কামাল-ফখরুলের ঐক্যের দিনে নেই তারা

প্রকাশ | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:০৭ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:৩৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস

 যত না যুক্তফ্রন্টের ডাকা ঐক্যের ডাক, তা ছাপিয়ে আজ ছিল বিএনপির সঙ্গে কামাল হোসেন ও বি. চৌধুরীর এককাট্টা হওয়ার আনুষ্ঠানিক মিলন দিবস। বিএনপিসহ ২০ দলের জোটের শরিক দলগুলোকে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

দাবি করা হচ্ছিল, জামায়াত ছাড়া সবাইকে বলা হয়েছে। কিন্তু একাত্তরের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী হিসাবে মাওলানা ইসহাকের দলের মহাসচিব কাদেরের উপস্থিতি কামাল হোসেনের ইমেজকে মাটিতে নামিয়ে এনেছে। এই সেই কাদের, যিনি একসময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন হেফাজতের এক অংশের নেতা নুর হোসাইন কাসেমী।

এদিকে দেশের জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের গ্রহণযোগ্য রাজনীতিক কর্নেল (অব.) অলি আহমেদকে জাতীয় ঐক্যের সভায় দেখা যায়নি। তার দলের কোনো প্রতিনিধিকেও পাঠানো হয়নি।

একই পথ অনুসরণ করেছে মশিউর রহমান যাদু মিয়ার নাতি জেবেল রহমান গাণির বাংলাদেশ ন্যাপ। যাদু মিয়া একদিন নিজের দল বিলুপ্ত করে জিয়ার বিএনপি গড়ার সেনাপতি ছিলেন।

শনিবার অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের কল্যাণ পার্টিকে দেখা যায়নি। সভায় যায়নি এমন দলের মধ্যে রয়েছে ন্যাশন্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টিও, যার নেতৃত্বে আছেন খন্দকার গোলাম মরতুজা। এছাড়া মুফতি ওয়াক্কাসের নেতৃত্বাধীন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এবং মুসলিম লীগের কেউ সমাবেশে যোগ দেননি।

সূত্রমতে কর্নেল অলির নেতৃত্বে এলডিপি, ন্যাপ, কল্যাণ পার্টি, এনডিপিসহ আরো কয়েকটি দলের বোঝাপড়া চমৎকার পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রতি বিএনপির ভোটহীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে আত্মসমর্পণ করাকে তারা ইতিবাচক চোখে দেখছে না। অথচ জোটের দুর্দিনে তারা কখনো বিএনপিকে ছেড়ে চলে যায়নি, আপস করেনি কারোর সঙ্গে।

অন্যদিকে খোদ বিএনপিতেও ড. কামাল হোসেন এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি বি. চৌধুরীর এমন জোট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে ও ছিল। বিএনপির মধ্যেও উত্তপ্ত পরিস্থিতি বইছে। যেকোনো মুহূর্তে তা সামনে চলে আসতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের একজন নেতা এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘যতই কামাল হোসেন তারেক রহমানকে গালমন্দ করুক কিংবা জামায়াত বর্জনের কথা বলুন, বাস্তবতা তেমন করে নয়। এই জোটের মূল লক্ষ্য, দেশে অগণতান্ত্রিক শক্তিকে ক্ষমতায় বসানো। সেই কারণে কামাল হোসেন কিংবা মাহমুদুর রহমান মান্নাদের কোনো সংসদীয় আসন না থেকেও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বলে  চালিয়ে গিয়ে শান্তিপূর্ণ হতে হতে তারা একসময় নাশকতাকে পরিচিত করাবেন।’

ওই নেতা এও বলেন, বিএনপির সারা দেশের নেতারা মূলত নির্বাচন করতে চান। কিন্তু এই ঐক্যের নামে জোট মূলত নির্বাচনমুখী নয়, নির্বাচন প্রতিহত করার শক্তি। যারা এর নেতৃত্বে আছেন বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে তাদের ইমেজ বেশ ভালো।

কর্নেল অলিসহ জোটের নেতারা এই ঐক্যে না যাওয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হলো। ধারণা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক আরও কিছু ঘটনা আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হতে পারে। বিএনপির বড় অংশ ও কর্নেল অলি আবার আলোচনায় চলে আসতে পারেন।

(ঢাকাটাইমস/২২সেপ্টেম্বর/মোআ)