বিএনপির সঙ্গে ঐক্য কামালের অধঃপতন: আ.লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ২২:৫৩ | প্রকাশিত : ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:৫১

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বিএনপির জড়িত থাকার অভিযোগ করার পরও দলটির সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের ঐক্য তার অধঃপতনের প্রমাণ হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ। দলের মুখপাত্র হাছান মাহমুদ বলেছেন, ড. কামাল বঙ্গবন্ধুর কথা বললেও তিনি তাদের সঙ্গেই ঐক্য গড়েছেন যারা বঙ্গবন্ধুর খুনিদেরকে পৃষ্ঠপোশকতা করেছেন।

সোমবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করেন হাছান। গত ১৩ অক্টোবর বিএনপি এবং আরও কয়েকটি ছোট দলকে নিয়ে ঐক্যের ঘোষণা দেন ড. কামাল হোসেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী এই ঐক্য গড়ায় কামাল হোসেনকে কটাক্ষও করেন। তবে আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে দুই দিন পর।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর ড. কামাল হোসেন একটি গণতদন্ত কমিশন গঠন করেন। এই তদন্ত কমিশনের পক্ষ থেকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার জন্য বিএনপিকে দায়ী হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছিল। বর্তমান অবস্থায় এসে ড.  কামাল হোসেন বিএনপির সাথে ঐক্য করছেন, যা তার জন্য রাজনৈতিক চরম অধঃপতন ছাড়া অন্য কিছু নয়।’

‘ড. কামাল হোসেন এখনও বলেন তিনি বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ সৈনিক ছিলেন। যারা বঙ্গবন্ধুকে স্বীকার করে না, যারা বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল, ক্ষমতায় থাকাকালে রাষ্ট্রীয় সকল প্রচার যন্ত্র থেকে নির্বাসিত করেছিল, ড. কামাল হোসেন এখন তাদের সাথে ঐক্য করছেন।’

‘এটা ড. কামাল হোসেনের রাজনৈতিক চরম অধঃপতন ছাড়া অন্য কোনো কিছু নয়।’

এ সব বিষয়ে ড. কামাল হোসেনের কাছে ব্যাখ্যাও দাবি করেন হাছান মাহমুদ।

রিজভীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগ জড়িত বলে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যেরও প্রতিক্রিয়া জানান হাছান। বলেন, ‘রিজভীরএই বক্তব্য আদালত অবমাননার সামিল।’

‘আমি আদালতকে অনুরোধ জানাই, আদালতের রায় নিয়ে কটাক্ষ করা, আদালত রায়ের পর এই বক্তব্য যেহেতু আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন, তাই আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে রিজভী আহমেদের বিরুদ্ধে আইন গত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে তার জোর দাবি জানাচ্ছি।‘

‘দীর্ঘ ১৪ বছর পর কয়েক বছরের আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার পর এবং আদালতের সাওয়াল জবাবের পর যে রায় দিয়েছে সেই রায়ের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন এবং আইন ও আদালতের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন।’

গ্রেনেড হামলার নানা ঘটনা উল্লেখ করে হাছান বলেন, ‘সাধারণত বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে কোন সমাবেশ হলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আশপাশের ভবনগুলোতে সতর্ক পাহারায় থাকে। কিন্তু সেদিন পুলিশের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের ভবনগুলোর উপরে উঠতে অনুমতি দেয়নি।’

‘আলামত হিসেবে গ্রেনেড রেখে দেয়ার চেষ্টার অপরাধে মেজর সামসসহ বেশ সেনাবাহিনীর কয়েকজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। হামলার পর নেতা কর্মীদের সাহায্যার্থে যারা এগিয়ে আসে তাদের উপর লাঠিচার্জ করা হয় এবং টিয়ারসেল নিক্ষেপ করা হয়।’

‘ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগে আহতদের নিয়ে আসা হলে সেখানে কোন ডাক্তার এবং নার্সদের পাওয়া যায়নি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কিছু সংখ্যক ডাক্তার তখন রক্তচক্ষুদের উপেক্ষা করে আহতদের চিকিৎসা দিয়েছিল।’

‘ঘটনার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বিচারপতি জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বে যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল সেই তদন্ত কমিটি জাতির সাথে আর একটি মশকরা করেছিল। তারা তদন্ত করে বলেছিল এই ঘটনার সাথে ইজরাইলের গোয়েন্দারা জড়িত।’

বিএনপির রাজনীতি মিথ্যাচারের উপর প্রতিষ্ঠিত উল্লেখ করে হাছান বলেন, ‘বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে রিজভী আহমেদ মিথ্যাচার করছেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি যে বিডিআর বিদ্রোহ হয়েছিল, তার সমস্ত ঘটনা প্রবাহ বলে এর সাথে বেগম খালেদা জিয়া জড়িত ছিল। বিডিআর বিদ্রোহ শুরু হয় সকাল ১০ টার দিকে। যিনি সকাল ১২ টার আগে ঘুম থেকে উঠতে পারেন না।’

‘সেদিন তিনি (খালেদা জিয়া) সকাল সাতটা, সাড়েটায় বাস ভবন ত্যাগ করে ২৪ ঘন্টা নিরুদ্দেশ ছিলেন। তার পুত্রের সাথে বহু দফা তার টেলিফোনে আলাপ হয় এবং এরপরে বিএনপি উস্কানিমূলক বক্তব্য সাক্ষ্য দেয় এই বিডিআর বিদ্রোহের সাথে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সাথে বিএনপি যুক্ত ছিল।’

কেবল ২১ আগস্টের জন্য নয়, বিডিআর বিদ্রোহের জন্যও খালেদা জিয়ার বিচার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন হাছান মাহমুদ। তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি এবং একই সাথে খালেদা জিয়ার বিচার দাবি করেন।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দীলিপ বড়ুয়া, আমিনুল ইসলাম, হারুনুর রশিদ, আব্দুস সবুর, আনোয়ারুজ্জামান, ফরিদুন্নাহার লাইলী প্রমুখ।

ঢাকাটাইমস/১৫অক্টোবর/কারই/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত