চাপের জন্য শরিকদের দায় দিচ্ছে বিএনপি!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ২০:৩৯ | প্রকাশিত : ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:৩৪
ফাইল ছবি

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আসা দুই দল ন্যাপ ও এনডিপি জানিয়েছে রাজনীতিতে চাপে পড়ার জন্য জোটের বৈঠকে শরিকদেরকে দায়ী করে বিএনপি।

সোমবার রাতে ২০ দলের জোটের বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে এমন কথাই জানানো হয় বলে জোট থেকে বের হয়ে আসা দুই দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

২০ দলীয় জোট ছাড়তে মঙ্গলবার ন্যাপ ও এনডিপির পক্ষ থেকে করা সংবাদ সম্মেলনে ন্যাপের সভাপতি জেবেল রহমান গানি জানান, সোমবার ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে বিএনপি নেতারা তাদেরকে বলার চেষ্টা করেছেন, বিএনপির ওপর যে ‘ঝড়’ তা কেবল ২০ দলীয় জোটের কারণেই সৃষ্টি হয়েছে। এই জোট না থাকলে তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ত না বিএনপি।

গানি বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমাদের কারণে কেউ চাপে থাকুক, সেটা আমরা প্রত্যাশা করি না। বিএনপিকে মনে রাখতে হবে, এই দলগুলো পাশে ছিল বলেই তাদের অনেক ব্যর্থতার কিছু দায়ভার জোট শরিকদের দিতে পারেন। না থাকলে তাও পারতেন না।’

 

বিএনপি আসলেই এই কথা বলেছে কি না, সে বিষয়ে জানতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনিও বলেন হ্যাঁ। তবে এই কথা কাদেরকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে, সেই বিষয়টি গানি বুঝেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকাটাইমসকে নজরুল বলেন, ‘আমরা তাদেরকে রাজনৈতিক দল এবং রাজনীতিবিদ হিসেবেই মনে করি। এই কথাটার মর্মার্থ তারা বুঝবে- এটা দিয়ে কোন দলেকে বোঝানো হয়েছে। নিশ্চয় তাদেরকে বুঝানো হয়নি।’

বিএনপি নেতা স্পষ্ট করে না বললেও এটা পরিস্কার যে, জামায়াতকে ঘিরেই এই কথাটি বলেছেন তারা। ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে জামায়াত, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি এবং ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয় বিএনপি।

২০০১ সালে এই জোট করে বাজিমাত করে বিএনপি। তবে পরে জামায়াতের কারণে নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হয় বিএনপিকে। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবি জোরাল হওয়ার পর নির্বাচনে তার প্রভাব পড়ে বলেই ধারণা করা হয়। আবার ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে এবং ২০১৫ সালে সরকার পতনের আন্দোলনে ব্যাপক নাশকতার পরও দেশে বিদেশে জবাবদিহি করতে হয় বিএনপিকে।

এবারও ‘জাতীয় ঐক্য’ গঠনের আলোচনায় বারবার উঠে এসেছে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত প্রসঙ্গ। তবে জামায়াত ২০ দলে থাকা অবস্থাকেই বিএনপির সঙ্গে ঐক্য গড়েছে ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া এবং জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য। আর এই ঐক্যে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের কী হবে- এই প্রশ্নের সুরাহা এখনও হয়নি।

সোমবার রাতে আগের জোটের শরিকদেরকে নিয়ে বসে বিএনপি। সেখানে শরিক দলগুলো বিএনপিকে যা যা প্রশ্ন রাখে তার সদুত্তর তারা পায়নি। যেমন তারা জানতে চেয়েছে, ঐক্যফ্রন্টের কর্মসূচিতে ২০ দলের কী ভূমিকা হবে। বিএনপি বলেছে, এগুলো পরে জানানো হবে।

আবার ঐক্যফ্রন্টে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেনকে দেখেও নাখোশ ২০ দলের শরিকরা। কেন বিএনপি তাকে নিতে গেল- এমন প্রশ্নও করেন জোটের শরিকরা। তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রশ্নকর্তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘এ নিয়ে এখন বাড়াবাড়ি কইরেন না। আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন করছি। এখন যে আসবে তাকেই স্বাগত জানানো হবে।’

ঢাকাটাইমস/১৬অক্টোবর/বিইউ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত