জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে জিডি সেনা সদরের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ০০:২১ | প্রকাশিত : ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ১৪:৩৭
সংবাদ সম্মেলনে তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন জাফরুল্লাহ (ফাইল ছবি)

বেসরকারি টেলিভিশনে টক শোতে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ সম্পর্কে বিরূপ বক্তব্য করায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করেছে সেনা সদর। এতে বিধি মোতাবেক তদন্ত করে উপরে জাফরুল্লাহসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হয়।

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় শুক্রবার এই জিডি করেন সেনা সদরের মেজর এম রকিবুল আলম। জিডি নম্বর ৪৯৮। গত ৯ অক্টোবরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করতে বিলম্বের কারণ হিসেবে ‘সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা ও নির্দেশ’ পাওয়ার কথাও জানানো হয়।

গত ৯ অক্টোবর রাতে সময় টিভির সম্পাদকীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন জাফরুল্লাহ। ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট হামলায় ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেডের উৎসের বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, আজিজ আহমেদ চট্টগ্রামের জিওসি থাকাকালে বেশ কিছু অস্ত্র হারিয়ে গিয়েছিল। এরপর তিনি কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি হয়েছেন।

এই বক্তব্য নজরে আসে সেনা সদরদপ্তরের। আর সেখান থেকে জানানো হয়, আজিজ আহমেদ কখনও চট্টগ্রামের জিওসি ছিলেন না। আর তিনি তার চাকরি জীবনে কখনও কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি হননি।

এরপর জাফরুল্লাহ সংবাদ সম্মেলন করে তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে তিনি এমনও দাবি করেন, আজিজ আহমেদ কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি না হলেও তার বিরুদ্ধে কোর্ট অব ইনকোয়ারি হয়েছিল।

সেনা সদরদপ্তরের জিডিতে জাফরুল্লার বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিদ্বেষপ্রসূত ও ষড়যন্ত্রমূলক উল্লেখ করা হয়েছে। কেন, কি উদ্দেশে এবং কাদের প্ররোচণায় তিনি এ বক্তব্য দিয়েছেন তাও তদন্তের কথা জানানো হয়।

জিডিটি তদন্তের জন্য ডিবির (ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

 

জিডিতে যা বলা হয়েছে

জিডিতে বলা হয়েছে, ‘বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ সম্পর্কে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বক্তব্যটি ছিল একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন, অসত্য বক্তব্য। কারণ বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ চাকরি জীবনে কখনোই চট্টগ্রামে জিওসি বা কমান্ড্যান্ট হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন না। তিনি ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত কুমিল্লায় ৩৩ আর্টিলারি ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার, ২০১১ সালের জুন থেকে ২০১২ সালের মে পর্যন্ত ঢাকার মিরপুরে ৬ স্বতন্ত্র এডিএ ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার এবং ২০১২ সালের মে থেকে ২০১২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কুমিল্লায় ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে চট্টগ্রাম বা কুমিল্লা সেনানিবাসে কোনও সমরাস্ত্র বা গোলাবরুদ চুরি বা হারানোর কোনও ঘটনা ঘটেনি।’

জাফরুল্লাহর বক্তব্যকে বানোয়াট, সৃজিত,উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এ অসত্য উল্লেখ করে জিডিতে এও বলা হয়,  এটি সেনাবাহিনীর মতো রাষ্ট্রীয় একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে জনসম্মুখে হেয় করার হীন অপচেষ্টা।

এই বক্তব্য সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিভ্রান্ত এবং তাদের মনোবলের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলেও উল্লেখ করা হয় জিডিতে। বলা হয়, ‘এরূপ অপপ্রচার সেনাবাহিনীর মতো সুশৃঙ্খল বাহিনীর সংহতি ও একতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি বিদ্বেষ ও ঘৃণা সৃষ্টি করে সরকারকে অস্থিতিশীল করার নিমিত্তে সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিভ্রান্ত করেছে এবং তাদের মনোবলের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।’

‘এ ছাড়া এরূপ অপপ্রচার সেনাবাহিনীর মতো সুশৃঙ্খল বাহিনীর সংহতি ও একতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। ডা. জাফরুল্লাহ তার বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর ঐক্যকে বিনষ্ট করাসহ সাধারণ জনগণের মধ্যেও বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উদ্দেশ্যমূলক গুজব ছড়িয়ে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে সেনাবাহিনী সম্পর্কে বিরূপ ও নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন বলে প্রতীয়মান।’

জিডিতে সই করা কর্মকর্তা জানান, অনুষ্ঠান চলাকালে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মুখে উপরে উল্লেখিত বক্তব্য শুনে তিনি বেশ অবাক ও হতভম্ভ হয়ে যান এবং তার মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠান শেষে তিনি বিষয়টি নিয়ে আমার কিছু সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানের পরদিন সেনাবাহিনীর বাইরে থেকেও অনেকে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন জানিয়ে জিডিতে বলা হয়, ‘যারা অনুষ্ঠানটি দেখেছেন তাদের বেশিরভাগ লোকই ডা. জাফরুল্লার বক্তব্যে সেনাবাহিনী সম্পর্কে হতাশা ব্যক্ত করেন এবং তাদের সকালের মধ্যে একটি অনিশ্চয়তা কাজ করে।’

জিডিতে বলা হয়, ‘ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মতো একজন উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি কেন, কি উদ্দেশ্যে এবং কাদের প্ররোচণায় এ ধরনের উদ্দেশ্যমূলক, বানোয়াট ও অসত্য বক্তব্য টকশোতে বলেছেন তা তদন্তের দাবি রাখে।’

ঢাকাটাইমস/১৫অক্টোবর/এএ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত