জাতিসংঘে শেখ হাসিনা: শান্তির পথে দৃপ্ত উচ্চারণ

মোহাম্মদ জমির
 | প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:৩৮

কয়েক দিন আগে নিউইয়র্কে শেষ হয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশন। যা শুরু হয় ১৮ সেপ্টেম্বর। শেষ হয় ১ অক্টোবর। এই আয়োজনে প্রায় ২০০ দেশ অংশ নেয়। স্বভাবতই গ্লো নানা অঞ্চলের নানান সম্ভাবনা ও সংকটের বিষয় আলোচিত হয়েছে এই অধিবেশনে। এর রেশও এখনো আছে। বিভিন্ন মহলে বিষয়গুলো আলোচিত হচ্ছে। এবারের অধিবেশন থেকে প্রাপ্তি কী তার হিসাব-নিকাশ চলছে এখনো। বিভিন্ন প্রান্তের ভূ-রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এসেছে কি না, সেই বিষয়টিও বেশি সামনে আসছে।

বরাবরের মতোই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবারের অধিবেশনে অংশ নেয় বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি সঙ্কট সামাল দিতে দূরদর্শী ভূমিকার জন্য ইন্টার প্রেস সার্ভিসের ‘ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ এবং গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশনের ‘স্পেশাল রিকগনিশন ফর আউটস্ট্যান্ডিং লিডারশিপ’ সম্মাননা পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা। নিউ ইয়র্কে ২৭ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পর আলাদা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার হাতে পুরস্কার দুটি তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার দুটি বাংলাদেশের জনগণকে উৎসর্গ করে শেখ হাসিনা বলেছেন, সব দেশেরই নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাড়ানো উচিৎ।

মানবিক কারণে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে ‘নজির স্থাপন করায়’ ইন্টার প্রেস সার্ভিস শেখ হাসিনাকে ‘ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ দিয়েছে। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান ও বুট্রোস বুট্রোস-ঘালি এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মার্তি আহতিসারি এর আগে এ পুরস্কার পেয়েছেন। আর দাতব্য সংগঠন ‘গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন’ শেখ হাসিনাকে ‘স্পেশাল রিকগনিশন ফর আউটস্ট্যান্ডিং লিডারশিপ’ সম্মাননা দিয়েছে রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানে ‘দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে’।

আমরা জানি, মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের মুখে গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আসা আরও প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গার ভার বাংলাদেশ বহন করে চলেছে কয়েক দশক ধরে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে গত বছরের শেষদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি চুক্তি করলেও এখনও প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি। রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানে গতবছর সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া বক্তৃতায় পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে এবারের সাধারণ অধিবেশনে তিনি বলেছেন, ‘জাতিসংঘের সঙ্গে মিয়ানমারের যে চুক্তি হয়েছে- আমরা তার আশু বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা দেখতে চাই। আমরা দ্রুত রোহিঙ্গা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই।’ আর সম্মাননা গ্রহণ করার পর শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে মিয়ানমারে; তাদেরকেই এর সমাধান করতে হবে।

সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবিলম্বে জাতিসংঘ-মিয়ানমার চুক্তি বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তির অবিলম্বে ও কার্যকরী বাস্তবায়ন দেখতে চাই। আমরা চাই, রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান হোক।’ তিনি আরও বলেন, মানুষ হিসেবে আমরা রোহিঙ্গাদের দুর্দশার ব্যাপারে চুপ থাকতে পারি না, একে এড়াতেও পারি না।’   মিয়ানমার কথা দিয়ে কথা রাখে না বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সবসময় মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রশ্নে মৌখিক প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু বাস্তবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কোনও ভূমিকা পালন করে না।’ মিয়ানমারের আচরণ বাংলাদেশকে হতাশ করছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ার জন্য মিয়ানমারকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তরিক প্রচেষ্টার পরও এখন পর্যন্ত স্থায়ী ও টেকসই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত অসহায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশার স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে গত বছর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আমি পাঁচ দফা প্রস্তাব পেশ করেছিলাম। আমরা আশাহত হয়েছি যে আমাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্থায়ী ও টেকসই প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব হয়নি।’

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন নৃশংসতাকে মনে করিয়ে দেয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার পরিস্থিতি বার বারই আমাদেরকে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো গণহত্যার কথা মনে করিয়ে দেয়। নয় মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানিরা ৩০ লাখ নিরপরাধ বাঙালিকে হত্যা করেছিল।’ সাধারণ অধিবেশনে উপস্থিত বিশ্বনেতাদেরকে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে। তারা অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরে অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে আছে, যদিও তাদের ভালো রাখার জন্য বাংলাদেশ সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তাদের জন্য খাবার, কাপড়-চোপড়, স্বাস্থ্যসুরক্ষা, শিশুযত্ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।   রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করায় এবং তাদেরকে সমর্থন ও সহযোগিতা দেওয়ায় জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, ওআইসিসহ বিভিন্ন সংস্থা ও দেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

আমরা দেখেছি, রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার জাতিসংঘে তিনটি প্রস্তাব উপস্থাপিত করেছেন। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শরণার্থী সংকট নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘একটি দায়িত্বশীল সরকার হিসাবে আমরা আমাদের সীমানা খুলে দিয়েছি এবং জোরপূর্বক স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি।  আমরা কেবল তাঁদের জীবনই বাঁচাইনি, আমরা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেছি।  আমরা চাই, রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে তাঁদের মূল ভূমিতে ফিরে যাক।’

এবার তার দেয়া তিন প্রস্তাব একটু স্মরণ করতে চাই। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে যেসব প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেগুলো হচ্ছে- (১) মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আইন ও নীতি বাতিল এবং বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করতে হবে।  এছাড়া রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক স্থানান্তরিত করার প্রকৃত কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে। (২) মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের নাগরিক সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করে একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।  প্রয়োজনে একটি ‘সেফ জোন (নিরাপদ অঞ্চল)’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। (৩) জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের সুপারিশের আলোকে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নৃশংসতার হাত থেকে বাঁচাতে হবে।

আগের বছরও শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানের লক্ষ্যে জাতিসংঘে পাঁচটি পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। এরমধ্যে রয়েছে- (১) অনতিবিলম্বে এবং চিরতরে মিয়ানমারে সহিংসতা ও ‘জাতিগত নিধন’ নিঃশর্তে বন্ধ করা। (২) অনতিবিলম্বে মিয়ানমারে জাতিসংঘের মহাসচিবের নিজস্ব একটি অনুসন্ধানী দল প্রেরণ করা। (৩) জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান করা এবং এ লক্ষ্যে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জাতিসংঘের তত্ত¡াবধানে সুরক্ষা বলয় গড়ে তোলা। (৪) রাখাইন রাজ্য হতে জোরপূর্বক বিতাড়িত সকল রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে তাদের নিজ ঘরবাড়িতে প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা। (৫) কোফি আনান কমিশনের সুপারিশমালার নিঃশর্ত, পূর্ণ এবং দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ও মানবিক আচরণ বর্তমান আছে। কিন্তু মিয়ানমারের অমানবিক আচরণের কারণে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান গতিশীল হতে পারছে না। বিশ্ব নেতৃবৃন্দও বিষয়টি অনেকাংশে উপলব্ধি করতে পারছেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাদের তোপের মুখে পড়তে হতো মিয়ানমারের জাতীয় নেত্রী অং সান সু চিকে। এই কারণে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যাননি তিনি। অধিবেশন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী এই নেত্রী। রোহিঙ্গা সঙ্কটের কারণে গত বছরও তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেননি। অথচ ২০১৬ সালে গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মিয়ানমারের জাতীয় নেতা হিসেবে সু চি প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন। ওই সময় তিনি সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ঘিরে চলমান সঙ্কটে তার সরকারের নেয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ ও বাস্তুচ্যুত করার অভিযোগে ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছেন রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার পদমর্যাদায় দেশটির শাসন ক্ষমতায় থাকা সু চি। পশ্চিমের বিভিন্ন দেশ ও সংগঠন তাকে দেয়া বিভিন্ন সম্মাননা ও পদবি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এদিকে রাখাইনে গণহত্যার কারণে মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত বলে জাতিসংঘের প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। এ নিয়ে নেপিডোর ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র চাপও অব্যাহত আছে। তাই বিশ্বনেতাদের তোপের মুখে পড়ার শঙ্কা থেকে সম্প্রতি নেপালে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনেও যোগ দেননি সু চি। তার পরিবর্তে সরকারের দুজন ঊধ্বর্তন মন্ত্রী কিয়াও টিন্ট সোয়ে ও কিয়াও টিন জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেয়। তারা রোহিঙ্গা ‘প্রত্যাবাসনের’ বর্তমান পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে ‘সহযোগিতার’ বিষয়টি তুলে ধরেন। তবে মিয়ানমার যে রোহিঙ্গাদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণই করে যাচ্ছে তা কিন্তু বিশ্ববাসীর বুঝতে আর কিছু বাকি নেই।

এদিকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করলেও দেশটির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আবারও সাফাই গাইলো চীন। তারা বলছে, রোহিঙ্গা ইস্যুকে ‘জটিল, সম্প্রসারিত ও আন্তর্জাতিকীকরণ’ করা উচিত নয়। রাখাইনে সম্ভাব্য রোহিঙ্গা গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে জাতিসংঘের একটি পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় চীন এ মন্তব্য করলো। ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ওই পরিষদ গঠনে ভোটাভুটি করে। এতে শতাধিক দেশ সমর্থন জানালেও বিরুদ্ধে ভোট দেয় চীন, ফিলিপাইন ও ব্রুনেই। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং জি বলেন, রাখাইনের এ ইস্যুটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ একটি ইস্যু। চীন এটিকে জটিল, সম্প্রসারিত ও আন্তর্জাতিকীকরণের ভূমিকায় থাকতে চায় না। রাখাইনে মিয়ানমারের কর্মকাণ্ডকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে আখ্যা দেয় জাতিসংঘ। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার। তাদের ভাষ্য, রোহিঙ্গারাই অধিকাংশ নৃশংসতার জন্য দায়ী। বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের কূটনৈতিক সম্পর্ক খুবই ভালো। রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেশটির পক্ষে ইতিবাচক সাড়াও দিয়েছে বেইজিং। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এ ইস্যু নিয়ে একটি প্রস্তাবনা উঠলে তার বিরুদ্ধেও ভেটো দেয় চীন।

এবারের অধিবেশনে গিয়ে আরো কিছু ইস্যুতে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি শিক্ষা খাতের উন্নয়নে আরও বেশি বেসরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, শিক্ষা তহবিলে যে ঘাটতি রয়েছে গতানুগতিক আর্থিক সহায়তা তা পূরণে যথেষ্ট নয়। ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স ফ্যাসিলিটি ফর এডুকেশনের ওপর একটি উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা তহবিলে যে ঘাটতি রয়েছে গতানুগতিক আর্থিক সহায়তা পূরণে যথেষ্ট নয়। এই খাতে অবশ্যই বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত করতে হবে।’ জাতিসংঘের গ্লোবাল এডুকেশন বিষয়ক বিশেষ দূত গর্ডন ব্রাউন অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাকে একটি লাভজনক ব্যবসা হিসেবে না দেখে, জনসাধারণের জন্য শিক্ষার ব্যয় বহনযোগ্য করতে বেসরকারি খাতকে যথাযথভাবে শিক্ষায় বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ কর্মীরা মানসম্মত শিক্ষা লাভ করলে বিনিয়োগকারীদের ব্যবসায় উন্নতিতে তা অবদান রাখবে। শেখ হাসিনা এসডিজি ৪ লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষাখাতের তহবিলে যে ঘাটতি রয়েছে তা পূরণে অর্থায়ন কৌশল উদ্ভাবনে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বিনিয়োগ করাই হবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্র ৪ এজেন্ডা ২০৩০ অর্জনের মূল চাবিকাঠি। শেখ হাসিনা বলেন, উচ্চকাক্সক্ষী এসডিজি-৪ লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষায় ব্যাপক হারে অর্থায়ন বাড়াতে হবে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দের পরও এখাতে ঘাটতি থেকে যাবে। শিক্ষার লক্ষ্য অর্জন প্রয়াসী দেশগুলোর সহায়তায় ঋণের পরিবর্তে আরও বেশি অনুদান দিয়ে এতে সম্পৃক্ত হওয়া আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোরও দায়িত্ব। শান্তি নিশ্চিত করতে শিক্ষাকে সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য শান্তি নিশ্চিতে সহায়তার জন্য শিক্ষায় বিনিয়োগের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, শিক্ষা ও জ্ঞান মানুষের মধ্যে উচ্চাকাক্সক্ষা জাগিয়ে তোলে, মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করে এবং সর্বোপরি জীবনকে সমৃদ্ধ করে। তিনি বলেন, ‘অন্যদিকে অর্থনীতির জন্য শিক্ষা উদ্ভাবনী ও প্রবৃদ্ধিকে বিকশিত করে এবং প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করে।’ ২০১৫ সালে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এজেন্ডা ২০৩০ গ্রহণের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে সকলের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও যথার্থ মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের অঙ্গীকার রয়েছে।

দেশে আর বিদেশে সর্বত্রই শেখ হাসিনা গেয়ে চলেছেন মানবিকতার জয় গান। শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির নতুন পন্থা তিনি তুলে ধরছেন বিশ্বব্যাপী। তিনি তাই সারা পৃথিবী থেকেই সম্মাননা পাচ্ছেন। উজ্জ্বল করছেন বাংলাদেশকে।

মোহাম্মদ জমির: সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং প্রধান তথ্য কমিশনার

সংবাদটি শেয়ার করুন

মতামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত