জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা ও ভাঙচুরের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ০১:২০ | প্রকাশিত : ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ০১:১১

সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদকে নিয়ে উদ্ভট বক্তব্যের কারণে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা দায়েরের পর এবার জমি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।

সোমবার রাতে আশুলিয়া থানায় এ মামলা করেন মানিকগঞ্জ জেলার হরিরাম পুরের মোহাম্মদ আলী (৫৬) ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মো আনিছুর রহমান।

মামলায় জাফরুল্লাহ ছাড়াও আরো তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন-গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মো. দেলোয়ার হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক মো সাইফুল ইসলাম শিশিশ (৫৫) ও নূর মোহাম্মদের ছেলে আওলাদ হোসেন (৪৮)।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়, আশুলিয়া থানাধীন পাথালিয়া মৌজায় ৪.২৪ একর জমির ক্রয় সূত্রে মালিক মোহাম্মদ আলী, আনিছুর রহমান ও জনৈক তাজুল ইসলাম। তারা এ জমিতে কাটাতারের বেষ্টনী দিয়ে টিনশেডের ঘর বানিয়ে গাছপালা রোপণ করেছেন। কিন্তু আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে এ জমি দখল করার চেষ্টা করছে। সর্বশেষ ১৪ অক্টোবর আসামিরা ওই জমিতে হাজির হয়ে বলেন, জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নির্দেশে এ জমি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে অথবা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে এককোটি টাকা জরিমানা দিতে হবে। বাদীরা এ টাকা দিতে অস্বীকার করলে আসামিরা জমিতে ভাঙচুর করেন।

এর আগে বেসরকারি টেলিভিশনে টক শোতে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ সম্পর্কে বিরূপ বক্তব্য করায় জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করে সেনা সদর। এতে বিধি মোতাবেক তদন্ত করে উপরে জাফরুল্লাহসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হয়।

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় শুক্রবার এই জিডি করেন সেনা সদরের মেজর এম রকিবুল আলম। জিডি নম্বর ৪৯৮। গত ৯ অক্টোবরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করতে বিলম্বের কারণ হিসেবে ‘সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা ও নির্দেশ’ পাওয়ার কথাও জানানো হয়।

ইতিমধ্যে জিডিটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এই জিডিটি রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে এটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশকে স্থানান্তর করা হয়। সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো: আব্দুল বাতেন বাসসকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফজলুর রহমানকে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়েছে।

সেনা সদরদপ্তরের জিডিতে জাফরুল্লার বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিদ্বেষপ্রসূত ও ষড়যন্ত্রমূলক উল্লেখ করা হয়েছে। কেন, কি উদ্দেশে এবং কাদের প্ররোচণায় তিনি এ বক্তব্য দিয়েছেন তাও তদন্তের কথা জানানো হয়।

গত ৯ অক্টোবর রাতে সময় টিভির সম্পাদকীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন জাফরুল্লাহ। ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট হামলায় ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেডের উৎসের বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, আজিজ আহমেদ চট্টগ্রামের জিওসি থাকাকালে বেশ কিছু অস্ত্র হারিয়ে গিয়েছিল। এরপর তিনি কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি হয়েছেন।

এই বক্তব্য নজরে আসে সেনা সদরদপ্তরের। আর সেখান থেকে জানানো হয়, আজিজ আহমেদ কখনও চট্টগ্রামের জিওসি ছিলেন না। আর তিনি তার চাকরি জীবনে কখনও কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি হননি।

এরপর জাফরুল্লাহ সংবাদ সম্মেলন করে তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে তিনি এমনও দাবি করেন, আজিজ আহমেদ কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি না হলেও তার বিরুদ্ধে কোর্ট অব ইনকোয়ারি হয়েছিল।

(ঢাকাটাইমস/১৬অক্টোবর/বিইউ/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত