‘নির্বাচনী হাওয়া শুরু হলে সব অনিশ্চয়তা-জটিলতা কেটে যাবে’

এম গোলাম মোস্তফা, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:৪৬ | প্রকাশিত : ০৮ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:২৬

আগামী নির্বাচনের দিন নিয়ে যে সংশয়, নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে যে অনিশ্চয়তা রয়েছে, নির্বাচনী হাওয়া পুরোপুরি বইতে শুরু করলে সেসব জটিলতা কেটে যাবে বলে মনে করেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী। বলেছেন, ‘এসব জটিলতা-অনিশ্চয়তা প্রায় নির্বাচনের আগেই কিছুটা এ সময়টায় থাকে।  তারপরে পুরোপুরি নির্বাচনী হাওয়া যখন শুরু হবে, তখন এ জটিলতা কেটে যাবে বলে আমি মনে করি।’

এ মন্তব্যের কারণ হিসেবে তার দাবি, সরকারি দলের পক্ষ থেকে জোট করার অনেকগুলো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, আমরা দেখছি। বিরোধী দল থেকেও দেখছি। তাদের মধ্যেও অনেক কিছু আশা-আকাঙ্খা আসছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য এটা একটি  সুবাতাস, যদি সত্যিকার অর্থেই নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যায়। কারণ, একটা সত্যিকার নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র অর্থবহ হতে পারে না।

রবিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের তৃতীয় মাত্রায় আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। আলোচনায় আরো অংশ নেন নিউ এজ এর সম্পাদক নুরুল কবির।

‘আগামী নির্বাচনের তারিখ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে, নির্বাচন কেমন হবে সেটি নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে, নির্বাচন নিয়ে নানা মেরুকরণ দেখতে শুরু করলাম। শেষ পর্যন্ত সেসব মেরুকরণ নিয়েও নানা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। একটু আপনার কাছ থেকে শুনতে চাই, কি দেখছেন আপনি?’- জিল্লুর রহমানের এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল হাসান বলেন, ‘আমিও দেখেছি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে তিনি বলেন নাই। সাংবিধানিক যে একটা নির্দেশ আছে, সেটার বাইরে যাওয়ার কোনো উপায় নেই।’

সেজন্য এ ব্যাপারে খুব শিগগিরই একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে বলেও মনে করেন আবুল হাসান।

সাবেক এ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ঐতিহ্যের সাথে গণতন্ত্রের একটা বিরাট সম্পর্ক রয়েছে। তাই আমি মনে করি, বর্তমানকে নিয়ে আমাদের দৃষ্টি রাখব, কিন্তু সেটার ওপরই সীমাবদ্ধ রাখার কোনো কারণ নেই। আমরা আশা করব, আজকে যে সমস্ত উক্তি থাকুক না কেন, সেসব জটিলতা কাটিয়ে আমরা এগিয়ে যাব এবং দেশের মানুষ বারবার নির্বাচনের দিকে আগ্রহ দেখিয়েছে।’

আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, দেশে বিরাট বিরাট অর্জন যেটা আমরা করেছি, সেটি নির্বাচনের মাধ্যমেই করেছি। বলার অপেক্ষা রাখে না আমাদের স্বাধীনতার যে বিরাট ম্যান্ডেট, সেটাতো সত্তরের নির্বাচনের কারণেই পেয়েছি। সেভাবে আমাদের যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সেটা দেখাতে সক্ষম হয়েছি। এই প্রবৃদ্ধি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম। ’

আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘এই প্রবৃদ্ধিটাকে সমস্ত ঘরে ঘরে পাঠিয়ে দেয়া, ইউটেলিটারিইয়ান ওয়েতে এটার যদি সমভাবে বিস্তার লাভ করতে হয়। এটার যদি সত্যিকারভাবে পুনর্বিন্যাস করতে হয়, তাহলে অর্থবহ গণতন্ত্রের দিকে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমরা যে উন্নতি করি নাই, সেটা না। কিন্তু এটাকে আরও শক্তিশালী করতে খুব সঠিক পন্থায় নির্বাচনে যেতে হবে। আর নির্বাচনের জন্য প্রত্যেককেই সহনশীল হতে হবে। সহনশীলতা একটা গণতন্ত্রের, নির্বাচনের পূর্বশর্ত। আমার মনে হয় না, আর কোনো কথা বলে এটা প্রমাণ করার প্রয়োজন আছে।’

সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের যে জটিলতা আমরা দেখছি, এই জটিলতাটাও স্বাভাবিক। এই রকম একটা কথাবার্তা তো হবেই। নানা মতের ভিতর থেকে একটা জায়গায় আমরা আসব বলে আমি আশাবাদী, এখনও খুব জোরালোভাবে আশাবাদী। ’

‘মি. নুরুল কবির আপনি কি দেখছেন? নির্বাচনের তারিখ নিয়ে অনিশ্চয়তা, নির্বাচন কেমন হবে সেটি নিয়ে অনিশ্চয়তা, বিএনপি নিশ্চিত করে বলছে না নির্বাচনে যাবে কি, যাবে না। মেরুকরণ নিয়ে কি দেখছেন’- সঞ্চালক জিল্লুর রহমানের এমন বক্তব্যের জবাবে নুরুল  কবির বলেন, ‘এই মুহূর্তে প্রধান রাজনৈতিক প্রবণতার কথা দেখি। এই সবার আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটিয়ে, একটা নির্বাচনের দিকে যাওয়ার যে তৎপরতা সেটা যারা ক্ষমতাসীন আছেন, তাদের মধ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি না। ’

নুরুল কবির বলেন, ‘ওনারা (ক্ষমতাসীনরা) বলছেন, কয়েক বছর আগে সংবিধান যে পুনর্লিখন করেছেন, তার থেকে সরবার কোনো পথ নেই। আর বিরোধীরা বলছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা বলছেন, এভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের দুটো দিক আছে। প্রথমত, জনগণের দিক, অর্থাৎ সাধারণ মানুষ দশ বছর পরে, তারও আগে আরও দুই বছর, তার আগের আরও পাঁচ বছর অর্থাৎ সতের বছর পর মাঝখানে ২০০৮ সালেরটা বাদ দিয়ে মানুষ ভোট দিয়েছে। যে পদ্ধতিতেই হোক না কেন, মানুষ ভোট দিতে যেতে পারবে কি না? তার ইচ্ছার প্রতিফলন হবে কি না? এটা হচ্ছে মানুষের দিক থেকে, জনগণের দিক থেকে আকাঙ্খা এবং এই আকাঙ্খার পরিণতি কি হবে আমরা জানি না। ’

নুরুল কবির বলেন, ‘সকল পার্টির স্টেক হোল্ডার আছে, তাদের চিন্তার মধ্যে দিয়ে বের হয়ে  আসে। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই, এই কথাটি গণতান্ত্রিক শোনায়। সত্যিই তো মানুষের আকাঙ্খার প্রতিফলন আছে এ রকম একটা সংবিধান থাকতো। সত্যিই তো একটা রাষ্ট্র চলতে পারে না, আজকে একরকম কালকে একরকম। কিন্তু আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম দিন থেকে। যদিও এ দেশের সবাই মিলে দেশটা স্বাধীন করেছিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে।’

প্রবীণ এই সাংবাদিক বলেন, স্বাধীনতার পর সংবিধানে যতগুলো সংশোধনী আনা হয়েছে, যখন যে পার্টি ক্ষমতায় গেছে, তাদের মতো করে সংশোধন করেছে। আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগের মতো করেছিল, বিএনপি তাদের রাজনৈতিক আদর্শের মতো সাজিয়েছিল সংবিধানকে।

নুরুল কবির বলেন, ‘দুইবার আওয়ামী লীগ বিএনপি ক্ষমতায় থাকলো, তারা দেখবেন, আপন আপন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করেছে। সেই অর্থে দেশের সকল মানুষের সংবিধান হয়ে ওঠে নাই। নিজেদের স্বার্থে সংবিধান তৈরি করা হচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে সংবিধান হয় নাই।’

তার দাবি, আওয়ামী লীগ তার মতো করে সংবিধান সাজিয়ে, তার পর লোকজনকে বলা শুরু করল, এটা একটা পবিত্র ব্যাপার, এটার থেকে কখনো সরে যাওয়া যাবে না। এই রকম একটা অযৌক্তিক অবস্থায় যখন পুরো জনগোষ্ঠি পড়ে যায়, তখন তার মধ্যে অনিশ্চয়তা, দুর্ভাবনা থাকবারই কথা। দেখবার বিষয়, সর্বশেষ  নির্বাচনের পর, যেখানে ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত। বাকিগুলোতে ৮ থেকে ১০ শতাংশ ভোট পড়েছে।

নুরুল কবির বলেন, ওই নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, এটা নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। এই নিয়ম রক্ষার নির্বাচন কি তিনি আরেকটা করতে চান? না কি সত্যিকার অর্থে ইনক্লুসিভ, যেটা সবাইকে নিয়ে নির্বাচনটা করতে চান। সবাইকে নিয়ে যদি করতে চান, শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের সংবিধান দিয়ে সেটা করা যাবে না। শুধুমাত্র তাদের আকাঙ্খা দিয়ে তো অন্যরা নির্বাচন করতে পারবে না।

নুরুল কবির বলেন, ‘এখন গায়ের জোরে নির্বাচন করতে পারেন। কারণ, রাষ্ট্র ক্ষমতা যদি আপনার হাতে থাকে, তবে সমস্ত সংগঠনগুলো আপনার পক্ষে থাকে। তাহলে হয়তো কিছুদিনের জন্য পেরে যেতে পারেন, তাতে তো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কোনো উন্নতি হলো না। তাতে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারবে কি পারবে না- এটার নিশ্চয়তাটা আগের থেকে পাওয়া সম্ভব নয়।

(ঢাকাটাইমস/৮অক্টোবর/জিএম/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

মতামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত