ডাক্তারদের সেবার মনোভাব কম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:১৮ | প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:১২

ডাক্তারদের সেবার মনোভাব কম বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম। বলেছেন, ‘ডাক্তাররা দেশসেবার চেয়ে তাদের ক্যারিয়ার নিয়েই বেশি চিন্তিত থাকেন।’

সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জরায়ু-মুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে জাতীয় নীতিমালার কৌশলপত্র ২০১৭-২০২১’ উপস্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

চিকিৎসকরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকতে চায় না উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী  বলেন, ‘আমরা হাসপাতাল গুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়েছি। কিন্তু চিকিৎসকরা তার সঠিক ব্যবহার করছেন না। রোগীরা হাসপাতাল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।’

‘তাছাড়া আমাদের ডাক্তাররাও প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকতে চায় না। তারা দেশসেবার চেয়ে তাদের ক্যারিয়ার নিয়ে বেশি চিন্তিত থাকেন। তাই আবার বলছি ডাক্তার বাড়িয়ে কর্মকৌশল বানিয়ে আমাদের লক্ষ্য পূরণ হবে না যদি আমরা জনগনের সেবায় আন্তরিক না হই। একটা জায়গার কর্মকর্তা, একজন নেতা। এই নেতাদের তাদের কাজের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করতে হবে।’

কেবিনেটে হেলথ কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্ট গঠিত হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে হেলথ কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্টের আইন পাস হয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণ নার্স ও চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে ও হচ্ছে।’

‘কিন্তু তারা যদি ঠিকমত দায়িত্ব পালন না করে সমস্যা দূর হবে না। প্রধানমন্ত্রী চেয়েছিলেন মেডিকেলে ইন্টার্নিশিপ এক থেকে দুই বছরে উন্নীত করতে। কিন্তু তাতে শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ হবে বলে সেটা প্রক্রিয়াধীন আছে। অথচ ইন্টার্নিতে গ্রামে গিয়ে শিখলে ভালো ডাক্তার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।’

‘ইন্টারনেটের অপব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি’

ইন্টারনেটের অতিব্যবহার ও অপব্যবহারের প্রভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে আমরা আগের চেয়ে বেশি যান্ত্রিক হয়ে গেছি। শারীরিক পরিশ্রম কম হয় আমাদের। ইন্টারনেটের অপব্যবহার বাড়ছে। এর প্রভাব আমাদেরকে স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এসব কারণে ক্যান্সারের মতো রোগগুলো দিন দিন বাড়ছে। ক্যান্সার বর্তমানে বিশ্বময়ী একটি সমস্যা।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাল্যবিবাহের কারণে নারীরা বেশি রোগে আক্রান্ত হয় বলেও মন্তব্য করেন।

এ সময় মন্ত্রী জরায়ু-মুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে জাতীয় নীতিমালার কৌশলপত্র ২০১৭-২০২১'র মোড়ক উন্মোচন করেন।

সেমিনারে বক্তারা বলেন,  জরায়ু-মুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে জাতীয় নীতিমালার কৌশলপত্র ২০১৭-২০২১ অনুসারে এ পর্যন্ত ২ মিলিয়ন মহিলাকে স্ক্রীনিং-এর আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া আরও ২৭ মিলিয়ন মহিলাকে এই সেবার আওতায় আনা হবে। এছাড়া এ বিষয়ে  টীকাদান কর্মসূচিও চলমান রয়েছে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম গাজীপুরে ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

জরায়ু-মুখ ক্যান্সার বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্যান্সার। প্রতিবছর এই ক্যান্সারে প্রায় ১২ হাজার নতুন রোগী সনাক্ত করা হচ্ছে এবং প্রায় ৬ হাজার নারী মৃত্যুবরণ করছে। এই ক্যান্সার মূলত মানবদেহের প্যাপিলোমা ভাইরাসের (এইচপিভি) কারণে সৃষ্টি হয়। এইচপিভি অনিয়ন্ত্রিত যৌন মিলনের মাধ্যমে ছড়ায়।

জরায়ু-মুখ ক্যান্সার বাংলাদেশের ২য় সর্বোচ্চ ক্যান্সার। প্রতিবছর এই ক্যান্সারে প্রায় ১২ হাজার নতুন রোগী সনাক্ত করা হচ্ছে এবং প্রায় ৬ হাজার নারী মৃত্যুবরণ করছে। এই ক্যান্সার মূলত মানবদেহের প্যাপিলোমা ভাইরাসের (এইচপিভি) কারণে সৃষ্টি হয়। এইচপিভি অনিয়ন্ত্রিত যৌন মিলনের মাধ্যমে ছড়ায়।

ইউনাইটেড ন্যাশনস ফান্ড ফর পপুলেশন অ্যাক্টিভিটিসের (ইউএনএফপিএ) তথ্যমতে, প্রায় ৯০ ভাগ এইচপিভি ইনফেকশন মানবদেহের হরমোনের মাধ্যমে দূর হয়। তবে বেড়ে যাওয়া ইনফেকশনগুলো জরায়ু-মুখ ক্যান্সারে পরিণত হয়। তবে জরায়ু-মুখ  ক্যান্সারে পরিণত হতে ইনফেকশনের পর প্রায় ১০  বছর সময় লাগে। তাই বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেকটি নারীর জরায়ু-মুখ  ক্যান্সারের স্ক্রীনিং করা উচিৎ। এই রোগের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো ঠিক বোঝা যায় না যে কারণে স্ক্রীনিং করা জরুরি। সঙ্গে সঙ্গে টিকা গ্রহণ করা উচিৎ।  তাছাড়া দেশের প্রায় ৩০ মিলিয়নের বেশি ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সী নারীদের এই স্ক্রীনিং-এর আওতায় আনা হচ্ছে।

ঢাকাটাইমস/২৪সেপ্টেম্বর/এসআর/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত