জামালপুরে বাঁধের ৩৫ মিটার নদীগর্ভে, যমুনাতীরে আতঙ্ক

জামালপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ২১:৫৬

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের শশারিয়াবাড়ী বেড়পাড়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বামতীর রক্ষা বাঁধের ৩৫ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বুধবার গভীর রাতে এই বাঁধ ধসে যাওয়ায় যমুনার তীরবর্তী মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড শুক্রবার বিকাল থেকে বাঁধের ধসে যাওয়া অংশে বালিভর্তি জিওব্যাগের ডাম্পিং কাজ শুরু করেছে। কয়েকটি স্থানে দফায় দফায় ধসে যাওয়ায় বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের শশারিয়াবাড়ী এলাকায় গত বুধবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে আকস্মিকভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের যমুনা বামতীর রক্ষা বাঁধের প্রায় ৩৫ মিটার সিসি ব্লকের বাঁধ বিকট শব্দে যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ নিয়ে যমুনা তীরবর্তী লোকজনের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যমুনার পানির প্রবল ঘূর্ণিস্রোতে সেখানে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা ভাঙন স্থান পরিদর্শন করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড শুক্রবার বিকেল থেকে সেখানে বালিভর্তি জিওব্যাগের ডাম্পিং করে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু করেছে।  

গত ১৬ সেপ্টেম্বর ভোরে উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের উলিয়া বাজার এলাকায় এই বাঁধের ১৫ মিটার স্থানজুড়ে সিসি ব্লক নদীগর্ভে ধসে পড়ে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে সেখানে বালিভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করে।

এর আগে একই বাঁধের মরাডুবি ঘাট এলাকার দুটি স্থানে প্রায় ২০ মিটার বাঁধের সিসি ব্লক ধসে যায়। সেখানে বালিভর্তি জিওব্যাগ ড্রাম্পিং করে ভাঙন প্রতিরোধ করে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ফুটানি বাজার থেকে ইসলামপুর উপজেলার গুঠাইল বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার সিসি ব্লকের বাঁধ নির্মাণ করতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। বাঁধের নির্মাণে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজ এবং অবৈধভাবে বালি তোলার কারণে এই বাঁধটি সম্পূর্ণরূপে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

দফায় দফায় বাঁধ ধসের কারণ বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম বলে মনে করেন স্থানীয়রা। তবে এ বিষয়ে জামালপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নবকুমার চৌধুরী বলেন, এই বাঁধ নির্মাণে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। কুলকান্দি এলাকায় যমুনা নদীর মূল চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে যমুনা নদীর গতি পরিবর্তন হয়ে পানি প্রবাহ বামতীরে প্রবল বেগে চাপ দিচ্ছে। অপরদিকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিনে বালি তোলার কারণেও বাঁধটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

প্রকৌশলী আরও জানান, বুধবার রাতে ধসে পড়া স্থানে ভাঙন প্রতিরোধে তিন হাজার জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বিকাল থেকে সেখানে বালিভর্তি জিওব্যাগের ডাম্পিং কাজ শুরু হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১২অক্টোবর/প্রতিনিধি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত