সাইপ্রাসে অবৈধ বাংলাদেশিদের দিনকাল

মাহাফুজুল হক চৌধুরী, সাইপ্রাস
 | প্রকাশিত : ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:৪৬

সাইপ্রাসে বর্তমানে অবৈধদের কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে সাইপ্রাসের পাশে তুর্কি সাইপ্রাস নামে যে দেশ আছে, সেখান থেকে গণহারে বর্ডার দিয়ে ইউরোপ-সাইপ্রাসে শতশত বাংলাদেশি, ইন্ডিয়ান এবং পাকিস্তানিদের অবৈধভাবে প্রবেশ করছে। এছাড়াও মাত্রাতিরিক্ত ইন্ডিয়ান, নেপাল থেকে স্টুডেন্ট  আসছে সাইপ্রাসে।

তুর্কি সাইপ্রাসটা হচ্ছে তুরস্কের সরকার নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সেখানে সবকিছুই চলে তুরস্কের নিয়মে।

তুর্কি সাইপ্রাসে যেসব বাংলাদেশি অসাধু দালালদের লোভে পড়ে সেখানে এসেছিল কিন্তু বাস্তবে তার চিত্র ভিন্ন। সেখানে যারা জব ভিসায় এসেছিল তাদের
তুরস্কের মুদ্রা লিরায় বেতন দেয়া হয় মাসিক ১৫০০-২২০০ লিরা। গত দুই বছর আগেও তুরস্কের লিরার মান ছিল প্রায় ২৮-৩২ টাকা। কেউ ২০০০ লিরা
বেতন পেলেও মাস শেষে খরচ বাদ দিয়ে কমপক্ষে ত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজার টাকা দেশে পাঠানো যেত। কিন্তু সাম্প্রতিক তুরস্ক তাদের মুদ্রার মান এতটাই
কমিয়ে দিয়েছে বর্তমানে তুরস্কের এক লিরায় বাংলাদেশি ১২-১৪ টাকায় নামিয়ে এনেছে। কিন্তু শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো হয়নি। এখন বেশিরভাগই
খরচ বাদ দিলে মাস শেষে ১৫ হাজার টাকাও টিকাতে পারছে না। সারা মাস কাজ করেও যদি মাস শেষে ১৫ হাজার টাকাও দেশে পাঠাতে না পারে, তাহলে সেখানে থেকেও আর লাভ কি!

তাই তারা সাইপ্রাস কাজ পাওয়া অনেক কঠিন জানা সত্বেও সাইপ্রাস ঢুকে পড়ছে। সাইপ্রাস ঢুকেই হয়ে যাচ্ছে অবৈধ। সাইপ্রাসে মোটামুটি কাজ থাকলেও বর্তমানে অবৈধদের কেউ সহজে কাজে নিচ্ছে না।

আর যারা তুর্কি হয়ে আসছে তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার কাজ পেয়েও টিকাতে পারছে না। তার প্রধান
কারণ হচ্ছে- তারা না জানে এইখানের গ্রিক ভাষা, না জানে কোন ইংলিশ। গুটি কয়েকজনে মাত্র কিছুটা ইংলিশ বলতে পারে।

সাইপ্রাসে বর্তমানে ফরেনার এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। যার কারণ এখন বাসা ভাড়াও আগের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। বাসা পাওয়াটাও অনেক কষ্টকর।
পারমেনেন্ট কাজ ছাড়া বর্তমানে সাইপ্রাসে থাকা খাওয়া এইটা টোটালি অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবৈধদের মধ্যে যারা পুরাতন লোক আছে তাদের তেমন একটা অসুবিধে নেই। পুরাতন হওয়ায়

তাদের কাজের তেমন অভাব হয় না। কারণ তারা ভাষা জানে, কাজ জানে এবং অনেক মালিকের সাথে সুসম্পর্ক ভাল থাকায় তারা কোনমতে ভালই চলছে। কিন্তু যেসব লোক বর্তমানে তুর্কি সাইপ্রাস হয়ে গ্রিক সাইপ্রাস ঢুকছে তাদের ভবিষ্যত এক প্রকার অন্ধই বলা চলে। আমার বোধগম্য হচ্ছে না তারা কাজকাম ছাড়া এইভাবে কতদিন চলতে পারবে। মোটকথা, সাইপ্রাসে এখন অবৈধরা টিকে থাকা চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাইপ্রাসে লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন নিয়ে এলেও

এ স্বপ্ন সবার কাছে বাস্তবে ধরা দেয় না। কারো কারো কাছে টিকে থাকাটাও দায় পড়ে যায়।

উল্লেখ্য, তুর্কি সাইপ্রাস থেকে যারা গ্রিক সাইপ্রাসে ঢুকছে তারা রিফিউজি হিসেবে সাইপ্রাস সরকারের কাছে যে আবেদন করে এসব রিফিউজি আবেদনগুলো নামেমাত্র।
বাস্তবে সাইপ্রাসে বাংলাদেশি কোন রিফিউজির ফাইল টিকে না। সব বাতিল করে দেয় সরকার।

(ঢাকাটাইমস/১৬অক্টোবর/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

প্রবাসের খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত