জাবিতে সাংবাদিক ও ছাত্রীকে মারধর

জাবি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২৩:৪৯

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের দুই শিক্ষার্থী ও এক বহিরাগত ফটো সাংবাদিককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের ৮-১০ জন কর্মীর বিরুদ্ধে।

সোমবার বেলা একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিং পুল এলাকায় এ মারধরের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টর বরাবর পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ও চ্যানেল আই অনলাইনের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাহমুদুল হক সোহাগ এবং মারধরের সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ৪৬ তম আবর্তনের এক ছাত্রী। আর শারীরিক লাঞ্ছনা ও ছিনতাইয়ের বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেছেন দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের আলোকচিত্রী বিল্লাল হোসেন ও তার বান্ধবী।

এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা শাখা ছাত্রলীগের চার কর্মীকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁরা হলেন- নাটক ও নাট্যতত্ব বিভাগের ৪২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী নিলয়, বাংলা বিভাগের ৪৫ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী শুভাশীষ ঘোষ, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৫ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সোহেল রানা ও লোক প্রশাসন বিভাগের ৪৭ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ইয়া-রাফিউ শিকদার আপন। 

তাঁরা সবাই শহীদ রফিক জব্বার হলের আবাসিক ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ানের অনুসারী। এদের মধ্যে নিলয় আসন্ন হল কমিটির শহীদ রফিক জব্বার হলের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থী।

লিখিত অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে বান্ধবীকে সাথে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিং পুল এলাকায় ঘুরতে আসেন বিল্লাল হোসেন। সেখানে ইয়া-রাফিউ শিকদার আপনের নেতৃত্বে চারজন ছাত্রলীগ কর্মী যান এবং বিল্লাল ও তার বান্ধবীর পরিচয় জানতে চান। কথা বলার একপর্যায়ে পরে তাঁদের দুইজনের সঙ্গে থাকা মুঠোফোন, মানিব্যাগ ও পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন ওই ছাত্রলীগ কর্মীরা। এ সময় বাঁধা দিতে গেলে বিল্লাল হোসেনকে চড়-থাপ্পড় দিতে থাকেন আপন।

মারধরের ঘটনা দেখে পাশে অবস্থান করা মাহমুদুল হক সোহাগ সেদিকে এগিয়ে যান। নিজের পরিচয় দিয়ে ঘটনা জানতে চান। ঘটনা জানতে পেরে ছাত্রলীগ কর্মীদেরকে বহিরাগতদের মুঠোফোন ও মানিব্যাগ ফেরত দিয়ে দিতে বলে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। সেগুলো ফেরত দিয়ে সেখান থেকে চলে যান ছাত্রলীগের কর্মীরা। 

পরে বিল্লাল হোসেন তাঁর বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ভবনের সামনে গেলে আবার ছাত্রলীগের ওই চার কর্মী তাঁদের পথরোধ করে বিল্লালকে বেধড়ক মারতে থাকেন। এ সময় সোহাগ ঘটনাস্থলে আবারো উপস্থিত হন এবং বহিরাগত দুই জনকে মারধরে বাধা দেন। তখন সোহাগের সাথে ছাত্রলীগ কর্মীদের বাগবিত-া ও ধাক্কাধাক্কি হয়।

এরপর সোহাগ, বিল্লাল হোসেন, তাঁর বান্ধবী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী সেখান থেকে সামনে এগিয়ে জীববিজ্ঞন অনুষদ ভবনের পাশে এলে নিজাম উদ্দিন, শুভাশীষ ঘোষ, সোহেল রানা সহ আট-দশ জন ছাত্রলীগকর্মী তাঁদের পথরোধ করে সোহাগকে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। সোহাগকে উদ্ধার করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীকেও মারধর করেন।

এতে মাহমুদুল হক সোহাগ ও ওই ছাত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে গিয়ে রক্তপাত হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সহায়তায় তাঁদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

শাখা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান বলেন, ‘ঘটনা শুনেছি। অভিযুক্তরা প্রথম বর্ষের ছাত্র। তাঁরা সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। তবে অভিযুক্তদের কেউ ছাত্রলীগকর্মী হলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে প্রক্ট্র শিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, ‘অভিযোগপত্র পেয়েছি। আমরা কাজ শুরু করব। দোষীদের চিহ্নিত করে শিগগিরই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে সাময়িক বহিষ্কার করা হবে। পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তে সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

ঢাকাটাইমস/২৪সেপ্টেম্বর/প্রতিনিধি/ ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত