‘তারেকের ফাঁসি হলে খুশি হতাম’

সাগর হোসেন তামিম, মাদারীপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:৫৫

২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে স্বস্তি পেয়েছেন মাদারীপুরের নিহত চারজনের পরিবারের সদস্যরা। তবে মামলার আসামি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বর্বরোচিত ওই হামলা ও হত্যাযজ্ঞের মূল হোতা দাবি করে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ায় অখুশি বলে জানিয়েছেন তারা। আহত পাঁচজনও এই সরকারের আমলেই রায় দ্রুত কার্যকর দেখতে চান। গ্রেনেড হামলায় আহত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের দাবি, এই রায়ে তারেকসহ মূল হোতাদের যথাযথ শাস্তি হয়নি। আগামীতে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হবে, যেন তাদের সাজাও বেড়ে মৃত্যুদণ্ড হয়।

আওয়ামী লীগ নেতা নাছিমের মতো একই দাবি জানিয়ে নিহতদের স্বজন ও আহতরা চাইছেন, উচ্চ আদালতে আপিল করে সব হোতা, বিশেষ করে তারেকের ফাঁসি দেওয়া হোক।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে শেখ হাসিনার ওই শান্তি সমাবেশে গ্রেনেড হামলায়  নিহত হন মাদারীপুরের চারজন। তারা হলেন- রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের চানপট্টি গ্রামের যুবলীগ নেতা নিহত লিটন মুন্সি, একই উপজেলার কদমবাড়ী ইউনিয়নের মহিষমারি গ্রামের সুফিয়া বেগম, কালকিনি উপজেলার কয়ারিয়া ইউনিয়নের রামপোল গ্রামের শ্রমিক লীগ নেতা নাসিরউদ্দিন ও একই উপজেলার ক্রোকিরচর গ্রামের যুবলীগ নেতা মোস্তাক আহম্মেদ ওরফে কালা সেন্টু। ওই ঘটনায় গ্রেনেডের স্প্লিন্টারে আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেন এ জেলার আরো অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী।

ঘটনার ১৪ বছর পরে বুধবার ঢাকার এক নং বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন রায়ে গ্রেনেড হামলায় জড়িত থাকার দায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ১১ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত লিটন মুন্সির পরিবারের সদস্যরা। লিটনের মা আছিরন বেগম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমার ছেলের আত্মা আজ শান্তি পাচ্ছে। আমরা কোনোদিন ভাবিনি, এই হত্যার বিচার হবে। এখন যেহেতু রায় হয়েছে, সেহেতু তাদের ফাঁসি দেখতে চাই। কোনো অপশক্তি যেন এই রায় কার্যকরে বাঁধা না হয়ে দাড়ায়।’

বাবা আইয়ুব আলী মুন্সি বলেন, ‘ভাবছিলাম, তারেকের ফাঁসির রায় হবে, কিন্তু হয়নি। এতে আমি খুব কষ্ট পেয়েছি। ওই তারেকই আমার ছেলেদের হত্যা করেছে। ওর শাস্তি ঠিকমতো হয়নি। আবারও আদালত (আপিল) করে তারেকের ফাঁসির রায় দেয়া হোক।’

গ্রেনেড হামলায় আহত কালকিনি উপজেলার সাইদুল রহমান বলেন, ‘রায়ে খুশি হয়েছি। কিন্তু আমার মনের দুঃখ যায়নি। যারা হাওয়া ভবনে বসে আমাদের হত্যার চেষ্টা করলো, তারা তো কম শাস্তি পেলো। তারপর এখনও আবার আইনে ফাঁক-ফোকর দিয়ে বের হয়ে যায় কিনা, সন্দেহ আছে।’

গ্রেনেড হামলায় চোখ হারানো সদর উপজেলার খোয়াজপুরের রাম কৃষ্ণ বলেন, ‘রায় তো হলো, কিন্তু আমাদের কি হবে? আমাদের খোঁজও তো কেউ নেন না। মাঝে মাঝে কিছু টাকা-পয়সা পেলেও এখন আর আওয়ামী লীগ কিছু দেয় না। রায় তো হইলো, তাই এখন আর কেউই আমাদের খোঁজ নেবেন না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি, আমাদের খোঁজ যেন তিনি রাখেন।’

রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি বলেন, ‘হামলায় একজন ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে আমি রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারিনি। আরো বেশি খুশি হতাম, যদি হামলার মূল পরিকল্পনাকারী, যারা হাওয়া ভবনে বসে গ্রেনেড হামলার ছক এঁকেছেন, তাদের শাস্তি আরো গুরুতর হতো। তাই মামলায় আপিল করে বড় ধরনের শাস্তির (ফাঁসি) ব্যবস্থা করতে হবে।’

(ঢাকাটাইমস/১০অক্টোবর/প্রতিনিধি/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত