নির্যাতনে ইউপি সদস্যের মৃত্যুর অভিযোগে এসআইর বিরুদ্ধে মামলা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৪ অক্টোবর ২০১৮, ২০:৩৯

ঝালকাঠিতে নির্যাতনে আওয়ামী লীগের নেতা ও ইউপি সদস্যের মৃত্যুর অভিযোগে ঝালকাঠি সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে (৫)২ মামলা হয়েছে।

আজ রবিবার দুপুরে সদর উপজেলার লেশপ্রতাপ গ্রামের ওই ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান মন্টুর স্ত্রী নাজমা বেগম বাদী হয়ে ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে আটজনকে আসামি করে এ মামলা করেন।
বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. ইখতিয়ারুল ইসলাম মল্লিক মামলাটি তদন্ত করে আগামী ২৬ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরিশালের উপপরিচালককে নির্দেশ দেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন, সদর উপজেলার বারইগাতি গ্রামের আব্বাস তালুকদার, ইছাহাক তালুকদার, সামসুল হক তালুকদার, ইয়াসিন তালুকদার, সুলতান তালুকদার, আবদুর রহিম ওরফে রাসেল ও নূরুল হক।
মামলার বিবরণে জানা যায়, বাসন্ডা ইউনিয়নের লেশপ্রতাপ গ্রামের এক ব্যবসায়ী ইউপি সদস্য ও নয় নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি খলিলুর রহমান মন্টুর বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজির মামলা করেন। মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলে উপপরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন ইউপি সদস্য মন্টুর কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। মন্টু ২৫ হাজার টাকা এসআই দেলোয়ারকে দেন। বাকি টাকার জন্য মন্টুকে চাপ দেন তিনি। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় মন্টুকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হয়।

পরে মামলার বাদীর কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়ার খবর পেয়ে মন্টু এসআই দেলোয়ারকে দেওয়া ২৫ হাজার টাকা ফেরত চাইলে ক্ষিপ্ত হন তিনি। মন্টুকে ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে শহরের তরকারিপট্টির ভাড়া বাসায় দেখা করতে বলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। মন্টু ওই বাসায় গেলে এসআই দেলোয়ার তাকে ঘরের ভেতর আটকে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ। এতে মন্টুর একটি পা ভেঙে যায় এবং মাথা ও বুকে গুরুতর আঘাত লাগে। সপ্তাহ খানেক পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় মন্টুকে।

কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে মন্টুকে ২৯ সেপ্টেম্বর বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কারা শাখায় ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩ অক্টোবর রাতে মারা যান মন্টু।

মামলার বাদী নাজমা বেগম অভিযোগ করেন, ‘আমার স্বামীকে একটি মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন এক লাখ টাকা দাবি করে ২৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। এর পরও এসআই দেলোয়ার বাকি টাকার জন্য আমার স্বামীকে তাঁর তরকারিপট্টির ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে পা ভেঙে হাসপাতালে ভর্তি করান।’ মিথ্যা মামলায় ঘুষের টাকা নিয়েও স্বামীকে নির্যাতনে হত্যা এবং সন্তানদের এতিম করার জন্য এসআই দেলোয়ারের বিচার দাবি করেন তিনি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুর রশীদ সিকদার বলেন, ‘ঘুষের দাবিতে মন্টুকে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতনের কারণে মন্টুর মৃত্যু হয়েছে। ঘুষ নেওয়া এবং দাবি করায় এসআই দেলোয়ারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের (৫)২ ধারা এবং দ-বিধির ১০৯/১১৪/১৬১/৩০২/৩৪ ধারায় মামলা করেছি। এতে হত্যার অভিযোগও আনা হয়েছে। এ কাজে তাকে যারা সহযোগিতা ও প্ররোচনা দিয়েছেন তাদেরও আসামি করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঝালকাঠি সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান মন্টুর বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজির মামলা থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তিনি রিকশা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় আড়দদার পট্টিতে ড্রেনে পড়ে তার একটি পা ভেঙে যায়। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হার্ট অ্যাটাকে মারা যান তিনি।’

(ঢাকাটাইমস/১৪অক্টোবর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত