আহা, এইখানে এক নদী ছিল...

প্রভাষ আমিন
| আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:১৮ | প্রকাশিত : ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:৫৫

সবারই শেষ জীবন কাটানোর একটা স্বপ্ন থাকে। কারো স্বপ্ন পূরণ হয়, কারোটা হয় না। আমার স্বপ্নটা ছোট, কিন্তু জানি পূরণ হবে না। আহা, আমার যদি ছোট্ট একটা নদীর পারে ছোট্ট একটা কুঁড়েঘর থাকত। সেখানে ফেসবুক দরকার নেই, ইন্টারনেট লাগবে না; খালি বই পড়া আর গান শোনার ব্যবস্থা থাকলেই হবে। সকালে নদীর পারে হাঁটব, বুক ভরে নেব, ফ্রেশ অক্সিজেন, দুপুরে নদীতে সাঁতার কাটব, বিকেলে নদীর পারে আরাম কেদারায় বসে বই পড়ব আর গান শুনব। রাতে নদী থেকে আসা ভেজা হাওয়া গায়ে মেখে, বাতাসে ভেসে আসা ফুলের গন্ধে ঘুমিয়ে যাব।

আমার শেষ জীবনের স্বপ্নে যেমন নদী আছে, আছে ছেলেবেলায়ও। শুধু আমার নয়, নদীমাতৃক বাংলাদেশে সবার স্মৃতিতেই একটা না একটা নদী থাকে। ছেলেবেলার স্মৃতির পরতে পরতে থাকে নদীর বিস্তার। আমাদের বাড়ির সবচেয়ে কাছে দাউদকান্দি দিয়ে বয়ে গেছে গোমতী নদী। প্রমত্তা মেঘনাও খুব দূরে নয়। কিন্তু আমার ছেলেবেলার নদীর নাম কালাডুমুর। আমার মামাবাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই নদীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক সেই গানের মতো, ‘এই নদীতে সাঁতার কাইটা বড় হইছি আমি...।’ আমার জন্ম রঘুনাথপুরে মামাবাড়িতে। আমরা শহীদনগরের বাড়ি থেকে বাসে যেতাম ইলিয়টগঞ্জ। সেখান থেকে নৌকায় পাঁচপুকুরিয়া হয়ে সালিয়াকান্দি রঘুনাথপুর। এই পথটা ছিল ছেলেবেলায় আমাদের অনাবিল আনন্দের উৎস। বর্ষায় এই কালাডুমুরে পাল তোলা নৌকা চলতো, চলতো গুণ টানা নৌকাও। শাপলা-শালুকের বিল পেরিয়ে পৌঁছে যেতাম মামাবাড়ি। আর মামাবাড়ি মানেই অবাধ স্বাধীনতা; পড়াশোনা নেই, যা ইচ্ছা তাই করা যেত। পুরো গ্রামটাই যেন ছিল মামাবাড়ি। হাটতে হাটতে যেকোনো বাড়িতে ঢুকে পড়লেই ‘ও তুমি শাহেদার পোলা’ বলে মিলতো বাড়তি সমাদর। বলছিলাম কালাডুমুর নদীর কথা। ইলিয়টগঞ্জ থেকে রঘুনাথপুর যেতে যেতে নদী দেখতাম, নদীর দুই পারের মানুষ দেখতাম। ছইয়ের বাইরে দাঁড়িয়ে মিশে যেতাম উদার প্রকৃতির সঙ্গে। বাবা-মায়ের কড়া দৃষ্টি উপেক্ষা করে ছুঁয়ে দিতাম নদীর জল। বিল দিয়ে যাওয়ার সময় টান দিয়ে তুলে নিতাম শাপলা।