প্রধানমন্ত্রী পদ্মাপারে যাবেন রবিবার

ঢাকাটাইমস ডেস্ক
| আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ২১:৫৮ | প্রকাশিত : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ২০:৪২
সম্প্রতি গোপালগঞ্জ থেকে হেলিকপ্টারে ফেরার পথে পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি দেখেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বৃহত্তম অবকাঠামো প্রকল্পের অগ্রগতি এবং এর রেল সংযোগের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করতে রবিবার পদ্মা সেতু এলাকায় যাবেন। শনিবার তার পদ্মাপারে যাওয়ার কথা থাকলেও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তা একদিন পেছানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী রবিবার মুন্সীগঞ্জের মাওয়া, শরীয়তপুরের জাজিরা ও মাদারীপুরের শিবচর এলাকায় যাবেন।

সূত্র জানায়, পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ নির্মাণ প্রকল্পের’ আওতায় ঢাকার সাথে যশোরের রেল লিংক রোডের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বেলা ১১টার দিকে প্রথমে মাওয়ায় কাজের অগ্রগতি দেখবেন। এরপর ঢাকা-মাওয়া ও পাচর-ভাঙ্গা আটলেনের সড়কের কাজের অগ্রগতি দেখবেন এবং মাওয়ার দিকে রেল লাইন লিংকের কাজের উদ্বোধন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী এরপর স্থায়ী নদী শাসন কার্যক্রমের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। মাওয়া দিকের সেতুর সামগ্রিক কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে মাওয়া গোল চত্বরে এক সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেবেন। দুপুরে প্রধানমন্ত্রী জাজিরা পয়েন্টে সেতুর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করবেন।

পরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিবচরে যাবেন এবং ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী কাঠালবাড়ি ফেরিঘাটে জনসমাবেশে ভাষণ দেবেন।

শরিয়তপুর সংবাদদাতা জানান, প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের আগে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শুক্রবার জাজিরার নওয়াডবা এলাকা পরিদর্শন করেন।

ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শনিবার পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে আসার কথা ছিল। কিন্তু বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তা পরিবর্তন করে রবিবার পরিদর্শনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর উভয় পাশে ৬০ ভাগ কাজের অগ্রগতির ফলক উন্মোচন করবেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জাজিরা পয়েন্টে পাঁচটি এবং মাওয়া পয়েন্টে একটি স্প্যান বসানো হয়েছে। আরও পাঁচটি স্প্যান বসানোর কাজ চলছে।

রেল মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ‘পদ্মা ব্রিজ রেল লিঙ্ক কনস্ট্রাকশন প্রজেক্ট’-এর প্রথম পর্যায়ের কাজ জাজিরা ও শিবচর হয়ে মাওয়া ও ভাঙ্গার মধ্যে রেল সংযোগ স্থাপন করবে। আর পদ্মা বহুমুখী সেতুর মাধ্যমে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, নড়াইল ও যশোরের মধ্যে বৃহত্তর সংযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে।

চীন সরকার মনোনীত নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লি. চীন জিটুজি পদ্ধতির আওতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ ব্যাপারে চীন এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ২৬৬৭ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন ডলারের একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ২৩ কিলোমিটার এলিভেটেড সেতুপথ নির্মিত হবে। এই সেতুপথে একাধিক লিফটসহ দুটি প্লাটফর্ম, একটি মেইন লাইন ও দুটি লুপ লাইন নির্মাণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর শরীয়তপুরের জাজিরা ও মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় মূল সেতু নির্মাণ ও রিভার ট্রেইনিং কাজের উদ্বোধন করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সেতু উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নয়া দিগন্তের সূচনা হবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের ১৯টি জেলার প্রায় ছয় কোটি মানুষের জীবনযাত্রায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। শুধু তাই নয়, রাজধানী ঢাকাসহ সমগ্র দেশের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে।

তারা আরও জানান, এর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাসমূহের লোকদের দীর্ঘ ভোগান্তি লাঘব হবে। দেশের অন্য প্রান্তে যাতায়াতের ক্ষেত্রে তাদের যাত্রার সময় দুই থেকে তিন ঘণ্টা কমে যাবে।

কংক্রিট ও ইস্পাত কাঠামোয় তৈরি দুই স্তরের পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন আর নিচ দিয়ে চলবে রেল।

সরকার ৩০ হাজার কোটি টাকার নিজস্ব তহবিলে দেশের সর্ববৃহৎ ‘পদ্মাসেতু’ নির্মাণ করছে। মূল সেতু, নদী শাসন, দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণসহ পাঁচ ভাগে সম্পন্ন হচ্ছে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ।

এই সেতুতে থাকবে মোট ৪২টি পিলার। এগুলোর প্রতিটি ছয়টি পাইলের ওপর দাঁড়ানো থাকবে। পিলারগুলোর ওপরে বসানো হবে ইস্পাতের স্প্যান। সেতুতে মোট ৪১টি স্প্যান বসবে।

নদী শাসন কাজে নিয়োগ করা হয়েছে চীনের সিনোহাইড্রো করপোরেশনকে এবং দুট এপ্রোজ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লি.।

এই সেতুর নির্মাণ কাজ তদারক করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বুয়েট ও কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস।

এই সেতু নির্মাণের ফলে দেশের বাণিজ্য, উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। -বাসস

(ঢাকাটাইমস/১২অক্টোবর/জেবি)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত