প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের মধ্যেই ঢাবি ‘ঘ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ২০:২৮ | প্রকাশিত : ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:২৮

‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের সুরাহা হওয়ার আগেই ফল প্রকাশ নিয়ে বিতর্কে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আবার অন্যান্য ইউনিটের তুলনায় এই ইউনিটে পাসের উচ্চহার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগকে আরও জোড়াল করেছে।  

গত ১২ অক্টোবর হয় ভর্তি পরীক্ষা। আর সেদিনই প্রশ্ন ফাঁসের গুঞ্জন ছড়ায়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মামলায়ও করে থানায়, গ্রেপ্তার হয় বেশ কজন। যাকে হোতা বলা হচ্ছে, তিনি অবশ্য ধরা পড়েননি।

এর মধ্যে মঙ্গলবার ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয় যাদে পাসের হার ২৬.২১ শতাংশ, যা স্মরণকালের রেকর্ড।

চলতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্য ইউনিটগুলোতে যে পরীক্ষা হয়েছে, তাতে পাসের হার ১২ শতাংশ ছাড়ায়নি।

রেকর্ড সংখ্যক পরীক্ষার্থী পাস করার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, 'এই অনুষদের প্রশ্ন তুলনামূলকভাবে অন্যান্য অনুষদের চেয়ে সাবলীল ও সহজ হয়েছে তাই পাসের হার স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে'।

উপাচার্য এও জানান, তিনি বিশ্বাস করেন যে শিক্ষার মান উন্নয়নে এইরকম প্রশ্ন হওয়া দরকার যাতে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী পাস করে।

এই সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম কর্মীদের একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়েন উপাচার্য। তবে জবাব মেলেনি বেশিরভাগের।

একজন সাংবাদিক জানতে চান, প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে কি না।

এর জবাব প্রথমে দেন প্রো-উপাচার্য মোহাম্মদ সামাদ। বলেন, ‘প্রশ্নফাঁস বা ডিজিটাল জালিয়াতি যাই হোক না কেন প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।’

উপাচার্য জবাব দেন, ‘আপনারা যে শব্দ ব্যবহার করেন না কেন, বিষয়টা আমার কাছে একই, মানে ভর্তি জালিয়াতি আর প্রশ্ন ফাঁস।’ 

আরেকজন সাংবাদিক জানতে চান, প্রশ্ন ফাঁস হলে পরীক্ষা কেন বাতিল করেননি।

উপাচার্য বলেন, ‘আমরা এতগুলো ছেলের জীবন নিয়ে খেলতে পারব না। যখন যাকে আমরা আইডেনটিফাই করতে পারব, তখন তার ভর্তি বাতিল করে দেব। যদি সে ইউনিভার্সিটি থেকে বেরিয়েও যায়, তখনও আমরা তার ভর্তি বাতিল করব।’

এখন তবে কী ব্যবস্থা নেবেন- এমন প্রশ্নে উপাচার্য বলেন, ‘যারা এই কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

যদি ১০ জনও ফাঁসকৃত প্রশ্নের মাধ্যমে ভর্তি হয়ে থাকে, তাহলে তো ১০ জন মেধাবী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া থেকে বঞ্চিত হলো- প্রশ্ন রাখেন এক সাংবাদিক।

জবাবে উপাচার্য জবাব না দিয়ে প্রশ্নকর্তার প্র্রশংসা করে বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদকরা অনেক চিন্তা করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে ভাবে’।

প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় তদন্ত কমিটির কাজের অগ্রগতির বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘আমাদের কাছে বিভিন্নভাবে যে তথ্য এসেছে তা পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর আগে ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা জালিয়াতির সাথে জড়িত তারা কেউ ছাড় পাবে না।’

অন্য এক প্রশ্নে উপাচার্য নিজেদেরকে সফলও দাবি করেন। বলেন, ‘এখন অনেক কাছে নিয়ে আসছি। এখন তো বলা হচ্ছে যে, ৯টা ১৭-১৮, আগে কখনো কখনো শুনতাম দুই দিন, এক দিন আগে। ক্রমান্বয়ে ক্লোজড করে ফেলতেছি।’

প্রশ্ন ফাঁসের দায় নিয়ে কর্তৃপক্ষের আরও পদত্যাগ না করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্ন শুনে ক্ষেপে যান উপাচার্য। প্রতিবেদককে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন?’

উপাচার্য বলেন, ‘আমরা এইবার নজিরবিহীন একটি কাজ করেছি সেটা হলো পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই অপরাধীদের আটক করেছি। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় অর্জন কারণ এর আগে অপরাধীদের এত তাড়াতাড়ি কেউ আটক করতে পারেনি।’

ঢাকাটাইমস/১৬অক্টোবর/এনএইচএস/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত