যৌন হেনস্থা: একজোট নারী পরিচালকরা

বিনোদন ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ১০:২৯ | প্রকাশিত : ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:৫৪

বিশ্বের অন্যতম বড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি বলিউডে এখন বইছে #MeToo ঝড়। যে ঝড় প্রথম উঠেছিল হলিউডে। যৌন হেনস্তার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন সেখানকার বিখ্যাত প্রযোজক হার্ভে ওয়েনস্টিন। পুলিশের জালে ধরাও পড়েছিলেন। যদিও পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে যান। সেই যৌন হেনস্তার কাড়ি কাড়ি অভিযোগে এখন পালানোর পথ খুঁজছেন বলিউডের নামকরা পরিচালক, প্রযোজক থেকে শুরু করে অভিনেতা এবং গায়করাও।

গত মাসে বলিউডে এই #MeToo প্রতিবাদের শুরুটা করেছিলেন ‘আশিক বানায়া আপনে’ খ্যাত সাবেক অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ২০০৮ সালে ‘হর্ণ ওকে প্লিজেস’ ছবির শুটিং সেটে খ্যাতিমান অভিনেতা নানা পাটেকর তাকে যৌন হেনস্তা করেছিলেন। সে সময় দুই পরিচালকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন তনুশ্রী। ব্যাস, এরপর থেকেই একে একে বের হচ্ছে যৌন হেনস্তার লুকিয়ে থাকা অভিযোগগুলো।

সেই তালিকা ক্রমেই লম্বা হচ্ছে। তনুশ্রীর পথ অনুসরণ করে অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত অভিযোগ তোলেন তার ‘কুইন’ ছবির পরিচালক বিকাশ বহেলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে প্রবীণ অভিনেতা অলোক নাথের বিরুদ্ধে। নাম রয়েছে নামকরা পরিচালক সুভাষ ঘাই এবং কণ্ঠশিল্পী অভিজিৎ ভট্টাচার্য ও কৈলাশ খেরসহ অনেকের। বাদ পড়েননি বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চনও। তার বিরুদ্ধেও নাকি যৌন হেনস্তার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

#MeToo’র প্রতিবাদ হিসেবে পরিচালক সুভাষ ঘাইয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল আগেই। অভিযোগটি করেছিলেন নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক নারী। তার অভিযোগ, মদের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করে পরিচালক তাকে ধর্ষণ করেছিলেন। সম্প্রতি নতুন আরো একটি অভিযোগ জমা পড়েছে সেই সুভাষ ঘাইয়ের নামে। শনিবার রাতে তার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কেট শর্মা নামের এক উঠতি অভিনেত্রী। অভিযোগের তদন্তও শুরু করেছে পুলিশ।

সেই অভিযোগে কেট লিখেছেন, ‘গত ৬ আগস্ট তাকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান পরিচালক সুভাষ ঘাই। তাকে দিয়ে পিঠ ও মাথা ম্যাসাজ করান ৭৩ বছর বয়সী প্রবীণ এ চলচ্চিত্র নির্মাতা। ম্যাসাজ শেষে ওই অভিনেত্রী যখন ওয়াশরুমে হাত ধুতে যাচ্ছিলেন তখন সুভাষ তাকে জোর করে অন্য ঘরে নিয়ে যান। চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেন।  এমনকী, তার সঙ্গে রাত কাটাতেও বলেন।

এমন প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পরিচালক সুভাষ ঘাই অভিনেত্রী কেটকে ভয় দেখান। বলেন, চলে গেলে তাকে কোনো ছবিতে সুযোগ দেয়া হবে না। অভিনেত্রীর কথায়, ‘উনি বলেছিলেন, যা কে দিখা! কোথাও যাবে না তুমি, আমার সঙ্গে সারা রাত থাকবে। তা না হলে তোমাকে কোনো ছবিতেই সুযোগ দেব না। স্টার হওয়া হবে না তোমার।’

আর এতসব অভিযোগের জেরেই যৌন হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছেন বলিউডের নারী পরিচালকরা। ১১ জন অভিনেত্রী ও নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা যৌথভাবে ঘোষণা দিয়েছেন, যৌন হেনস্তাকারীদের সঙ্গে তারা কাজ করবেন না। তাদের যৌথ স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতিপত্র সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন অলংকৃতা শ্রীবাস্তব, গৌরী শিন্ধে, কিরণ রাও, কঙ্কনা সেন শর্মা, মেঘনা গুলজার, নন্দিতা দাস, নিতিয়া মেহরা, রীমা কাগতি, রুচি নারাইন, সোনালি বোস ও জয়া আখতার।

সেই বিবৃতিতে এসকল নারী অভিনেত্রী ও পরিচালকরা জানিয়েছেন, ‘নারী ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে আমরা #MeToo ইন্ডিয়া আন্দোলনকে সমর্থন জানাচ্ছি। যেসব নারী তাদের নির্যাতন ও নিগ্রহ সম্পর্কে সৎ বক্তব্য নিয়ে এগিয়ে এসেছেন, তাদের প্রতি আমরা সম্পূর্ণ সংহতি জানাচ্ছি। কাঙ্ক্ষিত বদলের পথে বিপ্লব আনার জন্য তাদের যে সাহস, আমরা সেটাকে সম্মান জানাচ্ছি।’

তারা আরো বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে সমতা ও নিরাপত্তার পরিবেশ তৈরির ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্যই আমরা একজোট হয়েছি। প্রমাণিত যৌন হেনস্তাকারীদের সঙ্গে কাজ না করার ব্যাপারে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চলচ্চিত্রশিল্পের সঙ্গে জড়িত আমাদের সমস্ত বন্ধু ও সহযোগীদের কাছেও আমরা এ ব্যাপারে অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনারাও প্রমাণিত যৌন হেনস্তাকারীদের বয়কট করুন।’

এ দিনই আবার প্রবীণ সাংবাদিক বিনোদ দুয়ার বিরুদ্ধে ফেসবুকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ জানিয়েছেন পরিচালক নিষ্ঠা জৈন। নিজের ফেসবুক পোস্টে ১৯৮৯ সালের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। এদিকে #MeToo  সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্য দিল্লি মহিলা কমিশন আলাদা একটি ইমেইল আইডি তৈরি করেছে, [email protected]। এই সংক্রান্ত সাহায্যের জন্য ১৮১ নম্বরে ফোন করার কথাও বলেছে কমিশন।

ঢাকাটাইমস/১৫ অক্টোবর/এএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত