতারা কৌশলী হলেও তৃণমূল এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। নেতাকর্মীদের দাবি, মাহী বি চৌধুরীর কথাবার্তা বিএনপিকে অবমূল্যায়ন করার শামিল।

ঐক্যের ক্ষেত্রে বিকল্প ধারার এমন বক্তব্যের পেছনে অন্য রহস্য আছে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন,বিকল্প ধারার মহাসচিব আব্দুল মান্নানসহ কয়েকজনের সরকারদলীয় লোকদের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্য রয়েছে। সেগুলো টিকিয়ে রাখতে ঐক্যকে বাধাগ্রস্ত করতে এসব কথা বলা হচ্ছে।

নেতাকর্মীরা জানান,বিএনপির নমনীয়তার সুযোগে অবাস্তব সব দাবি করেছে নামসর্বস্ব দলগুলো।যা বিএনপির জন্য বিব্রতকর।

বিএনপির নির্বাহী কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন এমন একজন নেতা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বিকল্প ধারা বলেন আর যুক্তফ্রন্ট বলেন এদের বাদ দিয়ে ঐক্য হলে ভালো হয়।কারণ রাজনীতিতে তাদের যে অবস্থান তাতে ঐক্যে না আসলে খুব ক্ষতি হবে এমনটা না।’

বিএনপির সহ তথ্য-গবেষণা সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল বলেন, ‘মাহী বি চৌধুরী তার প্লান বিতে ছাত্রদল আর ছাত্রলীগকে এক করে দিয়েছেন। আমাদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ নেত্রীর মুক্তি। সেখানে তিনি বলছেন, আসন ভাগাভাগির কথা এটা ঠিক না। আর ছেলের (মাহী) কারণে তার বাবাকেও (বি. চৌধুরী) জোটের বাইরে রাখলে ভালো হবে।’

বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘বিকল্প ধারার নেতারা যখন বিএনপিতে ছিলেও তখন তো জোটে জামায়াত ছিল। তখন তো তারা জামায়াত নিয়ে আপত্তি জানাননি। স্বার্থের ক্ষেত্রে আঘাত লাগলে এমন বাহানা অনেকেই শুরু করেন।’

রাজশাহীর সাবেক মেয়র ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘তারা (যুক্তফ্রন্ট) যদি নিজেদের ওয়েট (ওজন) না বোঝে তাহলে কেমনে হবে? এখন হয়তো একজন বলবে আমি পতাকা উত্তোলন করছি আমি উপ-প্রধানমন্ত্রী হব তাহলে কী হবে? পলিটিক্সে ইগো থাকলে হবে না।’

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য খুবই জরুরি। এই ঐক্যের মাহী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা তার একক  এবং স্ববিরোধী বক্তব্য। তিনি বলেছেন, জামায়াতের জোটে আসার সময় তাতে স্বাক্ষর করা তার বাবার বড় ভুল ছিল। তাহলে ২০০২ সালে উপনির্বাচনে যখন মাহী এমপি ছিলেন তখন তিনি দুধের শিশু ছিলেন? তার তো তখন ভালোমন্দ বোঝার বয়স হয়েছিল। তখন তিনি জামায়াত নিয়ে কোনো প্রতিবাদ করেননি কেন?’

বিএনপির পাশাপাশি ২০ দলের শরিকরাও যুক্তফ্রন্টের শর্ত নিয়ে নাখোশ। এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘খালেদা জিয়া কারাগারে। তার মুক্তির দাবি করে একটি কথাও বলেননি ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা। অথচ তারা বিএনপির সমর্থনে প্রধানমন্ত্রিত্ব চান। এটা অবান্তর।’

বিএনপির একটি দলের মহাসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘যে চার দল যুক্তফ্রন্ট গড়ে ১৫০ আসন ও দুই বছরের জন্য সরকার গঠনের সুযোগ দাবি করছে, তাদের একটি আসনেও নিজ দল থেকে ভোট করে জয়ী হওয়ার ক্ষমতা নেই।’

(ঢাকাটাইমস/২২সেপ্টেম্বর/বিইউ/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত